ঢাকা, বুধবার 6 June 2018, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২০ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অগ্রগতির দিকে নয় অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যাচ্ছে দেশ -বিএনপি

গতকাল মঙ্গলবার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দেশ অগ্রগতির দিকে নয়, ‘অন্ধকারের অতলে’  তলিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গত সোমবার গণভবনে রাজনীতিবিদের সম্মানে ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন,  অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে একেবারেই একটা ডাহা তামাশা এবং মসকরা। এটা যে একেবারে পেছন দিকের অন্ধকারের অতলে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা জনগণ জানে। নিশ্চয় অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী সেটা বলবেন না। আর গণতন্ত্রের কথা বলেছেন। গণতন্ত্র এখন ক্রসফায়ারতন্ত্রের বেড়াজালে আবদ্ধ।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, বেলাল আহমেদ, সামসুজ্জামান সুরুজ, আমিনুল ইসলাম, উলাম দলের এম এ মালেক,শাহ নেসারুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সারাদেশের সড়ক-মহাসড়ক এখন ছোট ছোট খালে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন শুধু সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ডে শোভা পায়। দেশের সড়ক-মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়ক মিলে ৮৫ হাজার কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা বিরাজ করছে। সড়কের খানাখন্দ ও আর দুর্ভোগের আশংকায় লাখ লাখ মানুষ ঈদে বাড়ি যেতে পারবে কিনা তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছে।  তারা বিকল্পভাবে বাড়ি যেতে ট্রেনের টিকিটের পিছনে ছুটছে, সেখানেও পাচ্ছে না কাক্সিক্ষত টিকেট। সরকারের বেপরোয়া লুটপাটের নীতির কারণেই সড়ক-মহাসড়কের দুর্দশা কাটছে না, ঈদের প্রাক্কালে ঘরে ফিরতে চরম দুর্গতির জন্য এই সরকারের প্রতি আমরা  ধিক্কার জানাই যে, মানুষকে ন্ন্যুতম কোনো সেবা প্রদান তারা(সরকার) দিতে পারে না।
বর্তমান সরকারকে গণ বিরোধী অভিহিত করে তাদের কাছ থেকে জনকল্যাণমূলক বাজেট হবে না বলে মন্তব্য করেছেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, গণবিরোধী সরকারের কাছ থেকে জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রত্যাশা কেউ করতে পারে  না। এরা গণবিরোধী সরকার, জনসম্পৃক্ত ও জনকল্যাণমূলক বাজেট দেবে- এটার কোনো কারণ নেই। তারপরেও দেখি আমরা। বাজেট উপস্থাপন হোক। বাজেটের আদি-অন্ত বিশ্লেষণ করে কী ফুটে উঠে তার ওপর ভিত্তি করে দেখে আমরা প্রতিক্রিয়া জানাবো।
গত ১০ বছরে দ্রব্যমূল বাড়েনি- অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, রবী ঠাকুরের ওই গানটা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে- কেউ কখনো খুঁজে কি পায় স্বপ্নলোকের চাবি। এই স্বপ্নলোকের চাবি আছে আপনার অর্থমন্ত্রীর কাছে। তাই এই ধরণের উদ্ভট কথাবার্তা বলেন আর কি।
পশ্চিবঙ্গের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত- ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রতিদান চেয়েছেন’ শীর্ষক সংবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভারতের পত্রিকায় যে প্রতিদানের কথা বলা হয়েছে তা বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর ইঙ্গিত। এ বিষয়টি আমাদের সবাইকে চিন্তা করতে হবে। রিজভী বলেন, বছর খানেক আগেও প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গিয়েছিলেন, তখন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার অনেকগুলো চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির একগুঁয়েমির অজুহাত দেখিয়ে তিস্তার পানির কোন প্রাপ্তিই ঘটেনি। সেসময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৬২ দফার যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছিল, সেখানে চুক্তি ও সমঝোতার স্মারকের সংখ্যা ছিল ২২টি। অথচ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে টু শব্দটিও করেনি এবং যৌথ বিবৃতিটিও প্রকাশের কোন আগ্রহ দেখাননি। কোনকিছু ঢাকতে গেলে ঢাকনীর ভেতর থেকে কোন না কোনভাবে গোপন বিষয়টি বেরিয়ে আসবেই। স্বাধীন দুটি দেশের মধ্যে সহযোগিতায় উভয় পক্ষের প্রত্যাশা থাকে, কিন্তু বাংলাদেশের প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তি মেলাতে গিয়ে দেখা যায় বাংলাদেশের প্রাপ্তি শুভঙ্করের ফাঁকি আর ভারতকে সব দিয়ে দেয়া হয়েছে উজাড় করে।
আনন্দবাজার পত্রিকা আরও লিখেছে ‘হাসিনা জানিয়েছেন তার সরকার উত্তর-পূর্ব সীমান্তে জঙ্গিদের দেশছাড়া করেছে, ট্রানজিট দিয়েছে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বরাবর দিল্লীকে সমর্থন করেছে। বাংলাদেশের নির্বাচনের বছরে এবার তাই ভারতের সহযোগিতা চাই।’
প্রধানমন্ত্রীর উল্লিখিত বক্তব্যের অর্থ হচ্ছে-শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচন একতরফা করতে গ্যারান্টি চাচ্ছেন ভারতের কাছ থেকে, এটাই একমাত্র প্রতিদান আশা করেন ভারতের কাছ থেকে, অন্য কিছু নয়।ঐ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট করে বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে নিজেদের উন্নত দেশে উত্তরণ ঘটাতে শেখ হাসিনার স্বপ্ন বা দৃশ্যকল্প বাস্তবায়নে ভারত তাকে পূর্ণ সমর্থন দেবে। অতএব শেখ হাসিনার শান্তিনিকেতন সফর মহিমামন্ডিত, এক অভূতপূর্ব প্রতিদানের কাব্যিক আলেখ্য, ভোট ছাড়া দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার নিশ্চয়তা পেলেন কী পাশর্^বর্তী দেশ থেকে?
রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ আবারও একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন ও ভোট ডাকাতির নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে। সেজন্যই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় আটকে রেখেছে। কিন্তু শেখ হাসিনার সে ইচ্ছা পূরণ হবে না। মানুষ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেতে বদ্ধপরিকর। কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র মুক্তি পাবে, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে আর তা হবে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ