ঢাকা, বুধবার 6 June 2018, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২০ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চুয়াডাঙ্গায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪৬ প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য

চুয়াডাঙ্গা সদর সংবাদদাতা: চুয়াডাঙ্গা জেলায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪৪৬। এর মধ্যে প্রধান  শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে  ১৪৬টি। দীর্ঘদিন ধরে এসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমসহ প্রশাসনিক কাজ কর্মে নানা জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার  সাইফুল ইসলাম এর সাথে কথা বলে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক ঘাটতি নেই।  কিন্তু উপজেলা শিক্ষা অফিস ভিত্তিক খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় ভিন্ন চিত্র। আলমডাঙ্গা শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা উপজেলায়  সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৩৭। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক  পদ শূন্য আছে ৩১ ও সহকারী শিক্ষক শূন্য ৫ জন। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় মোট  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১২২। সরকারী ১২১ এবং বেসরকারী ০১। প্রধান শিক্ষক শূন্য আছে ৪৮ ও সহকারী শিক্ষক ২৫।  দামুড়হুদা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৬। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য আছে ৪১ ও সহকারী শিক্ষক ০১। জীবননগর উপজেলায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭১।  এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য আছে ২৫ ও সহকারী শিক্ষক  শূন্য আছে ০৪ জন ।এসব কারণে ঐ সব বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। 
জানা গেছে, শিক্ষকদের অবসর, মৃত্যু, ডি,পি,এড কোর্সে প্রশিক্ষণে থাকা ও মাতত্বৃকালীন ছুটিতে  থাকায় এ পদগুলি শূন্য আছে। আবার গ্রামের স্কুলে নিয়োগ পাওয়া  শিক্ষকেরা শহরমুখি হওয়ায় শিক্ষক সঙ্কটে  পড়েছে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে। ফলে ঐ সব বিদ্যালয় গুলোতে ঠিক মত লেখা পড়া হচ্ছে না বলে মনে করেন ভুক্তভোগী অভিভাবকরা। আবার উপজেলা শিক্ষা অফিসারের প্রস্তাব অনুসারে ইতিপুর্বে জেলা অফিসার প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দিয়ে আসতেন। কিন্তু বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের পদটি ২য় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায়  পদোন্নতির বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপর ন্যস্ত হয়েছে। ফলে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি জটিল আকার ধারন করেছে। বেশি সমস্যা দেখা যায় নবজাতীয়করণ  বিদ্যালয়গুলোতে। যেখানে ঐ বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক থাকার কথা ৫ জন। 
সরকারীকরণের কিছুদিনের মধ্যে ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ বিভিন্ন তদবির করে চলে গেছেন  পুরাতন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে। এ বিষয়ে কথা হয় নতুন জাতিয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক রুহুল কুদ্দুসের সাথে। তিনি সরকারীকরণের পর একই ইউনিয়নের পুরাতন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কুতুবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন। তিনি নতুন বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর তার পুরাতন বিদ্যালয় আসানন্দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য হয়েছে।
এদিকে আশরাফুল আলম জোয়ার্দ্দার নীলমনি গঞ্জ  নব জাতীয়করণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তার নিজ গ্রাম শরিষাডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন। নব জাতীয়করণ এ বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের বেশির ভাগ ডি,পি,এড না থাকার কারণে সরকারীকরণের পর অনেক শিক্ষককে ডি,পি,এড কোর্সে ভর্র্তি হতে হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ৫জন শিক্ষকের মধ্যে একজন ডি,ডি,এড কোর্সে ভর্তি অথবা একজন  মাতত্বৃকালীন ছুটি নেওয়ার কারণে বিদ্যালয় ৩ জন শিক্ষকে পরিণত হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়  প্রধান শিক্ষককে শিক্ষা অফিস বা অন্য কাজে প্রায় ব্যস্ত থাকার কারণে  ২ বা ৩ জন শিক্ষককে বিদ্যালয়ে পাঠ দান করতে বাধ্য হতে হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ