ঢাকা, বুধবার 6 June 2018, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২০ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগেও থামেনি জর্ডানের বিক্ষোভ

৫ জুন, মিডল ইস্ট আই : আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ’র কথামতো দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও নতুন করে কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে টানা পাঁচ দিনের উত্তাল বিক্ষোভের মুখে সোমবার জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী হানি মুলকি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু তার পদত্যাগের পরও উত্তাল বিক্ষোভে অশান্ত হয়ে উঠেছে জর্ডান।

ইতোমধ্যে হানি মুলকির জায়গায় মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ওমর রাজ্জাক নতুন করে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। যিনি আগে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একইসঙ্গে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করেছেন।

খবরে বলা হয়েছে, গত মাসে জর্ডানের সরকার একটি আয়কর আইনের খসড়া প্রস্তাব করে। আইনটি এখন সংসদে পাস হয়নি। এই আইনে ব্যক্তিগত আয়কর ৫ শতাংশ বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানিগুলোর ওপর ২০ থেকে ৪০ শতাংশ হারে কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর প্রতিবাদেই রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা। গত কয়েক বছরের জর্ডানে এটাই বড় ধরনের কোনো বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীরা সরকারবিরোধী স্লোগান, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ছুড়ে।

আর এর পরই প্রধানমন্ত্রী মুলকিকে ডেকে পাঠান বাদশাহ আব্দুল্লাহ। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলেন বাদশাহ। কথা মত মুলকি পদত্যাগও করেছেন কিন্তু বিক্ষোভকারী দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন দেশটির ট্রেড ইউনিয়নগুলোও তা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে।

তারা জানিয়েছে, ‘আমরা কেবল নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির রদবলে থামবো না। আমরা চাই যেসব কর বাড়ানোর যেসব আইন পাশ করার প্রক্রিয়া চলছে সেসবও পরিবর্তন হবে।’

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা মন্ত্রিসভার কার্যালয়ের কাছে পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। ওই সময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘বিলটি বাতিল না করা পর্যন্ত আমরা এখানেই থাকবো। এই সরকার নির্লজ্জ’। বিক্ষোভকারীরা জর্ডানের বাদশা দ্বিতীয় আব্দুল্লাহকে উদ্দেশ্য করে স্লোগান দেন, ‘আমাদের দাবি বৈধ। আমরা দুর্নীতির পক্ষে নই।’ 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ