ঢাকা, বুধবার 6 June 2018, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২০ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সুযোগ থাকলেও খুমেক হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার ইউনিট চালু হয়নি

খুলনা অফিস : নিজস্ব ভবন ও জনবলের পাশাপাশি সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার চিকিৎসক রয়েছে। এরপরেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হচ্ছে না খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগ। সপ্তাহে মাত্র তিন দিন কেমো থেরাপি দেয়ার জন্য বহির্বিভাগের সেবা চালু রেখেছে এ বিভাগ। ফলে মরণঘাতক এ রোগের জন্য চিকিৎসা পাচ্ছে না এ অঞ্চলের মানুষ। এদিকে সংস্থাপনের মাত্র এক কোটি টাকা বরাদ্দ না হওয়ায় ক্যান্সার ইউনিটের প্রায় ২৪ কোটি টাকা মূল্যের লিনিয়র এক্সেলেটর বা রেডিও থেরাপি  মেশিনটি ৬ বছর ধরে রোদ-বৃষ্টিতে নষ্টের পর অবশেষে ফেরত যাচ্ছে।
হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, গেটের সামনেই পলিথিনে মোড়ানো রয়েছে প্রায় ২৪ কোটি টাকা মূল্যের রেডিও থেরাপি মেশিনটি। ২০১২ সালের তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনায় স্বতন্ত্র ক্যান্সার ইউনিট চালুর জন্য লিনিয়র এক্সেলেটর বা রেডিওথেরাপি মেশিনটি দিয়েছিলেন। মেশিনটি সংস্থাপন ও আনুষঙ্গিক ৫ কোটি টাকার প্রয়োজন ছিলো। চার বছর পর ২০১৬ সালের ৩ মার্চ স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এসে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৪ কোটি টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অবশিষ্ট এক কোটি টাকা গণপূর্ত দিতে রাজি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত মেশিনটি সেখানেই পড়ে আছে। দীর্ঘ ৬ বছরের বেশি সময় মেশিনটি পড়ে থাকার পর ব্যবহার অনুপোযোগী হওয়ায় তা আবার ফিরে যাচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে খুমেক হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগ চলছে শুধুমাত্র বহির্বিভাগের সেবা দিয়ে। চিকিৎসা নেয়ার পরে কোন রোগীর কেমো থেরাপির প্রয়োজন হলে এখানে দেয়া হয়। তবে এসব ওষুধের ব্যয়ভার বহন করে রোগী নিজেই। হাসপাতাল থেকে ক্যানোলা, রেনিটিড ও সাধারণ কয়েকটি ইঞ্জেকশন সরবরাহ করা হয়। প্রতি সপ্তাহে তিন দিন সোম, মঙ্গল ও বুধবার এখানে নির্দিষ্ট সংখ্যক রোগীদের কেমো থেরাপি দেয়া হয়।
বিভাগের রেজিস্ট্রার খাতা পর্যালোচনা করে দেখা গত এক মাসে দুই শতাধিক ক্যান্সার রোগী এখানে কেমো থেরাপি চিকিৎসা নিয়েছেন। নির্ধারিত দিনে অন্যান্য পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে ক্যান্সার রোগীদের এখানে কেমো দিয়ে আবার ভর্তিকৃত ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
এদিকে রেডিও থেরাপিসহ অন্যান্য ক্যান্সার চিকিৎসা এখানে না হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় ১৫ গুণ ব্যয় বেশি হয়। অথচ খুমেক হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার ইউনিট চালুর জন্য একজন চিকিৎসক, ৫ জন করে ইন্টার্ণ চিকিৎসক ও ৫ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স, ওয়ার্ড বয় আয়া সবই রয়েছে। রয়েছে কেমো থেরাপি দেয়ার জন্য ৮টি বেড। তবে, খুলনা মেডিকেল কলেজ-এর সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মুকিতুল হুদা খুলনায় নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও সপ্তাহে তিনদিন তিনি খুলনায় অবস্থান করেন না। ঢাকায় ব্যক্তিগত চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকেন তিনি। বেশ কিছুদিন ধরে খুমেক হাসপাতালে বোনের কেমো থেরাপি দেয়ার জন্য নিয়মিত আসছেন মিত্র শ্যামল। তিনি বলেন, এখানে রেডিও থেরাপি মেশিনটি বছরের পর বছর পড়ে আছে। আর আমার বোনের রেডিও থেরাপি করাতে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ খুলনায় যা লাগতো মাত্র ৫ হাজার টাকা।
হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগের প্রধান ডা. মো. মুকিতুল হুদার (০১৭৬৮-৯৯৪৬৯৪) ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকরার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেনি।
খুমেক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম মোর্শেদ বলেন, পূর্ণাঙ্গভাবে ক্যান্সার ইউনিট চালুর জন্য গণপূর্তের বাঙ্কার, রাস্তা, বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণসহ মোট ৮ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে। যা শেষ হলে ক্যান্সার ইউনিট চালু করা সম্ভব হবে। তবে, অত্যন্ত মূল্যবান এই মেশিনটি ফেরত নিয়ে নতুন মেশিন দেয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাই পুনরায় মেশিন পাওয়া গেলে ক্যান্সার ইউনিট চালু করা হবে।#
বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত : পরিবার থেকেই পরিবেশ সুরক্ষার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। পৃথিবীতে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার স্বার্থেই আমাদের পরিবেশকে ভাল রাখতে হবে। নিজ নিজ উদ্যোগ আর সচেতনতার মাধ্যমে পরিবেশ সুন্দর রাখা সম্ভব। খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আলোচনায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘আসুন প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করি।
আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, প্লাস্টিক পরিবেশ দূষণসহ মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট করে। এছাড়া প্লাস্টিকের আরেকটি রূপ মাইক্রো প্লাস্টিক খাদ্য ও পানির সাথে মিশে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে নানা রোগ ব্যাধি সৃষ্টি করে। বক্তারা পরিবেশ সুরক্ষায় প্লাস্টিকের সীমিত ও পুন:ব্যবহার করা, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা না ফেলা, পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি করাসহ আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষকে পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতন করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান। স্বাগত বক্তৃতা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. হাবিবুল হক খান। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর সালমা বেগম।
সভায় পরিবেশ সুরক্ষায় অবদানের জন্য ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার দেয়া হয়।
এর আগে নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যলয় প্রাঙ্গণে শেষ হয়। খুলনা বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ