ঢাকা, বুধবার 6 June 2018, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২০ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিলেটে ব্যবসায়ীসহ গোটা নগরবাসী হকারের বিরুদ্ধে একাট্টা

সিলেট ব্যুরোঃ কথিত ফুটপাতের রাজা, চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সদ্য মুছলেকা দিয়ে কারামুক্ত সিলেটের হকার্স লীগ নেতা রকীবসহ সকল হকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে  গোটা নগরবাসী। পবিত্র রমযান মাসে ফুটপাতের পাশাপাশি রাস্তা দখল করে ব্যবসা করায় সিলেটের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীসহ বিভাগীয় নগরী সিলেটের সকল মানুষ হকারের বিরুদ্ধে একাট্টা। গত সোমবার ইফতারের পূর্বে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীদের উপর হামলা নগরভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হকাররা। এর পুরো ঘটনার নেতৃেত্ব ছিলেন হকার্স লীগ সভাপতি আব্দুর রকীব। এসএমপির বন্দর বাজার ফাড়ি থেকে নগর ভবনের দূরত্ব মাত্র প্রায় ১০০ গজ। রকীবের নেতৃত্বে গত সোমবার সন্ধ্যায় যখন নগরভবনে কর্মচারীদের হকাররা নির্মমভাবে পিটায় পুলিশ তখন ছিল দর্শকের ভূমিকায়। এরপর সিটি কর্পোরেশনের সকল কর্মচারী ঐক্যবদ্ধ হয়ে রকীবকে আটক করে। তখন বন্দরবাজার পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসে চাঁদাবাজ রকীবকে উদ্ধার করে পুলিশ ফাড়ির সামনে নিয়ে ছেড়ে দেয়। পুলিশের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। গত  সোমবার রাতে এক সমাবেশ থেকে সিলেটে সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা হকারদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। আহত কর্মচারীরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসএমপির কোতোয়ালী থানায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে আহত কর্মচারীগণের বাদী হয়ে রকীবসহ হকারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার কথা। গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী মেয়র আরিফ ছিলেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ফুটপাত মুক্ত করতে সোচ্চার।
সিলেট নগর ভবনে গত সোমবার ইফতারের আগে হকার্স লীগ নেতা রকীবের নেতৃত্বে সিসিক কর্মচারীদের উপর হামলা এবং সিসিক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর আহবানে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর কুমারপাড়াস্থ মালঞ্চ কমিউনিটি সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. মোহাম্মদ লালার সভাপতিত্বে ও ব্যবসায়ী নেতা নাজমুল হকের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন- সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সহ সভাপতি আব্দুল জব্বার জলিল, সুজনের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, জেলা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি শেখ মো. মকন মিয়া, সিটি কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ, ফরহাদ চৌধুরী শামিম, আফতাব হোসেন খান, সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকরামুল কবির, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ, বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কীম প্রমুখ।
সভার শুরুতে গত সোমবার ইফতারের পূর্বে সৃষ্ট ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
সভায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা, ঘটনা অবহিত করে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। এতে সভায় উপস্থিত সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সকলে একমত পোষণ করেন।
এসময় নেতৃবৃন্দ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর উদ্দেশ্য করে বলেন- কোন রক্তচক্ষু দেখে তিনি যেন হকার উচ্ছেদ অভিযান থেকে সরে না যান। নগরবাসী তাঁর সাথে আছে। হকার্স লীগ নেতা আব্দুর রকীবের খুটির জোর নিয়েও প্রশ্ন তুলেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
 নেতৃবৃন্দ আরো বলেন- আজকে যারা এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে তারা হকার নয়, এরা হকার নামধারী সন্ত্রাসী। নগরভবনে হামলার মাধ্যমে তারা প্রমান করেছে তারা সন্ত্রাসী। তারা সিলেট নগরবাসীকে জিম্মি করে রাখতে চাইছে। কোন অবস্থায়ই তাদেরকে রাস্তায় বসতে দেওয়া যাবে না।
সভায় সিলেটের ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ করে বলা হয়- তাদের কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে যেন তারা হকারদের বসতে না দেন।
যদি কোন ব্যবসায়ী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে হকার বসার সুযোগ করে দেন, তবে সিলেট চেম্বার থেকে তার সদস্যপদ বাতিলের হুশিয়ারি দিয়েছেন সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ। একই সাথে কেউ এধরণের কাজ করলে তাদের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করার জন্যও তিনি মেয়রকে অনুরোধ জানান।
উল্লেখ্য, গত সোমবার ইফতারের পূর্বে সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নগরীর বন্দরবাজারে হকারদের সড়কে না বসতে অনুরোধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হকার্স লীগ নেতা আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে হকাররা নগর ভবনে হামলা চালায়। পরে সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে হকারদের প্রতিহত করেন। এ ঘটনার পর হকাররা নিজেরাই নগরীর বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজার এলাকায় হকারদের দোকানপাট ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। তারা মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিছিলও করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ