ঢাকা, বুধবার 6 June 2018, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২০ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রশাসনের কঠোর নজরদারির অভাবে রমযান  ঈদ-পূজা-পার্বণ আনন্দ-উৎসবের চেয়ে আতংকে পরিণত হয়েছে ---------------ক্যাব

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামসহ দেশীব্যাপী বাজার মনিটিরিং কার্যক্রম জনগণের চাহিদার তুলনায় অনেকটাই সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছে। জনদুর্ভোগ ও সমস্যা সমাধানে দ্রুত ও সহজ উপায় হিসাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে এবং জনগণের কাছেও আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে সে কারণে মানুষ ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপর নির্ভরশীলতা ক্রমাগত বাড়ছে। তবে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির অভাবে রমজান, ঈদ-পুজা-পার্বণ আনন্দ-উৎসবের চেয়ে আতংকে পরিণত হয়েছে। সেখানে ১৬ কোটি মানুষের সমস্যা নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য, কাপড়, কসমেটিকস, জুতা, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে চলমান অভিযান জোরদার করা না গেলে গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে পুরো সমাজে অস্থিরতা প্রকট হবে।

গত সোমবার চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা পালকি কমিউনিটি সেন্টারে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) বোয়ালখালী উপজেলার উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার পূর্ব আলোচনা সভায় বক্তাগণ উপরোক্ত মন্তব্য করেন। বোয়ালখালী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মওলানা ওবাইদুল হক হাক্কানীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, প্রধান বক্তা ছিলেন ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী। ক্যাব বোয়ালখালীর সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা সামশুল হুদার সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশনেন সরোয়াতলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ, ক্যাব বোয়ালখালীর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহনেওয়াজ আলী মির্জা, যুগ্ন সম্পাদক কামাল উদ্দীন প্রমুখ।

 বক্তাগণ বলেন পবিত্র কোরআনে আল্লাহ স্বয়ং নিজেই ওয়াদা করেছেন রমযানে রোজাদারের প্রতিদান আল্লাহ নিজেই দিবেন। আর যারা খাদ্যে ভেজাল ও দ্রব্যমূল্য মজুত, ওজনে কারচুপি ও মানুষকে প্রতারণা মাধ্যমে ঠকাবে তাদেরও কঠিন শাস্তিও প্রদান করা হবে। তারপরও দেশ খাদ্যে ভেজাল থেমে নেই, দ্রব্যমূল্য মজুতারী, সিন্ডিকেট করে জনগণের পকেট কাটার উৎসবও জোরদার। যদিও মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর অনেক দেশে রমযান ও ঈদে মূল্য হ্রাস হয়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও পুজার সময় মূল্য ছাড় হয়। কিন্তু পৃথিবীর ২য় বহৎ মুসলিম রাস্ট্র বাংলাদেশে তার চিত্র পুরো উল্টো। এ অবস্থার পরিত্রানে ব্যবসায়ীদের যেরকম সতর্ক হতে হবে, তেমনি ভোক্তা হিসাবেও সচেতনতার বিকল্প নেই। কারণ দেখে শুনে-যাচাই বাছাই করে পণ্য কেনার বিকল্প নেই। যে পণ্যের দাম বাড়বে সে পণ্য ক্রয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ার কোন অর্থ নেই।

 বক্তাগণ পবিত্র মাহে রমযানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ, পচা-বাসি খাবার বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের দাবি জানিয়ে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানান। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় উপজেলা পর্যায়ে বাজারগুলির ভোগ্যপণ্যের দাম সাধারণ জনগণের নাগালের বাইরে আর এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্য মজুত ও কৃত্রিম সংকট তৈরী করে কাঁচা বাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্ঠি করছে। প্রশাসন যথাযথ ভাবে বিষয়টি তদারকি করলে ১৬ কোটি ভোক্তারাই উপকৃত হবেন। বক্তাগণ পবিত্র রমযান আসলেই একশ্রেণীর ধনাঢ্য ব্যক্তি জনগণের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করে থাকেন। প্রতিবছর ইফতার ও যাকাতের কাপড় সংগ্রহ করতে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সদ্য সংগঠিত সাতকানিয়া ট্রাজেডিতে বিপুল প্রাণহানি ঘটলেও এ ধারা অব্যাহত আছে। এছাড়াও অসংখ্য ধনাঢ্য ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইফতার সামগ্রী বিতরণের কারণে ভোগ্য পণ্যের বাজারে চাপ তৈরী হয়। যার কারণে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ায়। এছাড়াও নগদ অর্থ প্রদান করলে দরিদ্র মানুষ তাঁর প্রয়োজন অনুযায়ী কেনা কাটা করতে পারবে। অন্যদিকে ইফতার সামগ্রী বিতরণের সময় অপচয় ও অব্যবস্থাপনায় বিপুল পরিমাণ সামগ্রী নষ্ঠ হচ্ছে। তাই ইফতার সামগ্রীর পরিবর্তে নগদ অর্থ প্রদানের জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহবান জানান।

চমেক হাসপাতাল : রোগীকল্যাণ সমিতিতে অনুদান প্রদান

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা হতদরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য রোগীকল্যাণ সমিতির তহবিলে ৫জুন অনুদান প্রদান করেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম, লায়লা আনজুমান আরা, হাবিবুল কিবরিয়া, ডাঃ লুৎফুল কবির, আবু মাহদিন মোঃ মুসা, এহেতাশামুল হক, অজ্ঞাত একজন, ইঞ্জিনিয়ার নওশেদ, এমদাদ উল্ল্যাহ, নুরুল ইসলাম, ডাঃ রেজোয়ান রেহান, সৈয়দ সিদ্দীক রেজা, শফিকুল আলম, মনির উদ্দিন, এম এন গ্রুপ, কামাল উদ্দিন, হারাধন মাহেন, হাক্কানী গ্রুপ, আমানুল আলম, ডাঃ গোলাম রব্বানী, এম এইচ খালেদ, আনোয়ারুল ইসলাম, ডাঃ সেলিনা হক, এস এম ফজলুল হক, খোরশেদ, মুজিবুল হক ছিদ্দিকী, ইউনুস চৌধুরী, ডাঃ জাফরুল হক, ডাঃ এরশাদ উদ্দীন, ফুলকলি গ্রুপ, হাজী আবু তাহের, ডাঃ এল এ কাদেরী, সোনিয়া কাদেরী, ডাঃ ফারজানা, জসিম উদ্দিন, মোঃ নাঈমুল হাসান, ডাঃ জেরিন চৌধুরী, গাউসিয়ার ফিড, জিনাত আজম, সকিনা ইউসুফ, বিবি মরিয়ম, লায়লা বেগম, সাবেক কাউন্সিলর রেখা আলম, মোঃ নিজাম উদ্দিন (বিজয় টিভি), অধ্যাপক নাজিম মুরাদ, আতিক উল্ল্যাহ, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান, প্রফেসর ডাঃ মাহফুজুল আনোয়ার, ডাঃ রিজোয়ানা, জেমিন সুলতানা পারু, ডাঃ এম এ জাফর, পরিচালক মেট্রোপলিটন হসপিটাল, মোঃ ফখরুল ইসলাম, শওকত নেওয়াজ প্রমুখ। রোগীকল্যাণ সমিতির তহবিলে অনুদান প্রদান করায় রোগীকল্যাণ সমিতির সভাপতি ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ জালাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক ও হাসপাতাল সমাজসেবা অফিসার অভিজিৎ সাহা সংশ্লিষ্ট সকলকে রোগীকল্যাণ সমিতির পক্ষ হতে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ