ঢাকা, মঙ্গলবার 5 June 2018, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৯ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গুয়াতেমালায় অগ্নুৎপাতে নিহত ২৫

ফুয়েনো আগ্নেংয়গিরির থেকে কালো ধোঁয়া ও ছাই উদ্গীরিত হচ্ছে             -ছবি গুয়েতেমালা সরকার

৪ জুন, বিবিসি : গুয়াতেমালার ফুয়েগো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে অন্তত ২৫ জন নিহত ও প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

দেশটির রাজধানী গুয়াতেমালা সিটির প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের ওই আগ্নেয়গিরিটি থেকে কালো ধোঁয়া ও ছাই উদগীরণ হচ্ছে।

গুয়াতেমালার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (কনরেড) জানিয়েছে, লাভার একটি স্রোত এল রোদেও গ্রামের ঘরবাড়ি ধ্বংস করে ভিতরে থাকা লোকজনকে দগ্ধ করেছে। আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে গুয়াতেমালা সিটির লা অরোরা বিমানবন্দর বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট জিমি মোরালেস।

“অন্তত তিনটি এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছি আমরা,” বলেছেন তিনি।

স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী ১৯৭৪ সালের পর দেশটিতে এটিই সবচেয়ে বড় অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা।

কনরেডের প্রধান সের্হিও কাবানিয়াস স্থানীয় রেডিও স্টেশনকে জানিয়েছেন, লাভার একটি নদী এল রোদেওর দিকে দিক পরিবর্তন করে।

“এটি লাভার একটি নদী, এটি উপচে পড়ে এল রোদেও গ্রামকে আক্রান্ত করেছে। এখানে অনেকে আহত হয়েছেন, দগ্ধ হয়েছেন এবং মারা গেছেন।

“দুর্ভাগ্যজনকভাবে এল রোদেও গ্রামটি লাভার নিচে চাপা পড়েছে আর লাভার কারণে আমরা লা লিবার্তাদ গ্রামেও পৌঁছতে পারছি না, সম্ভবত ওখানেও লোকজন মারা পড়েছে।”

কাবানিয়াস পরে জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে তার সংস্থার এক কর্মীও রয়েছেন।

মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকটি শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ছাইয়ে ঢাকা লোকজনকে শুশ্রুষা করছেন উদ্ধারকারীরা।

দিয়ারিও দে সেন্ত্রোআমেরিকাকে এক নারী জানিয়েছেন, লাভা ভূট্টার খেতগুলো ঢেকে দিয়েছে এবং তার ধারণা আরও বহু লোক মারা গেছেন।

“সবাই পালাতে পারেনি, আমার ধারণা তারা চাপা পড়েছে,” বলেছেন কনসুয়েলো হার্নান্দেজ।

এই অগ্ন্যুৎপাতে প্রায় ১৭ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গুয়াতেমালা সরকার।

ঝড়ে পড়া ছাই থেকে রক্ষা পেতে নাগরিকদের মুখোশ পরার পরামর্শ দিয়েছেন কর্মকর্তারা। দেশটির চারটি প্রশাসনিক এলাকায় এ ধরনের ছাই ঝরে পড়ছে বলে খবর গণমাধ্যমের।

রাজধানী একটি অংশেও ছাই ঝড়ে পড়ছে এবং এ জন্য বাতাসের দিক পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র।

গুয়াতেমালার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে তারা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে সহায়তা করছে এবং লা অরোরা বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে আগ্নেয়গিরির ছাই পরিষ্কারে কাজ করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ