ঢাকা, বুধবার 6 June 2018, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২০ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চীনের সাংপোর সাথে বাংলাদেশের বিপদ ব্রহ্মপুত্রে ভারতের অসংখ্য বাঁধ-প্রকল্প

ভারতে ব্রহ্মপুত্রের সকল উপনদীতেই অসংখ্য বাঁধ-প্রকল্পের ছড়াছড়ি -ফাইল ফটো

সরদার আবদুর রহমান : চীন তার ভূখণ্ডে ভারতমুখী নদীতে বাঁধ-প্রকল্প তৈরি করছে বলে ভারত তার প্রতিবাদ করছে। এর সঙ্গে বাংলাদেশও প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাহলে প্রশ্ন উঠেছে, একইভাবে বাংলাদেশের উজানের নদীতে ভারত যেসব প্রকল্প তৈরি করে চলেছে সেগুলোর বিরুদ্ধে কোন কার্যকর প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না কেন?
অন্যদিকে পর্যবেক্ষরা বলছেন, চীনের সাংপো নয়, বরং ভারতের ব্রহ্মপুত্রে অসংখ্য বাঁধ-প্রকল্পই বাংলাদেশের জন্য সবেচেয়ে বেশি বিপদের কারণ হয়ে দেখা দিচ্ছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত রিপোর্টে জানা যায়, ভারত অরুণাচল প্রদেশের তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন সাংপো নদীতে একটি রিজার্ভার তৈরি করেছে। এর ফলে একদিকে ভাটিতে ব্রহ্মপুত্রে পানির সংকট দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে আসামের কোন কোন এলাকায় অসময়োচিত বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। 
বাংলাদেশের উদ্বেগ : ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোয়াজ্জেম আলী জানিয়েছেন, ব্রহ্মপুত্র নদে চীনের বাঁধ নির্মাণ প্রচেষ্টার খবরে বাংলাদেশ ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। ভারতীয় বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া-পিটিআই তাকে উদ্ধৃত করে এই উদ্বেগের খবর জানিয়েছে। মোয়াজ্জেম আলী পিটিআইকে বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। গত ৩১ মে ২০১৮ তারিখে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়ান উইমেন প্রেস ‘কর্পস’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন মোয়াজ্জেম আলী। সেখানে চীনের বাঁধ নির্মাণের খবর নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার জানান, ‘ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় পানির গতিমুখ পরিবর্তনের প্রশ্নে বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ তিনি জানান, সংকট উত্তরণে বাংলাদেশ যৌথ অববাহিকাভিত্তিক নদী ব্যবস্থাপনার ধারণাকে কাজে লাগাতে চায়। ব্রহ্মপুত্রের উৎপত্তি চীনের তিব্বতে। সেখানে এর নাম ইয়ারলুং জাংবো। এরপর ভারতের আসামের ভিতর দিয়ে দীর্ঘ পথে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রামের মধ্য দিয়ে নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
সাংপো বনাম ব্রহ্মপুত্র : প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, চীনের তিব্বতে ‘ব্রহ্মপুত্র’ নামে কোন নদী নেই। ভারতের অরূণাচল সীমান্তের ‘সাংপো’, ‘ডিবাং’ ও ‘লোহিত’- এই তিনটি উল্লেখযোগ্য নদী আসামের তিনসুকিয়া জেলার সাদিয়া মহকুমা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সাইখোয়া ঘাটের কাছে একত্রিত হয়ে ‘ব্রহ্মপুত্র’ নামধারণ করেছে। ‘সাংপো’ নদী তিব্বতে ‘ইয়ারলিং জাংবো’ নামেও উল্লিখিত। এই সাংপো বা জাংবো নদী পশ্চিম তিব্বতের আংসি হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে অরুণাচলে ডিহাং বা সিয়াং নামধারণ করে প্রায় দুইশত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসামে প্রবেশ করে ব্রহ্মপুত্রে সংযুক্ত হয়েছে। সাংপো বা ডিহাং ব্রহ্মপুত্রের একটি উল্লেখযোগ্য উপনদী বটে।
সাংপোর প্রবাহ কতটুকু : উজানের তিব্বতের সাংপো যেটুকু পানি ধারণ করে তার চেয়ে অনেকগুণ বেশী পানির প্রবাহ রয়েছে আসামের ব্রহ্মপুত্রে। একটি পরিসংখ্যানে জানা যায়, তিব্বতের সীমান্ত পেরিয়ে তুতিং পয়েন্টে সাংপো নদীতে পানির প্রবাহ থাকে চার হাজার কিউসেক। আর একই নদী অরুণাচলের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে একাধিক পাহাড়ি উপনদীর পানি বহন করার পর ইস্ট সিয়াং জেলার পাসিঘাট নামক স্থানে এসে ৩২ হাজার কিউসেক পানি বহন করে। এমনিভাবে আরো দুইটি নদী ডিবাং ও লোহিত উল্লেখযোগ্য পানি বহন করে ব্রহ্মপুত্রের প্রবাহকে সমৃদ্ধ করে। ভারতীয় পানি বিশেষজ্ঞ ও পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, তিব্বত থেকে সাংপোর যে প্রবাহ অরুণাচল হয়ে মূল ব্রহ্মপুত্রে গড়াচ্ছে এর পরিমাণ ব্রহ্মপুত্রের মোট প্রবাহের মাত্র শতকরা ৭ ভাগ। ব্রহ্মপুত্রের উজানের অংশ বিশাল অববাহিকা জুড়ে থাকলেও সেখানে গড় বৃষ্টিপাত বছরে মাত্র ৪শ’ মিলিমিটার। কিন্তু অরুণাচল এবং আসাম অংশে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ৩ হাজার মিলিমিটার। ফলে সাংপো যতোটা পানি ব্রহ্মপুত্রকে দেয় তা খুবই স্বল্প পরিমাণ। মূল প্রবাহই আসে অরুণাচল ও আসাম থেকে। ব্রহ্মপুত্র সাংপো’র প্রবাহের উপর তেমন নির্ভশীল নয়। 
ব্রহ্মপুত্রের পানি কাবেরীতে : ভারত ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রত্যাহার করে তার অতি উচ্চাভিলাষী বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে চলেছে। একটি পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারত ব্রহ্মপুত্রের পানি নিয়ে যাবে দক্ষিণ ভারতের কাবেরী নদীতে। এ জন্য প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। ১৯৯৩ সালের ২৫ জুলাই কোলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা এ সম্পর্কে এক রিপোর্ট প্রকাশ করে। রিপোর্টে বলা হয়, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সংযোগ খাল খনন প্রস্তাবে বাংলাদেশ রাজী না হওয়ায় ভারত নিজ ভূখণ্ডের উপর দিয়ে ব্রহ্মপুত্র কাবেরী সংযোগ খাল খননের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করে। এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সংযোগ খালেরই বিকল্প পরিকল্পনা। ভারতীয় মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী আসামের ধুবড়ি এলাকা থেকে জলপাইগুড়ি জেলার গজল ডোবার উজান পয়েন্ট পর্যন্ত সংযোগ খাল খনন করা হবে। ভুটানের সংকোশ ও মানস নদী থেকে খাল কেটে সংযুক্ত করা হবে ব্রহ্মপুত্র-তিস্তা সংযোগ খালে। এর পর দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি মহকুমা, পশ্চিম দিনাজপুর জেলা ও মালদহ জেলা হয়ে একটি খাল কেটে তা সংযুক্ত করা হবে ফারাক্কার উজানে গঙ্গা নদীতে। এ খালের দৈর্ঘ্য হবে ৪৭৩ কিলোমিটার। মহাপরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ে ফারাক্কা থেকে সংযোগ খাল খনন করা হবে দক্ষিণ ভারতের কাবেরী নদী পর্যন্ত। খালটি ফারাক্কা থেকে নিয়ে যাওয়া হবে বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর পর্যন্ত। সেখান থেকে দ্বারকেশ্বর নদী। দ্বারকেশ্বর (বাঁকুড়া জেলা) থেকে খালটি নিয়ে যাওয়া হবে উড়িষ্যা রাজ্যের অন্যতম নদ-নদীতে। এরপর অন্ধ্রপ্রদেশের গোদাবরী নদী ভেদ করে কৃষ্ণা। কৃষ্ণা থেকে খালটি নিয়ে যাওয়া হবে তামিলনাড়ু রাজ্যের কাবেরী নদীতে। ফারাক্কা থেকে কাবেরী নদী পর্যন্ত মূল সংযোগ খাল ছাড়াও অসংখ্য ছোট ছোট খাল কাটা হবে। এসব খালে অনেক নদী অতিক্রম করবে। নির্মাণ করা হবে পানি সংরক্ষণাগার ও বিদ্যুৎ প্রকল্প।
ব্রহ্মপুত্র-গঙ্গা সংযোগ খাল : ব্রহ্মপুত্রের পানি গঙ্গায় অপসারণের লক্ষ্যে একটি খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। এর যৌক্তিকতা হিসেবে বলা হচ্ছে, ব্রহ্মপুত্র একটি বিশাল নদী যা শুকনো মওসুমেই ৩৫০০ থেকে ৫০০০ কিউমেক পানি প্রবাহ করে থাকে। এর অধিকাংশ পানিই এর বেসিনের প্রয়োজনাতিরিক্ত এবং তা অপচয় হয়। অপরদিকে, নিম্ন গঙ্গা বেসিনে পানির স্বল্পতা রয়েছে বিশেষ করে শুকনো মাসগুলোতে। এজন্য ব্রহ্মপুত্র থেকে গঙ্গায় অতিরিক্ত পানি প্রত্যাহার করা এই পানির ঘাটতি পুরণ করতে পারে, যা ঐ এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। ব্রহ্মপুত্র-গঙ্গা সংযোগ খাল প্রকল্পটি নিম্ন আসামের ধুবরি নামক স্থানের পানি প্রত্যাহারের কাজে ব্যারেজে নির্মাণ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং একটি ৩২০ কিমি দীর্ঘ ফিডার ক্যানেল ধুবরির সাথে ফারাক্কা বাঁধের সংযোগ করছে। এই ফিডার ক্যানেলের একটি অংশ বাংলাদেশে পড়বে যার জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে হবে। এই ক্যানেলটি বাংলাদেশেও সেচের পানি সরবরাহ করবে। এই ক্যানেলটি বছরের শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা অর্থাৎ বাংলাদেশের পদ্মা নদীতেও পানির প্রবাহ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া এই সংযোগ ক্যানেলটি উভয় দেশের মধ্যে সস্তায় সেচের পানি সরবরাহে সাহায্য করতে পারে। বাংলাদেশের দিক থেকে বিশাল অংকের আর্থিক খরচ ও প্রয়োজনীয় চুক্তির অভাবে এই প্রকল্পটি এখনো কাজ শুরু করা যায়নি। এছাড়াও ব্রহ্মপুত্রে ভারতের অন্তত ২১টি সেচ প্রকল্প রয়েছে। এসব সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষত আসামের বিস্তীর্ণ জমিতে পানি সেচ দেয়া হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে একটি পশ্চিমবঙ্গে এবং একটি নাগাল্যান্ডে অবস্থিত।
উপনদীগুলোতে বাঁধ-প্রকল্প : ভারত ব্রহ্মপুত্রের প্রায় সবক’টি উপনদীকে অসংখ্য প্রকল্প গড়ে তুলেছে। ফলে এসব নদীর প্রবাহ থেকে বঞ্চিত হয় ব্রহ্মপুত্র। ব্রহ্মপুত্রের বৃহৎ উপনদী ডিহিং (বুড়ি ডিহিং) নদীতে সিয়াং বহুমুখি বাঁধ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে ব্রহ্মপুত্রে পানির প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ৩৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ ডিহিং নদী হিমালয় থেকে উৎপত্তি হয়ে অরুণাচল প্রদেশের মধ্য দিয়ে আসামের ডিব্রুগড়ে ব্রহ্মপুত্রে মিলিত হয়েছে। সিয়াং বহুমুখি বাঁধ প্রকল্প নির্মিত হচ্ছে অরুণাচলের সিয়াং জেলার রাইং গ্রামে। এটি ২৫৭ মিটার উচ্চতার একটি বৃহদাকার বিদ্যুৎ প্রকল্প। ব্রহ্মপুত্রের অন্যতম উপনদী দিবাং নদীর উপর ‘আপার সিহাং হাইড্রো-ইলেকট্রিক প্রজেক্ট’ নামে একটি বৃহদাকার জলবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এটি এধরনের বৃহত্তম প্রকল্প। দিবাং নদী অরুণাচল প্রদেশে সিহাং নামে পরিচিত। দিবাং নদী অরুণাচল ও আসামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ভারত-চীন সীমান্তের দিবাং ভ্যালি জেলার কেয়া পাস-এ এর উৎপত্তি। দিবাং-এর উপর আরো ১৭টি বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের। এর মধ্যে ৯৪৫ ফুট উচ্চতার একটি বাঁধ হবে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প। ব্রহ্মপুত্রের অন্যতম উপনদী লোহিত নদীর উপর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করেছে ভারত। বৃহদাকার এই প্রকল্প থেকে ৩০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। পূর্ব তিব্বতের জায়েল চু নামক স্থান থেকে লোহিত নদীর উৎপত্তি হয়ে তা অরুণাচল প্রদেশের ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সিয়াং-এর কাছে ব্রহ্মপুত্রে মিলিত হয়েছে। লোহিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি স্থাপন করা হয়েছে পরশুরাম কুণ্ডু থেকে ৮০০ মিটার উজানে। এই প্রকল্পের ফলে পরিবেশের ক্ষতির আশংকা করে আসামের যুব-ছাত্র পরিষদ এই কার্যক্রমের বিরোধিতা করে আসছে।
বিশেষজ্ঞ অভিমত : নদী বিশেষজ্ঞ ও হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী এবিষয়ে জানান, তিব্বত থেকে সাংপোর প্রবাহ পথে ব্রহ্মপুত্রের মূল প্রবাহে যে পানি পাওয়া যায়- তুলনামূলকভাবে এর পরিমাণ অনেক কম। ভারত এমনিতেই বাংলাদেশেকে অবহিত না করেই ব্রহ্মপুত্রের কথিত উদ্বৃত্ত পানি সংযোগ খালের মাধ্যম টেনে নিয়ে যাবে। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতে ভারত অজুহাত এনে হাজির করছে চীনের প্রসঙ্গ তুলে। তারা বলতে পারে চীন সাংপো থেকে পানি প্রত্যাহার করার ফলেই ভারতের অংশে পানি কমে গেছে। কাজেই বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পানি কীভাবে পাবে। এই যুক্তির মধ্যে সত্যের চেয়ে একজাতীয় চতুরতা এবং অনৈতিকতা কাজ করছে বেশী করে। কারণ সাংপো থেকে আসা পানির যে অংশ এরচেয়ে অনেক অনেকগুন বেশী পানি দ্বারা ব্রহ্মপুত্র সমৃদ্ধ হয়েছে আসাম ও অরুণাচল অংশে। অরুণাচলের আবর পাহাড়, মিশমি পাহাড়সহ নাগাপাহাড়, খাসিয়া, জৈন্তিয়া, গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা অসংখ্য নদনদীর প্রবাহ দ্বারা সমৃদ্ধ ব্রহ্মপুত্র। এছাড়াও উত্তরের ভুটান পাহাড় থেকে এসেছে অসংখ্য ছোট বড় নদী। বাংলাদেশ অংশে দুধকুমার, ধরলা, গঙ্গাধর, তিস্তা এ সকল নদীর পানি দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছে ব্রহ্মপুত্র। কাজেই ভারত যদি আন্তর্জাতিক পানি ব্যবহারের নিয়মনীতি এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আন্তর্জাতিক নদী বিশেষ করে গঙ্গা-তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র-বরাক প্রভৃতি নদ-নদীর পানি বণ্টন বিষয়ে সমঝতায় ফিরে আসে তবেই প্রমাণিত হবে ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। বাংলাদেশকেও এব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। কেবল চীনের সাংপো নিয়ে নয়, বাংলাদেশের উজানে দেয়া ভারতের প্রতিটি প্রকল্প সম্পর্কেই উচ্চকণ্ঠ হওয়ার কোন বিকল্প নেই বলে মাহবুব সিদ্দিকী মনে করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ