ঢাকা, মঙ্গলবার 5 June 2018, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৯ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আফগানিস্তানের কাছে প্রথম ম্যাচেই হারল বাংলাদেশ

 

 

স্পোর্টস রিপোর্টার : ভারতের দেরাদুনে টি-টোয়েন্টি সিরিজে জয় দিয়ে শুরু করতে পারেনি বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের কাছে প্রথম ম্যাচেই হারল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ৪৫ রানে হারিয়ে জয় দিয়ে শুরু করেছে আফগানিস্তান। ফলে তিন ম্যাচ সিরিজে  ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল আফগানররা। আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৭ রান করে আফগানিস্তান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১২২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ফলে প্রথম ম্যাচেই আফগানিস্তান জয় পায় ৪৫ রানে। আজ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। একই ম্যাচে একই সময় (রাত সাড়ে আটটা) শুরু হবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি। প্রথম ম্যাচে হারায় সিরিজে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। ফলে আজকের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য সিরিজে টিকে থাকার ম্যাচ। আজ হারলেই একম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিশ্চিত করবে আফগানিস্তান। ফলে এই ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প নেই সাকিবদের সামনে। অবশ্য সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে ভালো অবস্থানে আছে আফগানরা। প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় মানসিক ভাবে এগিয়ে আছে দলটি। ফলে আজ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করতেই মাঠে নাবে আফগানিস্তান। তবে প্রথম ম্যাচে হেরে মানসিক ভাবে একটু পিছিয়ে থাকলেও আজ জয়ের জন্যই মাঠে নাবে বাংলাদেশ। তবে এই ম্যাচে জয় পাওয়াটা যে কোন দলের জন্যই কঠিন হবে।

 টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। আর প্রথমে ব্যাট করার সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগান আফগানিস্তানের দুই ওপেনার উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ  শেহজাদ ও উসমান গনি। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে ৪৪ রান যোগ করে তারা বড় স্কোর গড়ার সুযোগ করে দেয় দলকে। এরপর জুটিতে অর্ধশতকও পূর্ণ করেন শেহজাদ ও গনি।  শেষ পর্যন্ত দলীয় ৬২ রানে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ২৬ রানে থাকা গনিকে বোল্ড করেন বাংলাদেশের  পেসার রুবেল হোসেন। অষ্টম ওভারের তৃতীয় বলে প্রথম উইকেট পতনের পর শেহজাদের সাথে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক আসগর স্টানিকজাই। রানের গতি ধরে রেখেছিলেন তারাও। তবে এই জুটিকে বেশি দূর যেতে দেননি সাকিব। ৩৭ বলে ৪০ রান করা  শেহজাদকে বিদায় দেন তিনি। দলীয় ৮৬ রানে আফগানিস্তানের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেয়ার পর প্রথমবারের মতো সহ-অধিনায়ক রিয়াদের হাতে বল তুলে দেন সাকিব। নিজের প্রথম ওভারেই চমক  দেখান মাহমুদুল্লাহ। নিজের ওভারের দ্বিতীয় ও পঞ্চম বলে দু’টি উইকেট তুলে নেন তিনি। নাজিবুল্লাহ জাদরান ২ ও মোহাম্মদ নবী শূন্য রান করে ফিরেন। ফলে ৯১ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। কিন্তু পরবর্তীতে চার-ছক্কায় দলের রানের গতি বাড়ান সামিউল্লাহ শেনওয়ারি, শফিকুল্লাহ ও স্টানিকজাই। শেনওয়ারি ৩টি করে চার ও ছক্কায় ১৮ বলে ৩৬, শফিকুল্লাহ ৩টি ছক্কা ও ১টি চারে বলে ২৪ রান করেন। এ ছাড়া স্টানিকজাই ২৪ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলেন। শেষদিকে ১টি ছক্কায় ২ বলে ৬ রান তুলে বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জিং টার্গেট দেন লেগ-স্পিনার রশিদ খান। বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন আবুল হাসান ও মাহমুদুল্লাহ। এ ছাড়া ১টি করে উইকেট নেন আবু জায়েদ, রুবেল হোসেন ও সাকিব। জয়ের জন্য ১৬৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ দলের শুরুটা কিন্তু ভালো হয়নি। ইনিংসের প্রথম বলেই বিদায় নেন ওপেনার তামিম ইকবাল। ডান-হাতি অফ-স্পিনার মুজিব উর রহমানের বলে লেগ বিফোর হন তামিম। 

তামিমের বিদায়ে তিন নম্বরে ব্যাট হাতে নামেন সাকিব। তবে ওপেনার লিটন দাসকে নিয়ে বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি সাকিব। ২টি চারে ১৫ বলে ১৫ রান করেন সাকিব। ২১ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর শক্ত হাতে দলের হাল ধরেন লিটন ও উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম। দ্রুত গতিতে রান তুলেন দু’জনে। ফলে ৮ ওভারেই ৬৪ রানে পৌছে যায় বাংলাদেশের স্কোর। কিন্তু বাংলাদেশ শিবিরে দ্বিতীয়বারের মত আঘাত হেনে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে মোহাম্মদ নবী। ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২০ বলে ৩০ রান কওে বিদায় নেন লিটন। ২৬ বলে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৪৩ রান যোগ করেন লিটন ও মুশফিকুর। এরপর ১০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ৮০ রান তুলে লড়াইয়ে ছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু ১১তম ওভারে বল হাতে আক্রমনে এসেই বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলেন এক নম্বর বোলার রশিদ খান। ঐ ওভারের প্রথম ডেলিভারিতে মুশফিকুরকে ও পরের ডেলিভারিতে সাব্বির রহমানকে বিদায় দিয়ে হ্যাট্টিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন রশিদ। কিন্তু কাঙ্খিত হ্যাট্টিকের দেখা পাননি রশিদ। মুশফিকুর ২০ ও সাব্বির শুন্য রানে ফিরেন। ফলে ৫ উইকেটে ৭৯ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ। পরের কোন ব্যাটসম্যানই বাংলাদেশকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পারেননি।  শেষ পর্যন্ত ৬ বল বাকী থাকতে ১২২ রানে গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ২৯ ও মোসাদ্দেক হোসেন ১৪ রান করেন। আফগানিস্তানের শাপুর জাদরান ও রশিদ ৩টি করে উইকেট নেন। আজ ৫ জুন একই  ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ