ঢাকা, বুধবার 6 June 2018, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২০ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পুলিশের গ্রেফতার লোক দেখানো মাত্র সোনারগাঁয়ে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

সোনারগাঁ সংবাদদাতা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করেছেন সেখানে সোনারগাঁয়ে র্শীষ মাদক ব্যবসায়ীরা এখনো ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে। পুলিশ মাঝে মধ্যে লোক দেখানো মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে চুনোপুটি আটক করলেও মাদকের ডিলার ও বড় ব্যবসায়ীরা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। ফলে পুলিশের এ মাদক বিরোধী অভিযান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে পুুলিশ কি কারণে মাদকের ডিলার ও ব্যবসায়ীদের আটক করছেনা তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন। থানা পুলিশ বলছে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ রাত/দিন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ফলে দিনে দিনে সোনারগাঁয়ে মাদকের সয়লাব হচ্ছে।
জানাগেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভার মাদক ব্যবসায়ীদের নামের তালিকা বই আকারে তৈরি করছেন পুলিশ। এখানে সোনারগাঁয়ে ছোট বড় প্রায় ৫৯৮ জন মাদক ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ করেছে। পুলিশ এ তালিকা বই আকারে বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের কাছে বিলিও করেছে। তবে, পুলিশের এ তালিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে অভিযোগ করেছে পুলিশ নিজেদের মনগড়াভাবে এ তালিকা তৈরি করেছে। এখানে অনেক বড় বড় মাদকের ডিলার ও ব্যবসায়ীদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। আবার অনেক ভালো মানুষের নামও জুড়ে দেয়া হয়েছে। তবে পুলিশ বলেছে নাম থাকলেই কোন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হবে না। এছাড়া পুলিশ বলেছে যদি কোন মাদক ব্যবসায়ী ভাল হতে চায় তাহলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মুরুবীদের এনে লিখিত দিলে তাকে গ্রেফতার করা হবে না। ফলে বড় বড় মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের এ সুযোগকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছেন।
এদিকে পুলিশের তালিকা তৈরি ও সারাদেশে মাদক বিরোধী অভিযানেও থামাতে পারছে না সোনারগাঁয়ের উত্তর অঞ্চল সাদিপুর, কাঁচপুর ও জাঁমপুর ইউনিয়নে মাদক ব্যবসায়ীরা দিনে-রাতে প্রকাশ্য চালিয়ে যাচ্ছে মরণ নেশা ইয়াবা ব্যবসা। কোনভাবে বন্ধ হচ্ছে না তাদের মাদক ব্যবসা। পুলিশের তালিকা ভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ছাড়াও রয়ে গেছে আরো অসংখ্য শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তবে, স্থানীয়দের অভিযোগ এসব এলাকায় বহু শীর্ষ মাদক ব্যসায়ীর নাম অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি ফলে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। মাদক ব্যবসায়ীরা বলছে পুলিশ ও তাদের সোর্সদের মাসিক মাসোহারা দিয়ে প্রকাশ্যে চালাচ্ছেন এ ব্যবসা। আয়তনে বড় সোনারগাঁকে অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতিহত করতে ও জনগণের নিরাপত্তার দিতে জাঁমপুর ইউনিয়নের মীরেরটেক পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করেছেন জেলা পুলিশ। পুলিশ ফাঁড়ির বছর পার হতে না হতেই এখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা অপরাধ নিমূর্লেও পরিবর্তে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তে নেমেছেন। মাদকসহ আসামী ধরে ছেড়ে দেয়া, ওয়ারেন্টের আসামীকে ধরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়ে আসামী নয় তার ভাই ধরেছি ইত্যাদি গল্প বানিয়ে একএক করে নানান ঘটনার জন্ম দিয়েছেন ফাঁড়ি পুলিশ। তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ও ওয়ারেন্টের আসামী গ্রেফতার করে ছেড়ে দেয়া, গ্রেফতার বাণিজ্য, সাধারণ মানুষকে হয়রানি করাসহ নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে ফাঁড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংবাদপত্রে মীরেরটেক পুলিশ ফাঁড়ি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে স্থানীয়দের দাবি পুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। এছাড়া ফাঁড়ি পুলিশের সোর্সদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সোর্সরা ফাঁড়ি পুলিশের মাধ্যমে মাদক দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁসিয়ে দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আবার ফাঁড়ি থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানায়, মাদক ব্যবসা দিনদিন বেড়েই চলচ্ছে। কোনভাবেই কমছে না। পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের সকালে গ্রেফতার করলে বিকালে তাদের বাড়িতে দেখা যায়। কি ভাবে তারা পুলিশ হাত থেকে রক্ষা পায় এটা আমরা বুঝতে পারি না। তাদের মাদক ব্যবসায় যদি আমরা বাধা দেই তাহলে হামলা, মিথ্যা মামলাসহ নানান ভাবে আমাদের হয়রানি করে। কোথাও গিয়ে আমরা বিচার পাই না। এজন্য মাদক নির্মূলে পুলিশকে সহায়তা করতে পাচ্ছে না এলাকাবাসী। তাই দ্রুত এসব শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের চিহিৃত করে আইনের আওতায় আনার জন্য তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তা না হলে কোনভাবে মাদক ব্যবসা বন্ধ হবে না। তাতে সমাজ ব্যবস্থা দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ