ঢাকা, বৃহস্পতিবার 7 June 2018, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মাদক বিরোধী অভিযানে প্রতিটি হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করুন -মওদুদ

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএফইউজে ও ডিইউজের উদ্যোগে সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন বন্ধ এবং মাহমুদুর রহমান ও শওকত মাহমুদসহ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা-সন্ত্রাসের প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দেশব্যাপী হঠাৎ কেনো মাদকবিরোধী অভিযান? এমন প্রশ্ন তুলে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, এই অভিযানের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের চেষ্টা চলছে। চলছে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। এর পেছনে সরকারের দুরভিসন্ধি রয়েছে। এই অভিযানে প্রতিটি হত্যার জন্য বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন তিনি। গতকাল বুধবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন বন্ধ এবং মাহমুদুর রহমান ও শওকত মাহমুদসহ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা সন্ত্রাসের প্রতিবাদ’ শীর্ষক যৌথভাবে এই সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।
বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ও ডিইউজে’র যুগ্ম সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদের পরিচালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক  সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিএফইউজের মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, সহকারীমাহাসচিব আহমদ মতিউর রহমান, ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি বাছির জামাল, ডিইউজের প্রচার সম্পাদক দেওয়ান মাসুদা সুলতানা, সংস্কৃতি সম্পাদক আবুল কালাম, বিএফইউজের প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।
প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে নির্যাতন নিপীড়ন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। কারণ এই সরকারের কোনো জবাবদিহিতা নেই। এই সরকার একদলীয় এবং ভোটারবিহীন অবৈধ সরকার। এজন্যই সাংবাদিকদের ওপর বেশি নির্যাতন। কারণ তারা জনগণের মনের কথাগুলো লেখে এবং কিছুটা হলেও বলে।
আমি বলব- এসব নির্যাতন বন্ধ করতে হলে আমাদেরকে কঠিন আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমেই সভ্যতা ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। আজকে সরকার বলছে উন্নয়শীল দেশের কথা। কিন্তু সভ্যতা, মূল্যবোধ, গণতন্ত্র ও সুশাসন না থাকলে উন্নয়শীল বলাটা অর্থহীন।
 বেগম জিয়ার কারাবন্দী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী করেছে। উচ্চ আদালত জামিন দিলেও নিম্ন আদালত জামিন দিচ্ছে না। তারা সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ সত্যিকারার্থে আর নেই। মাসদার হোসেন মামলার কার্যকারিতাও নেই।
মওদুদ আহমদ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, আপনারা খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্বিত করতে পারেন। কিন্তু তিনি মুক্তি পাবেন। আমাদের দলের নেতৃত্ব দেবেন। বিএনপি বেগম জিয়ার নেতৃত্বেই আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে এবং বাংলাদেশে আগামী দিনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে ইনশাল্লাহ।
বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা প্রত্যাশা করি আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে। বিশেষ করে গ্রামের ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবেন নিঃসঙ্কোচে। কোনো সমস্যা থাকবে না। এর বাইরে কোনো নির্বাচন জনগণ মানবে না, হতেও দিবে না।
 দেশব্যাপী মাদবিরোধী অভিযানে সরকারের দুরভিসন্ধি রয়েছে মন্তব্য করে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, গত নয় বছরে বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশে মাদকের বিস্তার লাভ করেছে। মাদকের সাথে সরকারের সবাই জড়িত। এই সরকারই মাদকের সুযোগ করে দিয়েছে। আজকে তরুণদেরকে মাদকের মাধ্যমে চেতনা থেকে দূরে রেখেছে সরকার।
তিনি বলেন, সরকার এতোদিন কোথায় ছিল? হঠাত করে কেনো মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করল? আসলে এর মাধ্যমে সরকার মানুষ হত্যার লাইসেন্স দিয়ে দিছে। সংবিধানের কোথায় আছে যে বিচারবহির্ভূত মানুষ হত্যা করা যাবে? আসলে দেশে আইন নেই। এ জন্যই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলছে। কারণ এই সরকার আইনের শাসনে, জনগণের মতামতকে বিশ্বাস করে না।
তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে এখন পর্যন্ত যারা ক্রসফায়ারে মারা গেছে তাদের ৮০ থেকে ৯০ ভাগ মাদকের সাথে জড়িত নয়। ৭৯ জনের যে তালিকা করা হয়েছিল তাদের তো কেউ ধরা পড়েনি। অন্যদিকে কক্সবাজারের বদিকে বিদেশ যেতে সহায়তা করা হলো!
‘বিএনপির মাদকব্যবসায়ীদের খোঁজা হচ্ছে’ আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মওদুদ আহমদ বলেন, তাহলে এতদিন যাদের ধরলেন আর মারলেন তারা কি আওয়ামী লীগের লোক? আসলে আমরা যে আশঙ্কা করেছিলাম এই অভিযানের বিরুদ্ধে দুরভিসন্ধি রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা হচ্ছে। আমাদের অনেক নেতাকর্মীর তালিকা করা হয়েছে। আমি বলব- এসব অবিলম্বে বন্ধ করুন। প্রকৃতপক্ষে যারা মাদকব্যবসায়ী তাদের শীর্ষ নেতাদের ধরুন।
মাদকবিরোধী অভিযানে নিহতদের বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে প্রত্যেক হত্যাকান্ডেরই তদন্ত করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রাক্তন বিচারক দিয়ে এই কমিটি করতে হবে।
মাহমুদুর রহমান বলেন, বর্তমান দখলদার সরকারের আমলে অসংখ্য সাংবাদিক মিথ্যা মামলার শিকার। প্রবীণ সাংবাদিক ও সম্পাদক শফিক রেহমান, আবুল আসাদকেও কারাগারে নিয়েছে তারা। মামলা হয়েছে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধেও। আর এক শ্রেণির সাংবাদিক-সম্পাদক দখলদার প্রধানমন্ত্রীর তেলবাজিতে ব্যস্ত। মনে হয় আমরা কাল্পনিক সেই ‘বিগ্র ব্রাদার’ রাষ্ট্রে বাস করছি।
তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের মাধ্যমে সরকার ভিন্ন মত দলন করতে চায়। এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়ী। এই অন্যায় থেকে মুক্তির জন্য সকলকে আন্দোলনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শওকত মাহমুদ বলেন, আজকে একটি দল বাংলাদেশের মালিকানা দাবি করছে। বর্তমান সরকার অনির্বাচিত। তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয়। অথচ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হলে আবারো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার হবে। আমাদেরকে জনগণের মুক্তির জন্য গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করতে হবে। আইন করে মুক্ত চিন্তা ও বাকস্বাধীনতা বন্ধ করা যাবে না বলে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দেন।
এম আবদুল্লাহ বলেন, বর্তমান অনির্বাচিত সরকার মানুষ খুন আর মামলা সন্ত্রাস করছে। যার প্রমাণ মিথ্যা মামলায় বন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। অনেক গণমাধ্যমকে বন্ধ করে দিয়েছে। দেশের আজ দুবির্ষহ অবস্থা। হামলা-মামলা, হত্যা-সন্ত্রাস বন্ধ এবং বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়ার দাবিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে রুহুল আমিন গাজী আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বন্ধ সকল মিডিয়া খুলে দেয়া, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সকল মামলা প্রত্যাহার, গোয়েন্দা খবরদারি বন্ধ এবং নিবর্তনমূলক আইন বন্ধের দাবি জানান। তা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ