ঢাকা, বুধবার 6 June 2018, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২০ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কাহালুতে অনুমোদন বিহীন গড়ে উঠা কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লাচ্ছা সেমাই তৈরি হচ্ছে

কাহালু (বগুড়া) সংবাদদাতা : রমজান ও ঈদকে রেখে বগুড়ার কাহালু উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে অনুমোদন বিহীন অস্থায়ীভাগে গড়ে ঊঠা কারখানা গুলোতে প্রতিদিন ভয়াবহ অস্বাস্থ্যকর-নোংড়া পরিবেশে তৈরী করা হচ্ছে টনকে টন লাচ্ছা সেমাই। উপজেলার কাজিপাড়া, শেখাহার, ডেপুইল ও ভোলতা, সান্দুইল,ওনতাপকুর বীরকেদার ইউনিয়ন পরিষদের সন্নিকটে, বীরকেদার আমতলা, কাশ্মিমালা জাকিরের ইটভাটার কাছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় গড়ে তোলো এই কারখানা গুলো। কাহালু হাসপাতালের সেনেটারী ইনেসপেক্টর আঃ ছালামের মতে শেখাহার এলাকার রুবেল হোসেনের নুর লাচ্ছা সেমাই কারখানা ও সাজ্জাদের ভাই ভাই লাচ্ছা সেমাই কারখানার বি এস টি আই এর অনুমোদন আছে। বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা বাঁকী প্রায় ২০ টির মতো অস্থায়ী লাচ্ছা সেমাই কারখানায়র মধ্যে কয়েকজন কারখানায় সেমাই তৈরীর জন্য আবেদন করলেও বি এস টি আই তাদেরকে অনুমোদন দেয়নি। আবার অনেকে কাহালু  অস্থায়ীভাবে লাচ্ছা সেমাই তৈরীর জন্য কোথাও আবেদনই করেনি। সম্প্রতি ভেজাল বিরোধী অভিযানে কয়েকটি কারখানা মালিকের জরিমানা ও এক কারখানা মালিকের ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা পর্যন্ত হয়েছে। সম্প্রতি ২ কেজির মতো রং সহ প্রায় আড়াই হাজার কেজি অস্বাস্থ্যকর সেমাই জব্দ করে ম্যাজিস্ট্রেট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সেগুলো ভ্রাম্যমান আদালতের আদেশে পুড়িয়ে ফেলে ধ্বংস করা হয়। তারপরেও থেমে নেই এই সেমাই কারখানা গুলোতে অস্বাস্থ্যকর ও ভয়াবহ নোংড়া পরিবেশে সেমাই তৈরীর কাজ। বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে দিনের বেলায় দু-একটি কারখানায় লোক দেখানোর মতো করে পরিস্কার রাখা হয়। আবার কোনো কোনো কারখানায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার হিসাব-নিকাশ তারা করছেনা। অস্বাস্থ্যকর আর নোংড়া পরিবেশ যাই হোক অনেক বেশী করে সেমাই তৈরী করে ঈদ পর্যন্ত মোটা অংকের টাকা কামাই করতে হবে। যত সামান্য জরিমানা দিয়ে রেহাই পাওয়া যায় এমনটা মনে করে অনেকে প্রশাসনের তোয়াক্কাই করছেনা। ভেজাল বিরোধী অভিযান শেষ হতে না হতে আবারও তারা তৈরী করছে অস্বাস্থ্যকর-নোংরা পরিবেশে সেমাই তৈরীর কাজ। সন্ধ্যার পর থেকে কারখানায় শুরু হয় ভয়াবহ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরীর কাজ। রাতভর সকাল অবধি চলে পা দিয়ে ময়দা ছানার কাজ। ধুলা-বালুর মধেই সেমাই তৈরীর জন্য গুটি করা হয় ময়দা। তারপর হাতে গ্লাবস্ ছাড়াই তৈরী করা হয় লাচ্ছা সেমাই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী এবং স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি এখানকার লাচ্ছা সেমাইগুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। খুব কম দামে এই সেমাই কিনতে এখানে প্রতিদিন হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন বিভিন্ন জেলার একশ্রেণীর লোভী ব্যবসায়ী। তারা জনস্বাস্থ্যের কথা না ভেবে এখান থেকে ট্রাকে ট্রাকে সেমাই নিয়ে গিয়ে নিজ এলাকায় জনসাধারনের কাছে অধিক মুল্যে বিক্রি করছে।  স্থানীয় লোকজনের মতে বীরকেদার ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ মেঃ টন লাচ্ছা সেমাই দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। অনেকের মতে এই সেমাইগুলো খেলে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুঁিক হতে পারে। কাহালু হাসপাতালের সেনেটারী ইনেসপেক্টর আঃ ছালামের মতে ভেজাল বিরোধী অভিযানের ফলে কিছুটা হলে সেমাই কারখানা গুলোর পরিবেশ আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। এদিকে তার কথার প্রেক্ষিতে সরোজমিনে সেমাই কারখানা গুলোতে গিয়ে লক্ষ্য করা গেছে রাস্তা সংলগ্ন কারখানা গুলোর পরিবেশ কিছুটা ভালো রাখা হয়েছে। আর লোকচক্ষুর আড়ালে কারখানা গুলো রয়েছে সেখানে চলছে খুবই নোংরা পরিবেশে সেমাই তৈরীর কাজ। তার উদাহরণ কাজিপাড়া স্ট্যান্ডের উত্তর পাশে হাছেন আলীর সেমাই কারখানা। ঠিক একই রকম কারবার চলছে অন্যান্য কারখানা গুলোতেও। প্রশাসনের তৎপরতা কিছুটা কমে যাওয়ায় এখানে যেভাবে সেমাই তৈরী করা হচ্ছে তা মানুষের খাওয়ার জন্য উপযোগী এবং স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ ব্যাপারে কাহালু উপজেলা নির্বাহি অফিসার আরাফাত রহমানের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, আবার অভিযান চলবে। মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি এই ধরনের সেমাই বা খাবার প্রস্তুত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ