ঢাকা, বুধবার 6 June 2018, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২০ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

টাইগারদের কোচ হতে আসছেন ইংল্যান্ডের স্টিভ রোডস

স্পোর্টস রিপোর্টার : এবার বাংলাদেশের কোচ হওয়ার জন্য বিসিবি’র সাথে দেখা করতে আসছেন সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার স্টিভ রোডস। আগামী শুক্রবার বাংলাদেশে আসবেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগে নতুন কোচ আসবে বলে জানিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। কোচ হওয়ার খবরটি এখনও ঝুলে রয়েছে। তবে সাকিব-তামিমদের কোচ হতে সাক্ষাৎকার দিতে আসছেন ইংল্যান্ডের স্টিভ রোডস। চন্ডিকা হাথুরুসিংহের চলে যাওয়ার পর  থেকেই টাইগারদের হেড কোচের পদটি খালি। হেড কোচ ছাড়া ঘরে বাইরে মিলিয়ে বেশ কয়েকটি সিরিজও খেলে  ফেলেছে বাংলাদেশ। তাতে হেড কোচের অভাব আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিভিন্ন সময়ই জানিয়েছিল শিগগিরই নিয়োগ দেওয়া হবে নতুন কোচ। কিন্তু ছয় মাস হতে চলল প্রধান কোচের সন্ধান নেই। যদিও  বেশ কয়েকজনের সাথেই কথা বলেছে বিসিবি। বাংলাদেশের হেড কোচ হওয়ার জন্য রোডস যে বাংলাদেশে আসছেন তা নিশ্চিত করেছেন বিসিবি’র প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন। ক্রিকেট বোর্ডের শর্ট লিস্টে থাকা রোডসের নাম সুপারিশ করেছেন বাংলাদেশের পরামর্শক হিসেবে আসা গ্যারি কার্স্টেনও। গতকাল সুজন বলেন, ‘স্টিভ রোডস শর্ট লিস্টে আছেন। আশা করছি আগামী দুইদিনের মধ্যে বোর্ডের সঙ্গে মিট করবেন। 

আপনারা অতীতে দেখেছেন পাইবাস-ফিল সিমন্স এসেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় রোডস এসেও নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তাদের সঙ্গে দেখা করে তার উপস্থাপনা দেবেন।’ রোডস ক্রিকেটার হিসেবে কিংবা কোচ হিসেবে খুব একটা পরিচিত নাম নয়। ইংল্যান্ডের ক্লাব দল ওস্টারশায়ারের কোচ এবং পরে ডিরেক্টর অব ক্রিকেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এরকম একজনকে হেড কোচ হিসেবে চিন্তা করার ব্যাপারে কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সুজন বলেন,‘আমরা অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়েছি। আমরা প্রাথমিকভাবে বেশ কয়েকজন কোচের সাথে কথা বলেছি, বড় নাম ও অভিজ্ঞতা দুটোই ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে হয়তো তারা অ্যাভেলেবল ছিলেন না, বা ফ্যামিলি কমিটমেন্টের কারণে হয়তো আসতে পারেননি। 

এ মুহূর্তে যে কয়জন অ্যাভেলেবল কোচ পাওয়া  গেছে তার মধ্যে তিনি অভিজ্ঞদের একজন। মূলত তার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিচ্ছি।’ তবে রোডসকে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে আগামী বিশ্বকাপের চিন্তা কাজ করেছে। ২০১৯ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হবে ইংল্যান্ডে। ফলে ইংলিশ কন্ডিশন সম্পর্কে ভালো জানাশোনা একজন কোচ বাংলাদেশের জন্য অধিক সহায়ক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করে বিসিবি। সুজন বলেন, ‘আপনারা জানেন আগামী বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে হবে। 

এ জন্য এটাও বিবেচ্য বিষয়। ইংল্যান্ডের কন্ডিশন বা ওই ধরনের কন্ডিশনের কাউকে যদি দলের সাথে সম্পৃক্ত করা যায় তাহলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।’স্টিভ রোডসও বিসিবির সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছেন। ক্রিকইনফোকে তিনি জানান,‘আমার সঙ্গে তাদের (বিসিবি) কথা হয়েছে। মর্যাদাপূর্ণ ভূমিকার কারণেই আমি সেখানে কাজ করতে আগ্রহী। 

তবে এখনই কিছু চূড়ান্ত হয়নি। তাই এখনই এ বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ না করাই ভালো।’ বিসিবি আগামী ১৫ জুনের মধ্যে প্রধান কোচ নিয়োগ দিতে চায়। 

এর আগে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা হলেও তারা বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করতে রাজি হননি। এবার অবশ্য সেই সম্ভাবনা কমই বলা যায়। কারণ   রোডসের সম্মতি নিয়েই বিসিবির কাছে তার নাম প্রস্তাব করেছেন কারস্টেন। ৫৩ বছর বয়সী রোডস ছিলেন মূলত উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন ১১টি টেস্ট, ওয়ানডে মাত্র ৯টি। তবে খুব একটা উজ্জ্বল নয় তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ১১ টেস্টে ২৪.৫০ গড়ে করেছেন ২৯৪ রান। আর ৯টি ওয়ানডেতে করেছেন ১০৭ রান, গড় ১৭.৮৩। অবসরের পর ২০০৫ সালে ওস্টারশায়ারের কোচ হিসেবে  যোগ দেন। পরে ২০০৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ডিরেক্টর অব ক্রিকেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সব কিছু ঠিক থাকলে স্টিভ রোডসের অধীনেই এ মাসের শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পথে রওনা হতে পারেন সাকিব-তামিমরা!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ