ঢাকা, বুধবার 6 June 2018, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২০ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাপাহারে ঈদের বাজার জমে উঠেছে

সাপাহারে ঈদের বাজারে মাসুম ক্লথ স্টোরে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়

সাপাহার (নওগাঁ) সংবাদদাতা: আসন্ন পবিত্র ঈদের দিন ঘনিয়ে আসতে শুরু করেছে মাত্র কয়েক দিন বাঁকীঁ। ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে নওগাঁর সীমান্তবর্তী সাপাহার উপজেলার বাজারগুলো ক্রেতাসাধারণের সমাগমে তার চেয়ে অধিক পরিপূর্ণ পরিলক্ষিত হচ্ছে,জমে উঠেছে পবিত্র ঈদের বাজার। সদরের বিভিন্ন মার্কেটের শপিং মল থেকে শুরু করে ফুট পাতের দোকান গুলোতে তিল ধরনের ঠাঁই নেই। ঈদে চাই নতুন পোশাক। তাইতো সাধ আর সাধ্যের মধ্যে না থাকলেও প্রিয় জনকে উপহার দিতে ধনী ও মধ্যবিত্তদের পাশাপাশি কেনা কাটায় ব্যস্থ সময় পার করছে নিম্নবিত্তের মানুষ গুলোও।
উপজেলা শহরে বসবাসকারী জনসাধারণ ছাড়াও বিভিন্ন গ্রাম সহ পার্শ¦বর্তী উপজেলা হতে দলে দলে লোকজন প্রতিদিন ঈদের বাজার করতে আসছে উপজেলা শহরে। সাপাহার উপজেলা শহরের নিউমার্কেট, লাবনী সুপার মার্কেট, চৌধুরী মার্কেট, গিয়াস মার্কেট, ভাইবোন মার্কেট, হক সুপার মার্কেট, সোনার বাংলা মার্কেট সহ বিভিন্ন মার্কেটের প্রথম পছন্দের তরুণ তরুণীদের কসমেটিক,ছোট বড় ১২০টি কাপড়ের বিপনী বিতানগুলোতে এবারের ঈদের কালেকশনে নজর কাড়া বাহারী পোশাকের ঝলকের মধ্যে আগের বছরের পোশাক গুলোই বেশি বেশি নজর কাড়ছে ক্রেতাদের,এগুলোর মধ্যে বাহুবলী, ঋষিকা, সেলফি, কুলফি, পাহাড়পুরি, আনারকলি, ডিভাইডার গাওন, জিপসী সহ হরেক রকমের বাহারী থ্রী-পিস, লেহেঙ্গা, ফতোয়া, সেলোয়ার, কামিজ। ছোলেদের জন্য রয়েছে, টি শার্ট, গেঞ্জী, পাঞ্জাবী, জিন্সপেন্ট, শর্ট পেন্ট, রাখিবন্ধন, পটল কুমার, বজরাঙ্গি ভাইজাং, ফ্লোর টার্চ, লাসা, লং স্কট, আকৃষ্ট করেছে দেশীয় পণ্য টাঙ্গাইল শাড়ি, জামদানী, খদ্দর, মনীপুরী, রাজগুরু, বালুচুরী, জর্জেট শাড়ি ইত্যাদি।
লাবনী সুপার মার্কেটের মাসুম ক্লথ ষ্টোর এর দোকান মালিক মজিবর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলম এর সাথে কথা হলে তারা জানান যে, এবারের ঈদে তারা সেরা ডিজাইনগুলিই তাদের দোকানে এনেছেন এবং মেয়েদের একটি পোশাক সর্বোচ্চ ১০০০০-১২০০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। প্রতিদিন তারা কেনাবেচা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। গতবারের তুলনায় প্রতিদিন দ্বিগুন বেচা-কেনা হচ্ছে। তারা দুই জন১সহ ১৫ জন কর্মচারী এখন দিন রাত সমান তালে কেনা-বেচায় মত্ত রয়েছেন এছাড়াও ক্রেতা সমাগম দেখা গেছে বাসমা ফ্যাসন,অহনা,নিউ লুক,মৌ ফ্যাশন,সুলতান ক্লথ ষ্টোর,জুয়েল ক্লথ ষ্টোর,রুবেল ক্লথ ষ্টোর,আলভী ক্লথ ষ্টোর,নাজমা ক্লথ ষ্টোর,হক ক্লোথ ষ্টোর গুলোতে।
এ ছাড়াও সাধারণ খেটে খাওয়া গরীব মানুষদের কেনা কাটা করার জন্য সাপাহারে রয়েছে ফুটপাত বা জনতা মার্কেট নামে সেটের দোকান সেখানেও রয়েছে প্রচুর রকমের বাহারী পোষাক, এখানকার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ সে সব সেটের দোকানে গিয়ে তাদের ও তাদের সন্তানদের জন্য পছন্দের পোষাক কিনছে।বিপনি বিতান গুলোতে সব সময় জনতার ভিড় লেগেই আছে। জনতা মার্কেটে বসে কাপড় কেনার সময় গ্রামের দিনমজুর রফিকুল ইসলামে সাথে কথা বলে জানা গেল সে তার স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে করে ঈদের নতুন কাপড় কিনতে এসেছে। তাকে প্রশ্ন করতেই সে প্রতিবেদককে জানান যে, অতীতে গ্রামে এধরনের প্রচলন ছিলনা, আমি ও আমার ভাই বোনরা প্রতিটি ঈদে তুলে রাখা পুরাতন কাপড় পরে ঈদের নামাজ আদায় করেছি। এখনকার ছেলে মেয়ে সে কথা শোনেনা। তাদের বায়না গ্রামের ধনী পরিবারের ছেলেমেয়েরা ঈদে নতুন পোষাক পেলে আমরা কেন পাবনা। তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে আজ বাজারে এসেছি ছেলে মেয়েদের জন্য নতুন পোষাক কিনতে। আমরা গরীব তাই মার্কেটের বড় বড় দোকানগুলোতে জেতে পারিনি জনতা মার্কেটের এই সেটের দোকানে এসেছি। তাদের নিজের জন্য নয় প্রায় আড়াই হাজার টাকা খরচ করে দু’সন্তানের নতুন কাপড়, জুতা সেন্ডেল কিনেছি।
আমরা খেটে খাই আগের তুলনায় এখন অনেক বেশী মজুরী পাই বর্তমানে সাপাহারে আমের মৌসুম চলছে। মালিকদের বাগানে দিন মজুরীর কাজ করে প্রতিদিন যা পাই খেয়ে পরে কিছু সঞ্চয় করতে পারি আর সে সঞ্চয় দিয়েই আজ সন্তানদের কাপড় চোপড় কিনলাম সন্তানদের সুখই আমাদের সুখ।
এবারে উপজেলা সদর ছাড়া গ্রামের লোকজন বেশী আসছে ঈদের কেনা-কাটা করতে। সাপাহার উপজেলা ছাড়া পার্শ্ববর্তী পতœীতলা, পোরশা ও ধামইরহাট উপজেলা হতে অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন ঈদের বাজার করতে সাপাহারে আসছে। সাপাহারে এখন জমজমাট ভাবে প্রতিটি মার্কেটে ঈদের কেনা-বেচা চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ