ঢাকা, সোমবার 4 June 2018, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৮ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শামুক ও ঝিনুকের অভাবে চুণী সম্প্রদায়ের দুর্দিন যাচ্ছে

শামুক ও ঝিনুকের দুষ্প্রাপ্যতা, অর্থাভাবে ক্রয় করতে না পারাসহ চুনের দাম কম হওয়ায় কুষ্টিয়ায় চুন তৈরির পেশায় জড়িত চুনী সম্প্রদায়ের দুর্দিন চলছে। চুন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পারায় ক্রমেই বাপ-দাদার এ পেশা ছেড়ে তারা অন্য পেশায় জড়িয়ে পরছেন। চুণীপাড়া বলে খ্যাত কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চুনিয়াপাড়া ও দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের আংদিয়া গ্রামে গিয়ে ওই পল্লীর বাসিন্দাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে এ পল্লীতে প্রায় অর্ধশত পরিবার বাপ-দাদার চুনী পেশাকে আকঁরে ছিলেন। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও অর্ধশত পরিবার এ পেশার সাথে জড়িত রয়েছেন। এরা সবাই চুন তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। আংদিয়া চুণী পাড়ার বাসিন্দা সূর্যকান্ত বিশ্বাস জানান, বর্তমানে অর্থ ও কাঁচামালের অভাবে চুন তৈরি করতে না পেরে তাদের চুণী পল্লীর প্রত্যেকটি পরিবার স্ত্রী, পরিজন নিয়ে অর্থাভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেক পরিবার অর্থাভাবে তাদের ছেলে- মেয়েদের পড়াশুনা বন্ধ করে দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ওই পাড়ার অপর বাসিন্দা তপন বিশ্বাস জানান, একসময় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলার এলাকার নদী-নালা, খাল-বিলে ও পুকুরে প্রচুর পরিমানে শামুক ও ঝিনুক পাওয়া যেতো। ওই সব স্থান থেকে শামুক সংগ্রহ করে চুন তৈরি করা হতো। এখন আর সেই আগের মতো শামুক ও ঝিনুক পাওয়া যায় না। তিনি আরো জানান, ৪০ কেজি শামুক পোড়াতে দেড় মন জ্বালানী কাঠ (খড়ি) প্রয়োজন। এ পোড়া শামুক একটি পাঁকা করা গর্তে রেখে বাঁশের ও কাঠের গাইনের সাহায্যে চুর্ণ করে পরিমান মতো পানি দিয়ে চুন তৈরি করা হয়। এক মন চুন তৈরি করতে দু’জন শ্রমিকের ৬ ঘন্টা সময় লাগে। প্রতিমন চুন বিক্রি করলে তাদের লাভ হয় ৮০ থেকে ৯০ টাকা। বর্তমানে বিভিন্ন মৎস্য ঘেরে শামুক নেয়ায় চুণীদের শামুক সংকটে পড়তে হয়। যা পাওয়া যায় তাও চড়ামূল্যে ক্রয় করতে হয় বলেও তিনি জানান। চুণীপাড়ার সূর্যকান্ত জানান, ৩ কেজি শামুক পোড়ালে ১ কেজি গুড়া চুন ও পানি চুন করা হলে ৫ কেজি হয়। এক কেজি গুড়া চুন ২০ টাকায় ও পানি চুন ১০ টাকায় বিক্রি করা হয়। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, চুন তৈরি এখন আর আমাদের সংসার চলে না। আমাদের পাড়ার অনেকেই বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য কাজ করছে। আগে আমাদের বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন দিতো। পেশার স্থায়ীত্ব না থাকায় এখন আমাদের আর লোন দেয় না। তিনি আরো জানান, আগে যত্রতত্র স্থানেও শামুক পাওয়া যেত। আর এখন প্রতিবস্তা শামুক ৪ থেকে সাড়ে ৪ ’শ টাকায় ক্রয় করতে হয়। চড়ামূল্য থাকা সত্বেও অর্থাভাবে তারা শামুক ও ঝিনুক ক্রয় করতে না পারায় চুন তৈরি করতে পারছেন না। তাই চুণী পল্লীর বাসিন্দারা তাদের এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য সরকারি সহযোগীতা কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ