ঢাকা, বুধবার 6 June 2018, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২০ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঈদের প্রাক্কালে সড়ক-মহাসড়ক প্রসঙ্গে

এটা এখন আর নতুন খবর নয় যে, এবার বৈশাখেরও আগে থেকে জৈষ্ঠের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত প্রবল বর্ষণে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে। এখনও বৃষ্টি হচ্ছে যখন-তখন। এমন অবস্থায় দরকার যেখানে ছিল সকল সড়ক-মহাসড়ক মেরামতের কাজে হাত দেয়া সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে মেরামতের কাজ বলতে গেলে ঢিলেঢালাভাবে চালানো হচ্ছে। দেশের বহু এলাকায় মেরামতের কাজ তেমনভাবে শুরুও করা হয়নি। ওদিকে এগিয়ে আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। মাঝখানে সময় রয়েছে মাত্র দিন দশেক। ফলে ধরেই নেয়া হচ্ছে যে, আসন্ন ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাতায়াত শুধু কষ্টকরই হবে না, প্রাণহানির সংখ্যাও এবার নতুন রেকর্ড তৈরি করতে পারে। সেই সাথে দুর্ঘটনায় আহতও হবে অনেকে। এ ধরনের আশংকার কারণেই জরুরি ভিত্তিতে সড়ক-মহাসড়কের মেরামত শুরু করার জন্য তাগিদ দেয়া হয়েছে সরকারকে।
গণমাধ্যমের রিপোর্টে প্রসঙ্গক্রমে বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও জানানো হচ্ছে। যেমন গতকাল দৈনিক সংগ্রামের এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ঈদের প্রাক্কালে এসেও খানা-খন্দক ভরাট করাসহ সংস্কারের কাজ কোনোরকমে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে দায়সারাভাবে। দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর বেশির ভাগই এখনও নিরাপদ চলাচলের উপযোগী হয়নি। ফলে ঈদের সময়ের কথা ভেবে সাধারণ মানুষ তো বটেই, ভীত হয়ে পড়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরাও। এদিকে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সর্বশেষ জরিপ উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশের সড়ক-মহাসড়কের ২৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি রয়েছে ভাঙাচোরা অবস্থায়। এর মধ্যে ১৫৪৩ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। বাকি ১০৭৩ কিলোমিটারের অবস্থাও নাজুক। সে কারণে ঈদের চাপ শুরু হওয়ারও অনেক আগে থেকে বিভিন্ন এলাকার সড়ক-মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। দুর্ঘটনা তো ঘটছেই।
প্রসঙ্গক্রমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করা হচ্ছে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে। কখনো চার লেন আট লেনের কথা বলে, কখনো আবার ট্রেনের জন্য ফ্লাইওভার নির্মাণের যুক্তি দেখিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে শত শত যানবাহনকে আটকে রাখা হচ্ছে। এ অবস্থা চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই। এবড়ো-থেবড়ো ও বহুস্থানে ভেঙে যাওয়া এ মহাসড়কটিতে পাঁচঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে হলেও আজকাল ১২-১৪ ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে সিলেট ও কুমিল্লাগামী বাসগুলোকেও বেশ কয়েক ঘণ্টা যানজটের ফাঁদে আটকে থাকতে হচ্ছে। কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের মধ্যে এমন বহু কিলোমিটার সড়ক রয়েছে যেগুলোর অবস্থা এত বেশি শোচনীয় যে, মোটামুটি চলাচলযোগ্য করে তুলতেও মেরামত করতে হবে অন্তত মাসখানেক সময় নিয়ে।
ওদিকে বগুড়া ও রংপুর-দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলে যাতায়াত করা বহুদিন ধরেই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। যমুনা সেতু চালু হওয়ার আগে যখন আরিচা ও নগরবাড়ি হয়ে ফেরিতে যাতায়াত করতে হতো তখন ঢাকা থেকে বগুড়া যেতে গড়ে সময় লাগতো ছয় ঘন্টা। কিন্তু আজকাল যমুনা সেতু দিয়ে ১০/১২ ঘণ্টার আগে বগুড়া যাওয়া বা বগুড়া থেকে ঢাকায় আসা সম্ভব হয় না। যানজটের কারণে প্রতিদিন বরং সময়ের ব্যবধান বেড়ে চলেছে। আশংকা করা হচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে আসন্ন ঈদুল ফিতরের সময় মানুষকে ভীষণ কষ্টের মধ্যে পড়তে হবে। তার ওপর বৃষ্টি যদি হয় তাহলে ভোগান্তির কোনো শেষ থাকবে না। অনেকে হয়তো যানজট ও বিড়ম্বনার ভয়ে বাড়িতেই যাবেন না।
উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে সড়কপথে বগুড়ার দূরত্ব ১৯০ কিলোমিটার। মাঝখানে রয়েছে টাঙ্গাইল জেলা। টাঙ্গাইল হয়ে যমুনা সেতুর প্রবেশমুখ এলেঙ্গা পর্যন্ত দূরত্ব ৯৪ কিলোমিটার। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কটিকে চার লেনের সড়কে পরিণত করার জন্য বেশ কয়েক বছর ধরে মাটি ও বালু ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু সে কাজ চলছে শম্ভুক গতিতে। ঠিকাদারিও পেয়েছে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয় না বলে তারা কাজ করে যাচ্ছে নিজেদের ইচ্ছামতো। সে কারণে এক মাসের কাজ শেষ হতে পেরিয়ে যাচ্ছে ছয় মাস পর্যন্ত। জানা গেছে, ২০১৮ সালের মধ্যে চার লেনের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদাররা এমন ধীর গতিতেই কাজ করছেÑ যাতে সময়ের সঙ্গে টাকার পরিমাণও বাড়ানো যায়। এজন্যই আসন্ন ঈদের সময় টাঙ্গাইল হয়ে যাতায়াতও অত্যন্ত কষ্টকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এখানে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকা-বগুড়া-রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত মহাসড়কের উদাহরণ দেয়া হলেও বাস্তবে দেশের সবস্থানে সব সড়ক-মহাসড়কের অবস্থাই অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে। এভাবে নাম ধরে ধরে এলাকার উল্লেখে যাওয়ার পরিবর্তে এক কথায় বলা যায়, দেশের কোথাও কোনো সড়ক-মহাসড়কই নিরাপদে যান চলাচলের উপযোগী অবস্থায় নেই। ঈদের আসা-যাওয়ায় যা মারাত্মক সংকট সৃষ্টি করবে। দুঃখজনক যোগাযোগ মন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই এ সড়ক থেকে ও সড়কে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ