ঢাকা, সোমবার 4 June 2018, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব

খুলনা অফিস : খুলনায় আবারও নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার বেড়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ শপিং মল, মাছ-গোশত, কাঁচা বাজার, বইয়ের  দোকান, হোটেল রেস্টুরেন্ট সর্বত্র নিষিদ্ধ এ ব্যাগের আধিপত্য। ফলে পলিথিনের স্তুপ জমে নগরীর ড্রেনগুলোতে দুর্গন্ধ ও পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির দু’টি সভায় নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও দৃশ্যমান তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
সরেজমিনে মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে দেদারছে চলছে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার। নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় হাফিজ নগরে ও খালিশপুরের গোয়ালখালি এবং রূপসার লবণচরা এলাকায় একাধিক নিষিদ্ধ পলিথিনের কারখানার অস্তিত্ব রয়েছে। লবণচরা এলাকায় তুষার রুহানি ও ফাস্ট ট্রেড নামে দু’জন কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে এর আগে অভিযান পরিচালনা করা হলেও এখনও সেখানে পলিথিন এর উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ব্যাংক কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল হক বলেন, আমরা চাইনা পরিবেশের ক্ষতি করে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার করতে। কোন কিছু কিনতে গেলে দোকানীরাই পলিথিনে মালামাল দেয়, তখন কিছুই করার থাকে না।
পরিবেশ অধিদফতরের সূত্র মতে, ১৯৮২ সালে বাংলাদেশে পলিথিন বাজারজাত ও ব্যবহার শুরু। পলিথিন গলে না, মেশে না, পচে না। ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৬ (ক) (সংশোধিত ২০০২) ধারা অনুযায়ী, ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা শহরে এবং একই বছরের ১ মার্চ বাংলাদেশে পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়। আইন অমান্যকারীর জন্য ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বাজারজাত করলে ছয় মাসের জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা।
চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে ঐ মাসে নগরীর লবণচরা এলাকায় দু’টি কারখানায় ও বড় বাজারে একটি মোকামে অভিযান বাদে তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)’র খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন, বর্তমানে বাজারে খোলামলোভাবে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার উদ্বেগজনকহারে বেড়েছে। বিক্রেতাদের সাথে সচেতন ক্রেতারাও পলিথিনে মালামাল গ্রহণ করছে। সাধারণ মানুষ নিষিদ্ধ এ পলিথিন যাতে ব্যবহার না করে এজন্য পরিবেশগত ক্ষতির দিক তুলে ধরে প্রচারণার অভাবকেও দায়ি করেন তিনি। এছাড়া নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে তিনি জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় পরিচালক হাবিবুল হক খান বলেন, পলিথিনের ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জনবলের অভাবের কারণে একই সাথে নগরীর সকল স্থানে অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। তবে খুব শিগগিরই আরও ব্যাপক ভাবে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যাপারে অভিযান চালানো হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ