ঢাকা, সোমবার 4 June 2018, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বেনাপোল বন্দরে ভয়াবহ আগুন : কয়েক কোটি টাকার আমদানিকৃত মালামাল পুড়ে ছাই

বেনাপোল সংবাদদাতা : দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরের অভ্যন্তরে ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালে আগুন চার ঘন্টা চেষ্টার পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখানে ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্য নিয়ে ভারতীয় ট্রাক অবস্থান করে। পাশাপাশি ভারত থেকে বিভিন্ন যানবাহনের চেসিস ও তৈরি মোটর সাইকেল রাখা হয়। আর এক পাশে এসিড জাতীয় পদার্থ ছিল। টার্মিনালে আমদানি পণ্য আনলোড করতে ট্রাকগুলো অনেক সময় দুই সপ্তাহও অপেক্ষা করে। গত দুইদিন ভারতীয় ট্রাক ডাব্লিউ বি-২৩-৮১৭০ ও ডাব্লিউ বি- ২৩-৯১৫৫ নং গাড়ি দুটো ট্রাক টার্মিনালে থাকলেও ড্রাইভার ছিল না। ওই দুটি ট্রাক থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়ে পাশে থাকা আরো ৬ টি ট্রাক, ছোট ছোট ১৪/১৫ টি পিক আপ ভ্যান ও কমপ্লিট আমদানিকৃত প্রায় ৫০ টির মত মোটর সাইকেলের কার্টন পুড়ে ছাই হয়ে যায়। রোববার ভোর ৪টার দিকে আমদানিকৃত পণ্য বোঝাই একটি ভারতীয় ট্রাকে আগুন লাগে। এর পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য ট্রাকে। আগুনে ভারতীয় পণ্য বোঝাই ১০/১২ টি ট্রাক ও বেশ কিছু মোটর সাইকেল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। আগুনের খবর পেয়ে বন্দর পরিচালক আমিনুল ইসলাম, শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল, বন্দরের ডেপুটি পরিচালক রেজাউল করিম, পোর্ট থানা পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ঘটনা তদন্তে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয় বন্দর ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশের প্রধান এ স্থলবন্দরে এর আগেও ৮ বার আগুন লাগে। এর আগে ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর রবিবার ভোরে বন্দরের ২৩ নং শেডে আগুন লেগে শত কোটি টাকার পণ্য পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বন্দরের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিসে আগুন নেভানোর ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নেই বলে সবসময়ই তা ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া শুক্র ও শনিবার বন্ধ থাকায় ভারতীয় ট্রাক চালকরা ট্রাক রেখে ভারতে ফিরে যায়। ট্রাক চালকরা ঘটনাস্থলে থাকলে কিছু ট্রাক আগুনের হাত থেকে রক্ষা করা যেত। আগুন লাগার খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে শত শত লোক ছুটে আসে বন্দরে আগুননেভাতে। স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সাথে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। প্রায় ৪ ঘন্টা চেষ্টার পর ৬ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। আগুনে কয়েক কোটি টাকার ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্য সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পুড়ে যাওয়া মালামালের মধ্যে ছিল গাড়িসহ পেপার, তুলা, সুতা, মোটর সাইকেল, ব্লিচিং পাউডার,ভারতীয় ট্রাক ও পিকআপ গাড়ি।
এ বন্দরে এই অগ্নিকান্ড নিয়ে মোট ৮ বার এ ধরনের অগ্নিকান্ড ঘটেছে। এতে প্রায় সাড়ে ৩ শ’ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে যায়। যার কোন ক্ষতিপুরন আজোও পায়নি আমদানিকারকরা। বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরে রক্ষিত মালামালের কোন বীমা করেন না রহস্যজনক কারনে। বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত অগ্নিকান্ডে তদন্ত গঠিত হলেও রহস্যজনক ভাবে তা ধামাচাপা পড়ে যায়।
বন্দরের নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, সেহরির খাওয়ার পর পরই হঠাৎ করে বন্দরের ট্রাক টার্মিনালের অভ্যন্তরে ভারতীয় একটি পণ্য বোঝাই ট্রাকে আগুন ধরে যায়। পরে তা মুহুর্তে অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি বন্দর কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, বন্দরের অব্যবস্থাপনায় অগ্নিকান্ডের মূল কারণ। জায়গা বৃদ্ধি না করে ট্রাক টার্মিনালের মধ্যে গাদাগাদি করে মালামাল রাখায় একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। এছাড়াও বন্দরে যে কয়েকবার আগুন লেগেছে তা রবিবার ভোরে। এ বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
যশোর ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক পরিমল কুন্ডু বলেন, আমরা আমাদের সাধ্যমত ৪টি ইউনিট মিলে প্রায় ৪ ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হই।
 বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম জানান, অগ্নিকা-ের কারণ এখনো জানা যায়নি। আর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনই বলা সম্ভব নয়। আমদানিকৃত অনেক পণ্য এখানে রাখা ছিল। কাগজপত্র না দেখে এ বিষয়ে বলা যাবে না। ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করাহয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সব জানা যাবে। বেনাপোল বন্দর পরিচালক আমিনুল ইসলামকে প্রধান করে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে উপজেলা প্রশাসন, কাস্টমস, পোর্ট থানা, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি ও রয়েছে। তদন্ত কমিটি রোববার দুপুর থেকে তদন্ত শুরু করবেন বলে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ