ঢাকা, সোমবার 4 June 2018, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি : উপকূলীয় দ্বীপ ও চরাঞ্চল সর্বাধিক ঝুঁকিতে

আখতার হামিদ খান : তাপমাত্রা বা উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় পাল্টে যাচ্ছে বিশ্বের আবহমান জলবায়ু, ঘটছে সমুদ্রের জলস্ফীতি। এবং যার অনিবার্য প্রভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে নানাবিধ দুর্যোগ আর অস্বাভাবিক ঘটনা। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, পানির অভাবে ভরা মওসুমে পাট বীজ বুনতে পারছে না রাজশাহীর কৃষকেরা।
এ বছর ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল রাজশাহীতে কোনও বৃষ্টি হয়নি বলে স্বানীয় আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আশানুরূপ বৃষ্টি না হলে এ জেলায় এ বছর পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বছর মার্চ মাসেও রাজশাহীসহ সারা দেশে মাত্র ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল, যা নিতান্তই অস্বাভাবিক। বাংলাদেশের  প্রচলিত জলবায়ু বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মার্চ মাসে দেশের ৬টি বিভাগের সম্মিলিত গড় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হচ্ছে ৩৪৮ মিলিমিটার। অথচ ২০০৬-এর মার্চ মাসে বৃষ্টিপাত হয়েছিল স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৯৪% কম। আবহাওয়ার পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৪৮ সালের পর দেশে মার্চ মাসে সারা দেশে বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে প্রবল বর্ষণ ঘটতে দেখা গেছে। গত দেড় দশকের অভিজ্ঞতা এবং বৃষ্টিপাতের রেকর্ড থেকে দেখা যাচ্ছে যে পুরনো জলবায়ু রীতি অনুযায়ী জুলাই-আগস্ট (ভাদ্র-অশ্বিন) মাসে বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে কমে যাচ্চে। সেই তুলনায় মৌসুমের শুরুতে (জুন-জুলাই) বা মৌসুমের শেষদিকে  (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) মাসে এসে অতিবৃষ্টির প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। এই অস্বাভাবিকতা এটাই প্রমাণে সহায়তা করে যে বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে এবং এই পরিবর্তন পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
বাংলাদেশে ১৯৯৮ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যা, ২০০৩ সালে ফ্রান্সসহ ইউরোপের নজিরবিহীন দাবদাহবা ২০০৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আঘাতহানা ঘূর্ণিঝড়-সব কিছুর জন্যেই বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে কোনও না কোনওভাবে দায়ী করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন মডেলের সাহায্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন যে, গ্রিনহাউস গ্যাসে রস নির্গমন বর্তমানভাবে চলতে থাকলে বর্তমান শতকের শেষে বায়ুম-লে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ শিল্পবিপ্লবের পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় ৭৫ থেকে ৩৫০ শতাংশ বেশিতে গিয়ে দাঁড়াবে। আর গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ যত বৃদ্ধি পাবে বিশ্বের বায়ুমন্ডল ততোই উষ্ণ হয়ে উঠবে, যার অবশ্যম্ভাবী প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আরও বৃদ্ধি পাবে, জলবায়ু পরিবর্তনের গতিও দ্রুততর হবে।
আইপিসিসি’র ৪র্থ প্রতিবেদন: গত ২ ফেব্রুয়ারি প্যারিসে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্ত:রাষ্ট্রীয় প্যানেল এর ১ম ওয়ার্কিং গ্রুপের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। বিশ্বের ১৩০টি দেশের ৮০০’র বেশি গবেষকের তৈরি আড়াই হাজারের বেশি রিপোর্ট প্রায় ৪৫০ জন প্রধান গবেষক পর্যালোচনা করে এই বিশাল রিপোর্টটি তৈরি করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ‘ভৌত বিজ্ঞান ভিত্তিক’ এই রিপোর্টে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাসগুলো মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধিকে দায়ী করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং মিথেনের এমন বৃদ্ধি গত সাড়ে ছয় লাখ বছরে দেখা যায়নি। এর মধ্যে গত এক দশকে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস বছরে ১.৯ পিপিএম হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বায়ুমন্ডলে এই গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির মাত্রা এমন অভাবনীয় বৃদ্ধির কারণে ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ১২ বছরের মধ্যে ১১ বছরই ছিল ১৯৫০ সালের পর থেকে সবচেয়ে উষ্ণ বছর। কাজেই এখন থেকেই দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে এই শতাব্দির মধ্যেই প্রবলতার জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মুখে আমাদের পড়তে হবে। আর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃষ্টির  কারণে সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় পড়বে ছোট ছোট দ্বীপদেশগুলো এবং বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশসমূহ। সবচেয়ে কম পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিগর্মন করেও এই সব দেশ জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্ত:রাষ্ট্রীয় প্যানেল ২য় ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৪০০ পৃষ্ঠার মূল্যায়ন প্রকাশিত হয় গত ৬ এপ্রিল বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে। এই গ্রুপের মূল্যায়নের বিষয়বস্তু ছিল পরিবেশ ও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের কী প্রভাব পড়ছে বা পড়তে পারে এবং এর ফলে মানুষের জীবনধারণের ক্ষেত্রে যেসব ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে সেগুলো মোকাবেলার উপায় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেয়া।
২য় ওয়ার্কিং গ্রুপের এই রিপোর্টে আশঙ্কা করা হয়েছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কালে সবগুলো মহাদেশে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হবে মারাত্মক। বায়ুমন্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর পরিমাণ বৃদ্ধিজনিত প্রতিক্রিয়ায় সংঘটিত বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের ধরন পাল্টে যাবে এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা প্রভৃতির শক্তি বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে তীরবর্তী অঞ্চলগুলো ক্রমাগত সমুদ্রে ডুবে যেতে থাকবে।
বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি: আইপিসিসি’র রিপোর্টে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে যে, এশিয়ার দেশগুলোর জন্য জলবায়ু পরিবর্তন এক বড় ধরনের হুমকি হয়ে দেখা দেবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এই মহাদেশের ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ নানাবিধ সংকটে নিমজ্জিত হবেন। এই রিপোর্টে বলা হয় ২০৫০ সাল নাগাদ এশিয়ার প্রায় ১০০ কোটি মানুষ তীব্র পানি সংকটের মুখে পড়বে। হিমালয়ের বেশ কিছ হিমবাহ বছরে ৩৩ থেকে ৪৯ ফুট পর্যন্ত হারে গলে যাওয়ার কারণে চীনের ইয়াংসি, চীন ও ভিয়েতনামের রেড রিভার এবং ভারত-বাংলাদেশের গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় প্রথম কয়েক দশক বন্যার তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু পরবর্তী সমযে তা তীব্র পানি সংকটের জন্ম দেবে। বিশেষ করে নদ-নদীতে পানির প্রবাহ কমে গেলে সেচ, শিল্প ও নগরায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পানির যোগান দেয়া দুস্কর হয়ে উঠবে। বর্তমানে ভারতে মাথাপিছু পানি প্রাপ্যতা ১৯০০ ঘন মিটার হলেও ২০২৫ সাল নাগাদ তা কমে মাথাপিছু মাত্র ১০০০ ঘন মিটার এ এসে দাঁড়াবে। আর বাংলাদেশের মতো ভাটির দেশ বর্ষায়, বন্যা আর শুকনো মৌসুমে তীব্র খরার মুখে পড়বে। এর ফলে এ সময়ে দক্ষিণ-এশিয়ার কোনও কোনও অঞ্চলে শস্য উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে।
আর উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ার সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধিস হচ্ছে বাংলাদেশের মতো উপকূলবর্তী দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় দু:সংবাদ। আইপিসিসি’র রিপোর্টে বলা হয়েছে,স গত শতাব্দিতে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বেড়েছে দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমান শতাব্দিতে তাপমাত্রা আরও এক দশমিক ৮ থেকে ৪ ডিগ্রি পর্যণÍ বাড়তে পারে। কিন্তু দশমিক ৫ থেকে ২ ডিগ্রির মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলেই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বেস ১০ থেকে ৪৫ সেন্টিমিটার। এর ফলে বাংলাদেশের ১৫ শতাংশ এলাকা (প্রায় ৭৫০ বর্গকিলোমিটার ভূমি) সমুদ্রের পানিতে তলিযে যাবে, উদ্বাস্তু হবে প্রায় ২ কোটি মানুষ। সমুদ্রের পানির উচ্চতা যদি ৪৫ সেন্টিমিটার বাড়ে তাহলে সুন্দরবনের ৭৫ শতাংশ এলাকাই সমুদ্রের নোনা পানিতে ডুবে যাবে। আর ৬৭ সেন্টিমিটার বাড়লে গোটা সুন্দরবনই তলিয়ে যাবে পানিতে। আইপিসিসি’র অনুমান আগামী ৫০ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের সুন্দরবনের পুরোটা তলিযে যেতে পারে।
তলিয়ে যাচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চল: সার্ক জলবায়ু গবেষণা কেন্দ্র (এসএমআরসি)’র সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে দেখা গেছে বাংলাদেশ উপকূলের বিভিন্ন স্থানে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রতিবছর উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। পূর্বদিকে কক্সবাজারে সমুদ্রপৃষ্ঠে বছরে ৭ দশমিক ৮ মিলিমিটার, মধ্যভাগে হাতিয়ার চর মঙ্গায় বছরে প্রায় ৬ মিলিমিটার এবং পশ্চিমদিকে সুন্দরবন সংলগ্ন হিরন পয়েন্টে বছরে প্রায় ৪ মিলিমিটার করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার সাধারণত শীত মৌসুমেই, অর্থাৎ অক্টোবর থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে বেশি হয়ে থাকে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির এই হার অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সাল পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে না, তার আগেই জীববৈচিত্র্যের অন্যতম আধার ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ সুন্দরবনসহ কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত সমুদ্রে হারিয়ে যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে অবস্থিত ‘লোহাচরা’ ও ‘সুপারিভাঙ্গা’ নামের দুটি দ্বীপ সমুদ্রে হারিয়ে গিয়েছে। কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিদ্যা বিভাগের প্রধান ড. সুজাতা হাজরা’র গবেষণায় দেখা গেছে ভারতীয় সুন্দরবন অংশের মানববসতিহীন ‘সুপারিভাঙ্গা’ এবং কমপক্ষে দশ হাজার লোকের বাসভূমি ‘লোহাচরা’ দ্বীপ দুটি গত কয়েকবছরে বিলীন হয়ে গিয়েছে।
উপকূলীয় দ্বীপ ও চরাঞ্চল সর্বাধিক ঝুঁকিতে: PDO-ICZMP দ্বীপ ও চরাঞ্চল বিষয়ে সমীক্ষা পরিচালনা করে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এবং বড় নদীর মোহনায় মোট ২৫২ টি চর এবং দ্বীপাঞ্চলকে নথিভুক্ত করেছে। এর মধ্যে সমুদ্রে কিন্তু ভূমি সংলগ্ন ১৯টি ও গভীর সমুদ্রে রয়েছে ৭৬টি দ্বীপ। নদীতে ১৯টি চর গভীরে অবস্থিত। আর ৯২টি ভূমি-সংলগ্ন। এছাড়াও মোহনায় ৩৩টি এবং মোহনায় কিন্তু ভূমি সংলগ্ন চর বা দ্বীপের সংখ্যা ১১টি। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় তিনটি ভোলা, হাতিয়া সন্দ্বীপ। এসব দ্বীপ ও চরের আয়তন ২ থেকে ৭৭০০০ হেক্টরের মধ্যে সীমিত। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদীবাহিত পলিতে এসব চর ও দ্বীপ গড়ে ওঠায় মোহনায় এদের সংখ্যা বেশি। পলি সঞ্চয়ন বা নতুন করে ভূমি গড়ে ওঠার প্রক্রিয়ার তুলনায় সমুদ্রে পানি স্ফীতি বেশি হলে এসব দ্বীপ বা চরাঞ্চল ধীরে ধীরে তালিয়ে যাবে। একটি সক্রিয় বদ্বীপ এলাকায অবস্থিত হওয়ার কারণে উপকূলীয় দ্বীপসমূহ কিছুদিন পরপরই তাদের আকার ও আকৃতি পরিবর্তন করে। ২০০১ সালের হিসেবে সমগ্র উপকূলীয়-অঞ্চলের জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৫১ লাখ, সেখানে এই দ্বীপাঞ্চলগুলোতে বসবাস করে প্রায় ৬ লাখ অধিবাসী। পৃথিবীর তাপমাত্রার বৃদ্ধির কারণে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের স্ফীতির কারণে সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসীরা আজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। এসব অঞ্চলের মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই ভঙ্গুর।
উপকূলীয় অঞ্চলের ভৌত নিরাপত্তা: উপকূলীয় অঞ্চলকে জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ত পানির আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে গত শতকের ৬০’র দশকে টেকনাফ থেকে সুন্দরবনের প্রান্ত পর্যন্ত তটরেখা বরাবর প্রায় ৫১০৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ এবং ১২৩টি পোল্ডার নির্মাণ করা হয়। কিন্তু উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে এ উপকূলীয় বাঁধগুলো আর আগের মতো কার্যকরী নেই। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে একদিকে যেমন বাইরের অংশে ক্রমাগত পলি পড়ে বাঁধগুলো কার্যকরী উচ্চতা হ্রাস পলি পড়ে বাঁধগুলোর কার্যকরী উচ্চতা হ্রাস করে দিচ্ছে অন্যদিকে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার পথ না পেয়ে পোল্ডারের ভেতরের অংশে সৃষ্টি করেছে জলাবদ্ধতা। এসব কারণে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের স্ফীতির মিলিত প্রতিক্রিয়ার মুখে এ বাঁধগুলোকে আর কার্যকরী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এছাড়া উপকূলীয় চর ও দ্বীপের মাত্র অর্ধেকের জন্য কোনওরকম রক্ষা বাঁধ আছে, অন্যদের তাও নেই। যে কারণে এসব দ্বীপ ও চরগুলো সর্বাধিক ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়াও শুধুমাত্র ঘূর্ণিঝড় প্রতিরোধের জন্য উপকূলীয় অঞ্চলের ১৯টি জেলার মধ্যে ১৫টি জেলাতে মোট ২১৩৩টি আশ্রয়কেন্দ্র কাগজে-কলমে রয়েছে। এ ছাড়াও এসব আশ্রয় কেন্দ্র দুর্গম এলাকাগুলো থেকে দূরে অবস্থিত হওয়ায় তেমন কোনও কার্যকর ফলদানে সমর্থ হয় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ