ঢাকা, মঙ্গলবার 5 June 2018, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৯ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কবিতা

সিয়ামের পূর্ণতা
হাবিবা বিনতে নুরুন্নবী

জাহেলিয়াতের প্রতিটি মর্মর ধ্বনিতে
আহ্বানিত হতো মোর মোহ
পুজারিত্বের বাসনাখানি প্রবৃত্তি, উৎসহীন ভোগবাদী
মতবাদ, বিবেকহীন অশ্লীল গোষ্ঠীর কাছে
হতো আত্মসমর্পিত।
জীবনের ভীড়ে ছিল খোদাদ্রোহীদের
আনাগোনা, কৃত্রিম বন্ধুত্বের কোলাহল,
বুকে ছিল মুক্তচেতনার অহম, তবে বিচরনে
সদাই গোমরাহীর কুসংস্কারাচ্ছন্ন
আঙিনায়....
জীবনের সফল সান্নিধ্য খুজে
নিয়েছিলাম বাতিলের আরাধনায়।
তবুও হঠাৎ অনুভবে অতৃপ্তাত্মার গাঢ়তায়
থমকে যাই
আবার কেউ বলে যায় বারবার-”
পেয়েছোতো সব,আরও পাবে বৈকি...।
এ কোন বন্দিদশা!! পাওয়া গুলোর হিসাব
কষে মেলাতে পারিনি এর সমাধান কারণ
পাওয়ার খাতা শতভাগ পূর্ণ
কিন্তু না পাওয়া গুলোর অস্তিত্ব
কঠোরভাবে কেন শাসিয়ে যায়?
কেন সে অস্তিত্বটুকুন চোখের সামনে
মেলে ধরতে পারিনি?! কোন হিংস্র
উল্লাসে?!
শেষ প্রহরেরা যে আমার অপেক্ষায়
আপ্রাণ চেষ্টারত ছিল,
চোখের গহীনে জমা অশ্রুগুলো যে মোর
পাষান বোধের জিঞ্জির ছেড়ে
পালাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলো,
এ অচেতন, সুপ্ত ব্যকুল মন যে অবশেষে ক্লান্তভরে পরম সত্তার
সম্মুখে নু’তে চেয়েছে তা কে জানতো?
হঠাৎ এ কোন সিয়ামের চাঁদ উঠলো মোর হিতে?!
কাঁর দয়ার দরিয়ায় ভেসে ফিরে
পেয়েছি অবিরাম এ পথের সমাধান!!
আমি জানিনা, কিছুই জানিনা..
শুধু ভেবেছি “আমিকি যোগ্য ছিলাম, কিবা
হয়েছি??”
নুয়ে পড়েছি সে সত্তার পরে যিনি
ভালোবাসার সে অপূর্ণতাকে পূর্ণ করে
দিয়েছেন,
কাঙ্খিত এ পূর্ণতা পেয়েছি যে
সিয়ামের দোরগোরায়, গিচায় তা বিস্তৃতি
করেই তবে ক্ষান্ত হবো।
আজ প্রতিক্ষিত এ সিয়ামের সাধনায় চলো গড়ে তুলি তাকওয়ার বুনিয়াদ,
কুরআনের  দ্বীপ শিখরে রচি স্বর্গ প্রাসাদ।


সফেদ সকালের অপেক্ষায়
মানসুরা জেসমিন তানি

একটা নির্বাসিত জীবন নিয়ে হরদম ছুটে চলছি পৃথিবীর পথে!
বিবর্ণ রঙদের ক্রমাগত আলিঙ্গনে আমার শুষ্ক পাঁজরে বিদায়ের ছাপ স্পষ্ট!
দৃষ্টিহীন আমি রক্তের ঘ্রাণ শুঁকতে শুঁকতে ক্লান্ত হয়ে গেছি,
যখন ওরা আমার ভাইকে বুলেট দিয়ে গেঁথে দিয়েছিল জমিনের সাথে
যখন আমার বাবার লাশ দেখতে চাওয়াকে অপরাধ বলে গণ্য করা হয়েছিলো
তখনই
ঠিক তখনই আমার চোখ থেকে, দেহ থেকে, বক্ষ থেকে খুন ঝরেছিলো,
আর এভাবেই আমি নিস্তেজ-নিথর হয়ে পড়েছি।
তবুও রক্তের উষ্ণ সাগরে পা রেখে আমি বিপ্লবের বার্তা বয়ে বেড়াচ্ছি অনবরত।
আমার ক্ষয়িষ্ণু জীবনে আবারো ‘বদর’ আসুক।
আসুক ওহুদের রক্তাক্ত প্রান্তর!
অনিবার্য বিপ্লব শেষে একটি সফেদ সকালের অপেক্ষায় পেরিয়ে যাক প্রতিটি প্রহর!
হে রব!
হে প্রেমময় মালিক,
সহস্র রাতের চেয়ে উত্তম রাতগুলিতে আমাদের প্রশান্তির নহর দান করো,
অগণতি ভালোবাসায় জড়িয়ে নিও জমিনের প্রতিটি মজলুমানকে।”


ধরণা
তাসলিমা কবীর

আমার সকল প্রচেষ্টা হোক
তোমায় পাওয়ার আকাক্সক্ষা
হৃদয় থেকে দূর করে দাও
ভয়-ভীতি আর আশঙ্কা ।

হাজার কাজের ফাঁকে যেন
তোমার স্মরণ না ভুলি
জিহ্বা রাখি সচল সদা
জপি কালিমার বুলি।
আমার সকল সখ্যতা হোক
তোমায় চেনার সম্পূরক
যাদের সাথে চলতে পথে
তোমায় ভাবি তদর্থক ।

ছোটো-বড় কল্পগুলো
যেনো তোমার গল্প হয়
সকল কাজে পড়বে মনে
এই পাওয়াটা অল্প নয় ।
ওহীর জ্ঞানে পারি যেন
ঘুচতে সকল মূর্খতা
আমার আলোয় ভুবন হাসুক
আসুক সকল পূর্ণতা ।
 
আমার হৃদয় প্রশান্ত হোক
কেবল তোমায় শুকরিয়ে
মনের জমিন সিক্ত করো
সজল ধারা বরষিয়ে ।
 
আমার সকল পাওয়া যেন
তোমাতে হয় সমাপ্তি
তোমায় ছাড়া সব পেলেও
ব্যর্থ আমি অপ্রাপ্তি !

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ