ঢাকা, বুধবার 6 June 2018, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২০ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর অংশের সংস্কার কাজের ধীরগতি

মাদারীপুর সংবাদদাতা : দীর্ঘদিনে সংস্কার না হওয়ায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর অংশের ১৫ কিলোমিটার এখন খানাখন্দ আর গর্তে ভরা। মহাসড়কটির অনেক স্থানের কার্পেটিং উচু-নিচু হয়ে এবরো-থেবরো হয়ে আছে। গত দুই মাস আগে মহাসড়কের ভুরঘাটা থেকে মস্তফাপুর পর্যন্ত কার্পেটিং করা শেষ হয়ে গেলেও বর্তমানে ঈদকে সামনে রেখে মস্তফাপুর থেকে টেকেরহাট পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়ক ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কার্পেটিং করার কাজ চলছে। ধীরগতিতে কাজ চলায় ঈদের আগে কাজ শেষ হবে না বলে আশংকা করা হচ্ছে। উপরন্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সংস্কার কাজ চলছে, নি¤œমানের কাজ করার অভিযোগ উঠেছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলা মোড় থেকে বরিশালের সমীন্তের ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার সড়ক মাদারীপুর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর অধীনে রয়েছে। মহাসড়কটির এই ৪৭ কিলোমিটারের বিভিন্ন অংশ বছর দু’য়েক ধরে ভাঙ্গা চোরা ও খানাখন্দে ভরপুর। এতে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক পথের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ নিয়ে যাতায়াত করতেন। কিন্তু গত দুই মাস আগে ভুরঘাটা থেকে মস্তফাপুর পর্যন্ত ২৫ কিমি: এর মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ কার্পেটিং করা শেষ হলেও বাকী অংশের কাজ চলছে। তবে তা খুবই ধীর গতিতে চলছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। তবে ঈদকে সামনে রেখে কাজের গতি আগের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে মস্তফাপুর থেকে টেকেরহাট পর্যন্ত ১৫ কিলেমিটার সড়ক ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কার্পেটিংয়ের কাজ করানো হচ্ছে। যার প্রতি কিলোমিটারের ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি টাকা। এবং টেকেরহাট থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত কোথাও কোথাও কার্পেটিং আর কোথাও কোথাও খানাখন্দ সংস্কার করা হচ্ছে।
এই রুট দিয়ে নিয়মিত মালবাহী ট্রাক চালক মজিবর রহমান বলেন, আমি নিয়মিত ফরিদপুর-বরিশাল এই মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করি। গত দুই মাস ধরেই মাদারীপুরের অংশের রাস্তার কাজ খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। কিন্তু রাস্তা আগের চেয়ে এখন ভাল হলেও কাজের মান বেশি ভাল হয়নি। এই রাস্তা আগামী দুই বছরও টিকবে না। বড় বড় ট্রাকের চাপে রাস্তার বিভিন্ন স্থানের কার্পেটিং সরে গেছে।’Ñএকই ধরনের কথা বললেন কয়েকটি যাত্রীবাহী পরিবহনের চালক ও হেলপার।
মাদারীপুর থেকে ফরিদপুরগামী শুভযাত্রা পরিবহনের চালক কবির মোল্যা বলেন, ‘প্রতিদিন এই রুটে চলাচল করি। রাস্তায় গর্ত আর ভাঙ্গা থাকায় গাড়ি সঠিক নিয়ন্ত্রণে চালানো কষ্টকর। এতে নির্ধারিত স্থানে সময় মত পৌঁছানো সম্ভব হয়না। এক ঘন্টার রাস্তা শেষ করতে সময় লাগে দেড় ঘন্টা।’, কাজ যে গতিতে এগিয়ে চলছে, তাতে আগামী ঈদের ভেতরে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না।
মাদারীপুর সচ্ছতার জন্য নাগরিক (সজন) কমিটির সদস্য কুমার লাভলু বলেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহন চলাচলে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার  হচ্ছে।
অনেক সময় যানবাহন বিকল হয়ে গেলে যানজট সৃষ্টি হয়ে যাত্রী ও চালকরা দুর্ভোগে পড়ে। আমরা দেখছি সড়ক বিভাগ এই সড়কের কাজ তেমন করছে না। নামে মাত্র সংস্কার করছে। সড়কটি সঠিক সংস্কারে উদ্যোগ নেয়া উচিৎ।
মাদারীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুন নবী তরফদার বলেন, ‘আমরা ঈদের আগে এই সড়কের কাজ প্রায়ই শেষ করে  ফেলার চেষ্টা করব। তবে বৃষ্টি হলে আমাদেরই বা কি করার। তাই এখন পুরোদমে কাজ চলছে। সড়কের কোথাও এখন গর্ত নেই। ইটের খোয়া আর পাথর দিয়ে গর্ত ভরাট করা হয়েছে। এখন সড়কে ওভার লেনের কাজ চলছে। আশা করছি ঈদের আগে কাজ শেষ হয়ে যাবে। ঈদ যাত্রীয় এই সড়কে কোন প্রকার দুর্ভোগ হবে না।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ