ঢাকা, মঙ্গলবার 5 June 2018, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৯ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ক্যাম্পাসগুলোকে কি মাদকমুক্ত করা যায় না?

দেশে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। কিন্তু দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠগুলোর আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসগুলোকে মাদকমুক্ত করার তেমন কোন প্রয়াস লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ‘হাত বাড়ালেই ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে মাদক’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন মুদ্রিত হয়েছে পত্রিকান্তরে। ৪ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে মাদকের অভয়াশ্রম নিয়ে নিউজ করলে যারা জাত গেল জাত গেল বলে সাংবাদিকদের দায়ী করেন তারা সালাম-বরকত হলের ৪০১ নম্বর রুমের পাশের ওয়াশরুমটা একটু ঘুরে যান। মদ, গাঁজা, হেরোইনখোররা ওয়াশরুমগুলোতে বমি করে রাখে। আর বমির দুর্গন্ধে সাধারণ ছাত্ররা অসুস্থ হয়ে পড়ে। হল প্রশাসনকে বিষয়টি কয়েকবার জানানোর পরও পরিত্রাণ পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন জেগেছে, মাদকসেবীদের এমন অনাচার আর কতদিন সহ্য করবে সাধারণ ছাত্ররা?
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে নয়, দেশের প্রায় সবক’টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোর চিত্র প্রায় একইরকম। রহস্যজনক কারণে নীরব রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযান কিংবা রেইডের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য বিশেষ বিধিনিষেধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে এখন নিরাপদে মদক বিক্রি হচ্ছে। অনেক মদক ব্যবসায়ী নিরাপদ আশ্রয় মনে করে হলগুলোতে অবস্থান করছে। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতারা মাদকের পৃষ্ঠপোষক ও ব্যবসায়ী হওয়ায় মাদক বিরোধী চলমান সাঁড়াশি অভিযানের তেমন কোন প্রভাব পড়েনি ক্যাম্পাসগুলোতে। অনেকটা আগের মতোই চলছে মাদকের বেচাকেনা।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদকের বিষয়টি জানার পরও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মানের কথা ভেবে অনেক সময়ই কর্তৃপক্ষ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা নিতে চায় না। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের। ফলে নষ্ট হচ্ছে মেধাবী ছাত্রদের ভবিষ্যৎ। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা দেশের ২২টি জেলার ৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪৭৮ জন মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা করেছে। এর মধ্যে ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৮টি কলেজ রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্র-শিক্ষক-চিকিৎসক-কর্মচারী, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতারা এবং পুলিশ সদস্য। এমন চিত্র থেকে উপলব্ধি করা যায় আমাদের ভবিষ্যৎ কতটা অন্ধকার। সরকার ও রাজনীতিবিদরা কি সেই অন্ধকার দেখতে পাচ্ছেন?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ