ঢাকা, সোমবার 4 June 2018, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রমযানের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি সম্ভব

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্মাদক লস্কর মোহাম্মদ তসলিম বলেছেন, আত্মশুদ্ধি ও আত্মগঠনের মাস পবিত্র মাহে রমযান। মু’মিনগণ যাতে আত্মসংযোমের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন করে তাকওয়া অর্জন করতে পারে এ জন্যই সিয়াম পালনকে প্রত্যেকের জন্য অত্যাবশ্যকীয় করে দেয়া হয়েছে। মূলত পবিত্র মাহে রমযানের প্রকৃত শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মু্িক্ত অর্জন করা সম্ভব। তিনি ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তাকওয়া অর্জনে আত্মনিয়োগ করতে সকল শ্রেণির শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
গত শনিবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ঢাকা মহানগরী হিউম্যান হলার শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়ন আয়োজিত পরিবহণ শ্রমিকদের দায়িত্বশীলদের নিয়ে কর্মশালা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি  ও ঢাকা মহানগরী হিউম্যান হলার শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়নের সভাপতি এইচ এম আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সাধারণ সম্পাদক কবির আহমদ। উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা নূরুল আমীন, রুহুল আমীন  ও নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
লস্কর তসলিম বলেন, শ্রমিক সমাজ জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অসামান্য অবদান রাখেলেও তারা সব সময়ই অধিকার বঞ্চিত থেকেছে। তাদেরকে এখনো তাদের নায্য অধিকার দেয়া হয় না। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর শ্রমিকদেরকে যে মজুরী দেয়া হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্ত অপ্রতুল। তাই শ্রমিক সমাজকে নানা প্রতিকুলতা মোকাবিলা করেই জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়। অতীব পরিতাপের বিষয় যে, শ্রমিকদেরকে অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লাগানো হলেও তাদেরকে ঝুঁকি ভাতাও প্রদান করা হয় না। একইভাবে হিউম্যান হলার শ্রমিকরাও নানা ভাবে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কিন্তু এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর কোন ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম বন্ধ, কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের সমঅধিকার অর্থ্যাৎ সমকাজে সমমজুরী এবং নিরাপত্তা প্রদান, রানাপ্লাজা ও তাজরীনসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের জোর দাবি জানান।
তিনি বলেন, বিশ্ব সভ্যতা বির্নিমাণে প্রতিটি ধাপে শ্রমজীবি মানুষের ঘাম ও শ্রম মিশে আছে। অতীতে বহু সরকার শ্রমজীবি মানুষের ক্ষমতার সিঁড়ি হিসাবে ব্যবহার করে ক্ষমতায় গেলেও শ্রমজীবি মানুষের প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠায় কোন ভূমিকা রাখেনি বরং ক্ষেত্র বিশেষে শ্রমিক সমাজ তাদের দ্বরা নিগ্রহের শিকার হয়েছে। বড় বড় দলগুলো শ্রমিক দিবসের ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে শ্রমিকদের নিজের পক্ষে টেনে হীন স্বার্থ উদ্ধার করতে চায়। আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর দেয়া শ্রমনীতি “শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগে তার মজুরী দিয়ে দাও।” তাই শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ন্যায়-ইনসাফভিত্তক ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। তিনি শ্রমিকদের নায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় শ্রমিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ