ঢাকা, বুধবার 6 June 2018, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২০ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভোটারের মন তুষ্টে নেয়া হয়েছে নানা কৌশল

এইচ এম আকতার : জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কাল ঘোষণা হচ্ছে ভোটার তুষ্টির ২১তম বাজেট। উচ্চ বিলাসি এই বাজেট হবে বর্তমান সরকারের শেষ বাজেট। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় আসতে চায়। এ লক্ষ্যে ভোটারবান্ধব একটি বাজেট করছে সরকার। ৭ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাজেটে ভোটারদের মন তুষ্ট করতে নেয়া হয়েছে নানা কৌশল। বিষেশজ্ঞরা বলছেন অতীতে জাতীয় বাজেট এত রাজনীতিকরণ করা হয়নি।
এরই মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। অনেকেরই মনে প্রশ্ন উঠছে অর্থমন্ত্রীর আগামী বাজেট কতটা অর্থনীতি মেনে হবে?। বিরোধী দল শুরু থেকেই বলে আসছেন এবারের বাজেট হবে মূলত আওয়ামী লীগের নিজেদের নির্বাচনী বাজেট৷ এতে উন্নয়নভাবনা থাকবে কম, জনতুষ্টিই প্রাধান্য পাবে বেশি
জানা গেছে,বিগত নয় বছরের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা চলছে এই বাজেটে। এই সাথে এই সরকারের দেয়া নির্বাচনী ইশতেহারের নানা দিক প্রধান্য দেয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক কারণে অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় এমপি মন্ত্রীদের কথায় বাজেট তৈরি করা হয়েছে। একই সাথে তাদের দেয়া প্রকল্পকে আগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। তাদের ইচ্ছা বাস্তবায়নে দেয়া হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ। বাজেটে আগেও রাজনৈতিক বিবেচনা প্রকল্প দেয়া হতো। কিন্তু এবার অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। সরকার প্রকাশ্যে বলছে নির্বাচনী বাজেট।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ ধরনের বাজেট তৈরি করেছেন অর্থমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে ভোটার তুষ্টির বিষয়গুলো বাজেট বক্তৃতার মাধ্যমে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন তিনি।
বাজেট তৈরির সঙ্গে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন করে কোনো করের বোঝা বাড়ানো হবে না। উল্টো করদাতা ও ব্যবসায়ীদের খুশি করতে থাকবে নানামুখী পদক্ষেপ। এর মধ্যে ব্যবসায়ীদের খুশি করতে করপোরেট কর কমানো হবে। ব্যাংক, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করহার কমতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এ খাতের উদ্যোক্তারা এসব কর কমানোর দাবি করে আসছেন।
প্রশ্ন উঠেছে,জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর এত টাকা পাবে কোথায়। তাদের ব্যক্তি করের ওপর নজর না দিয়ে ভ্যাটের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন। এতে করে পণ্যের মূল্য বাড়বে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী বলছেন,বাজেটে পণ্যের মূল্য বাড়বেনা। তাহলে এত টাকা আসবে কোথায় থেকে।
অনেক বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি (সরকারি বেতনের অংশ) করা হয়নি। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনায় পড়ে বর্তমান সরকার। তাই বাজেটে নতুন করে আরও এক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে। এ জন্য বাড়তি পাঁচশ’ থেকে সাড়ে পাঁচশ’ কোটি টাকার বরাদ্দ থাকছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্র বলছে, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য গত ছয় বছরেই সরকার ১৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলোকে দেওয়ার জন্য দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যদিও তা এখনো ছাড় হয়নি। ছাড় হবে ৭ জুন বাজেট ঘোষণার পর। আর আগামী বাজেটেও ব্যাংকগুলোর জন্য প্রায় একই পরিমাণ অর্থ রাখা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সিগারেট ও মোবাইল কোম্পানির জন্য করপোরেট ট্যাক্স ৪৫ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকবে। এ ছাড়া ব্যাংকসহ লিস্টেড-আনলিস্টেড সব কোম্পানির ক্ষেত্রে করপোরেট ট্যাক্সের সর্বোচ্চ হার হবে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
স্বল্প পরিসরে যারা কর দেন তাদের জন্যও সুখবর রয়েছে। এ ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হবে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের জন্য থাকবে বিশেষ ছাড়। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের সার্বজনীন পেনশনের রূপরেখা তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী।
সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের ১২ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির (ইনক্রিমেন্ট) ঘোষণা দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের এ বাজেটে চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা খাতে বেশি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।
এ ছাড়া নির্বাচন সামনে রেখে কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিয়েছে সরকার। অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসের মধ্যে কর্মক্ষম ১ লাখ বেকারকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেটে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে। ‘রূপকল্প-২১’ সামনে রেখে এখন কর্মসংস্থানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। চলতি অর্থবছরের ১৫ শতাংশ একক ভ্যাট হার বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রী তার বাস্তবায়ন দুই বছর পিছিয়ে দেন। সে হিসাবে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন আইন চালু হবে। কিন্তু আগামী বাজেটেই ভ্যাট হারে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে ৯টি ভ্যাট হার আছে। এটি কমিয়ে ৫টিতে নামানো হতে পারে। বর্তমানে দেড়, আড়াই, ৩, ৪, সাড়ে ৪, ৫, ৬, ১০ ও ১৫ এই ৯টি হারে ভ্যাট আদায় করা হয়। সংকুচিত ভিত্তিমূল্যে গণনা করা হয় এসব হার।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এই হার হতে পারে ২, ৩, ৪, ৬, ১০ ও ১৫ শতাংশ। অন্যদিকে অগ্রিম ব্যবসায় ভ্যাট (এটিভি) ১ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এবারের বাজেটে ভ্যাটকে ৯ স্তর থেকে পাঁচ স্তরে নামিয়ে আনা হবে। সর্বোচ্চ হার হবে ১৫ শতাংশ। আগামী বছর পাঁচ স্তর থেকে তিন স্তরে নামিয়ে আনা হবে।
অন্যদিকে ভোটারদের তুষ্ট করার জন্য গ্রামীণ সড়ক, ব্রিজ, কলভার্ট, ধর্মীয় উপাসনালয় সংস্কার কাজ দ্রত সম্পন্ন করা হবে। সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে বাজেটে তাদের জন্য অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আগেই বলে দিয়েছেন, এবারের বাজেটে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হবে না। বাজেট কাঠামো প্রায় একই থাকছে। তবে জনবান্ধব নতুন কিছু বিষয় এবারের বাজেটে যোগ হবে।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে নতুন করে ১১ লাখ দরিদ্র মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা হবে। ফলে এ কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৮৬ লাখ। নতুন এ সুবিধাভোগীর মধ্যে বয়স্কভাতা কর্মসূচির আওতায় যোগ হচ্ছে ৫ লাখ মানুষ, বিধবাভাতা কর্মসূচিতে আসছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ও অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ১ লাখ ৭৫ হাজার।
শুধু সুবিধাভোগীর সংখ্যাই বাড়ানোর ঘোষণা দেবেন না অর্থমন্ত্রী বরং সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিভিন্ন ভাতাও বাড়ছে। আগামী বাজেটে মাতৃত্বকালীন ভাতা ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা করার ঘোষণা দেবেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মায়ের (শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান এমন মা) ভাতাও ৩০০ টাকা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমান ল্যাকটেটিং মায়ের মাসিক ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকা। নতুন বাজেটে এ ভাতা বেড়ে দাঁড়াবে ৮০০ টাকা।
এসব সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে মূলত তারা দরিদ্রজন গোষ্ঠির ভোট কিনতে চায়। এটি তাদের নতুন কৌশল। এ কৌশলের ওপর নির্ভর করে তারা আগামী নির্বাচনে জয় পেতে চান। একইভাবে আগামী বাজেটে রয়েছে অপ্রয়োজনীয় নানা প্রকল্প। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে আর্থিক সুবিধা দেয়া হবে। এতে করে তাদের ভোটের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে মনে করছে সরকারের নীতি নির্ধারণী মহল।
সূত্র জানায়, আসছে বাজেটে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় ক্যান্সার, কিডনি, স্ট্রোক, প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে অর্থ বাড়ানো হচ্ছে। চলতি বাজেটে এ ক্ষেত্রে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও আসছে বাজেটে ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ৮টি খাতে ৭৫ লাখ জনগোষ্ঠীকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। নতুন বাজেটে আরও থাকছে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি ১০ হাজার, জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে চা শ্রমিক ১০ হাজার, দারিদ্র্য মাতৃত্বকালীন মা ১ লাখ, কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মা ৫০ হাজার ও ভিজিডির সুবিধাভোগী ৪০ হাজার।
সূত্র আরও জানায়, সারা দেশে বর্তমান বয়স্কভাতা কর্মসূচির আওতায় ৩৫ লাখ উপকারভোগী রয়েছে। আগামী বাজেটে এটি বেড়ে দাঁড়াবে ৪০ লাখে। বিধবা ও দুস্থ মহিলা ভাতার আওতায় ১২ লাখ ৬৫ হাজার জন ভাতা পাচ্ছেন। নতুন বাজেটে এ কর্মসূচির আওতায় সুবিধা পাবেন ১৪ লাখ মহিলা। অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার অধীনে আসন্ন বাজেটে ৮ লাখ ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বর্তমান ৩০ হাজার চা শ্রমিক জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ভাতা পাচ্ছেন। প্রস্তাবিত বাজেটে আরও ১০ হাজার বাড়িয়ে ৪০ হাজার করা হচ্ছে। মাতৃত্বকালীন ভাতা পাচ্ছে ৬ লাখ মা। নতুন বাজেটে এ ভাতা দেওয়া হবে ৭ লাখ মাকে।
অন্যদিকে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, হিজড়া, বেদে ও অনগ্রসর গোষ্ঠীর ভাতাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রাথমিক স্তরে ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৬০০ থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
হিজড়া, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় উপবৃত্তি প্রাথমিক স্তরে ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৪৫০ থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তর ১০০০ থেকে বাড়িয়ে ১২০০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে আগামী অর্থবছরের বাজেটে বাংলাদেশে অশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।
 সিপিডি’র অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন,বাজেট এখন অনেক বেশি নীতিভিত্তিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে হচ্ছে ৷ যেমন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, এসডিজি অথবা সরকারের বিভিন্ন খাতভিত্তিক পরিকল্পনাকেও প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে ৷ অবকাঠামো খাতকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে এবং তার ফলে বিদ্যুৎখাতে লক্ষ্যণীয় উন্নতি হচ্ছে৷ যোগাযোগ খাতে যে উন্নতি হওয়ার কথা ছিল, দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আমরা সেই সুবিধা পুরোপুরি নিতে পারিনি৷ যোগাযোগ খাতে শুধু সড়ক নয়, রেল ও নৌপথকেও গুরুত্বের মধ্যে আনতে হবে। বাজেটে যে সব রাজনৈতিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে তা অথীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এতে বাজেটের আকার এবং ব্যয় বেড়েছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক খাতে সার্বিকভাবে সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। সে কারণেই ঋণ দেওয়ায় অনিয়ম হচ্ছে, খেলাপি ঋণ আদায় হচ্ছে না, ঋণ অবলোপন হচ্ছে এবং সরকারি কোষাগার থেকে ব্যাংকগুলোকে প্রতিবছর টাকা দিতে হচ্ছে। এ খাতের সুশাসনের জন্য সরকারের চেষ্টার ঘাটতি রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত, আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট চূড়ান্ত করা হয়েছে। যা মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ। সম্প্রতি সম্পদ কমিটির সভায় বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা শেষে বাজেটের এ আকার নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সেই তুলনায় আগামী অর্থবছর বাড়ছে মাত্র ৬৮ হাজার কোটি টাকা।
জানা গেছে, নির্বাচনী বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। (সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ছাড়া)। চলতি অর্থবছরের চেয়ে এডিপির আকার বাড়ছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ