ঢাকা, সোমবার 4 June 2018, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০ আহত ২০

সংগ্রাম ডেস্ক : গতকাল রোববার চারটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় বগুড়া শেরপুরে ৩ জন দিনমজুর নিহত ও একজন আহত, সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় কাভার্ড ভ্যান-ট্রাক সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও পাঁচজন আহত, শরীয়তপুরে ধানবাহী ট্রাক উল্টে ৩ কৃষক নিহত ও ৯ জন আহত এবং নেত্রকোনায় কাভার্ড ভ্যান-সিএনজি সংঘর্ষে একজন নিহত ও ৫ জন আহত হন বলে আমাদের সংবাদদাতারা জানান।
শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা : বগুড়ার শেরপুরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও  ১জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার উপজেলার ছোনকা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ৩ জনই দিনমজুর।
জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় রোববার আনুমানিক ভোর ৬টার সময় ৬জন দিনমজুর দলবেধে পার্শ্ববর্তি আম্বইলে ওয়েষ্টার্ন মিলে কাজের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে ছোনকা মজুমদার মোড়ে পৌছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বগুড়া গামী কাভার্ড ভ্যান (যার নং ঢাকা মেট্রো ম ১১-৪০০৮) তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই ৩ দিনমজুর মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন ছোনকা দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত শাবান আলীর ছেলে মহসিন আলী (৬০), মৃত ইমান আলীর ছেলে শাহ মাহমুদ (৫০) ও মৃত ইসমাইল হোসেন এর ছেলে সাদেক আলী (৫৫)। এ ঘটনায় আহত ইদ্রিস আলীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে পুলিশ কাভার্ড ভ্যানটি আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নিহতদের বাড়ীতে শোকের মাতম চলছে।
এ ব্যাপারে শেরপুর থানার ওসি তদন্ত বুলবুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় নিহতদের বাড়ী ওই এলাকায় হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে তারা লাশ নিয়ে গেছে। কেউ এখনো থানায় অভিযোগ দাখিল করেনি।
শেরুয়া বটতলা ফোর লেনের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
বগুড়ার শেরপুরে ঢাকা-বগুড়ার মহাসড়কের শেরুয়া বটতলা পালস জেনারেল হাসপাতাল হতে ধরমোকাম (হাওয়াখানা) পর্যন্ত রাস্তা সোজা রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছে সর্বস্তরের জনগণ ও এলাকাবাসী। গতকাল রোববার দুপুরে শেরুয়া বটতলা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে এলাকাবাসী মানববন্ধন করে।
মানববন্ধনকারীরা জানান, রাস্তাটি বাঁকা হওয়ার ফলে শেরুয়া বটতলা এলাকায় অহরহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনার কারণে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন যাবত সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষের নিকট রাস্তা সোজা করণের দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো কর্ণপাত করেননি। গত ২২ এপ্রিল ট্রাকের চাপায় শিশুর হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এলাকাবাসী জানান, মহাসড়কটি ফোরলেনের জন্য উন্নীত করা হলেও রাস্তাটি বাঁকা থেকে যাচ্ছে যা কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়। তাই রাস্তাটি সোজা করণের দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের জনগণ ও এলাকাবাসী। দেশের সব জায়গায় ফোরলেন রাস্তার বাঁক সোজা করা হলেও এখানে রাস্তাটি আরো বাঁকা করা হচ্ছে। ফলে এখানে আরো বেশি সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি প্রাণহানীর শংকা দেখা দেবে।
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের চলনবিলের সলঙ্গা থানার দাদপুর এলাকায়  কার্ভাড ভ্যান-ট্রাক মুখোমুখী সংঘর্ষে ৩জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায়  আরো ৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের রায়গঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, রোববার সকাল সাতটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার রাশিদুল (২৪), আলামিন (২০) ও আব্দুর রহমান (৩২)।
ফায়ার সার্ভিসের ডিএডি আব্দুল হামিদ জানান, ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী টিনবোঝাই একটি ট্রাক দাদপুর এলাকায় পৌছলে বিপরীত দিক থেকে আসা কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি যানবাহনই খাদে পড়ে। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলেই পৌছে পানির ভিতর থেকে টিন উদ্ধারের পরে ৩ জনের লাশ পাওয়া যায়। আহত ৩ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী জানান, নিহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিচয় পাওয়া গেলে তাদের স্বজনদের নিকট লাশ হস্তান্তর করা হবে।
শরীয়তপুর সংবাদদাতা : শরীয়তপুর পৌরসভার আটং বড়ব্রিজ এলাকায় একটি ধানবাহি ট্রাক উল্টে পাশবর্তী খালে পড়ে ঘটনাস্থলেই ৩জন ধানকাটা কৃষাণ নিহত হয়েছে। এ সময় ট্রাকে থাকা আরো ৯ জন ধান কাটার কৃষাণ গুরুতর আহত হয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং পালং মডেল থানা পুলিশ ট্রাক সরিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ট্রাকের নিচে পড়ে নিহত হলেন রহমত গাজি (৪০) তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার  চেচুয়া গ্রামে। নাঈম (২০) ও ইদ্রিস(৪৮) এর বাড়ি একই উপজেলার চেউটিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে একই উপজেলার কাপসন্ডা গ্রামের আমিন উদ্দিন সরদারের ছেলে ইসমাইল সরদার, খালিয়া গ্রামের গফুর গাজীর ছেলে রবিউল, আবু বকরের ছেলে হামিদ, মফিজ উদ্দিনের ছেলে মহসীন, রহমত গাজীর ছেলে মালেক, রবিউল গাজী, খায়রুল ইসলাম, মালেক সরদার, ও আ.আলিম। দুর্ঘটনার পর ট্রাক চালক ও তার সহযোগী পালিয়ে যায়।
আহত কিষাণ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ৪০ দিন পূর্বে সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলা থেকে ২০ জন কৃষাণের একটি দল শরীয়তপুরের পালং উপজেলার কানার বাজার ও নড়িয়া উপজেলার আচুড়া এলাকায় বোরো ধান কাটার জন্য আসে। ১৫ দিন পর ২০ জনের দল থেকে ৮ জন কৃষাণ সাতক্ষীরা চলে যায়। অবশিষ্ট ১২ জন কৃষাণের একটি দল দীর্ঘ ৪০ দিন ধান কাটা সম্পন্ন করে তাদের পারিশ্রমিকের ২’শ বস্তা ধান ট্রাকে নিয়ে সাতক্ষীরার উদ্দেশে রওয়ানা হয়। শরীয়তপুর পৌরসভার আটং বড়ব্রিজ এলাকায় গেলে নির্মাণাধিন রাস্তার পশ্চিম পাশের কাচা মাটিতে ট্রাকের চাকা দেবে ট্রাকটি উল্টে রাস্তার পশ্চিম পাশের খালে পড়ে যায়। এ সময় ৩ জন শ্রমিক ট্রাকের নীচে পড়ে আটকে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা  ট্রাক সরিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক নিয়াজ মাহমুদ জানায়, দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে রাত ১০টার দিকে তারা ঘটনাস্থলে পৌছে সর্বোচ্চ দক্ষতা, কৌশল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ট্রাকের নীচে আটকে পড়া ৩টি লাশ উদ্ধার করে।
নেত্রকোনা সংবাদদাতা জানান, নেত্রকোনায় কাভাট ভ্যান ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার দুপুরে এ সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে চল্লিশার নুরুলিয়া এলাকায় ।
জানা যায়, ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনাগামী যাত্রীবাহি সিএনজি ও নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহগামী একটি কভাট ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-অ-১১-৪৫১৪) নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চল্লিশার নুরুলিয়া এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই মাহমুদুল হাসান সুজন (২৫) মারা যান। গুরুত্বর আহত অবস্থায় পূর্বধলা রামকান্দা গ্রামের শাহ সুলতান (৩০),  পূর্বধলা ঘাগড়ার নুরুল ইসলাম (৪০), পূর্বধলা ঘাগড়ার বিল্লাল, নান্দাইল উপজেলা আচারগাওঁ গ্রামের আইনুল নাঈম আহমেদ, নেত্রকোনা শহরের সাতপাই এলাকার মৌ (১৮)কে আহত অবস্থায় নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মুুমূর্ষু অবস্থায় ময়মনসিংহ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বোরহান খান জানান, ঘটনাস্থল থেকে কভাট ভ্যানটি আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপরে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ