ঢাকা, বৃহস্পতিবার 7 June 2018, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইসলামী অনুশাসনই মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার উপায়

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে উলামায়ে কেরামের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থিত জাতীয় ও শীর্ষস্থানীয় ওলামাগণ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: ইসলামী অনুশাসন ছাড়া সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয়। আল্লাহর দেয়া বিধান থেকে দূরে থাকার কারণেই দেশে সন্ত্রাস, উগ্রবাদ ও মাদকের বিস্তার ঘটেছে। এজন্য সন্ত্রাস, মাদক নির্মূলে ইসলামী অনুশাসন পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে করতে হবে। অন্য কোনো পথ নয়, কেবল ইসলামের আদর্শই পারে মাদকমুক্ত সমাজ উপহার দিতে।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ইসলামিক কানুন বাস্তবায়ন পরিষদ আয়োজিত ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে উলামায়েকেরামদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় উলামায়েকেরামরা এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মাওলানা আবু তাহের জিহাদীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত হাফেজ মাওলানা আতাউল্লাহ, বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান মাওলানা সাইয়্যেদ কামাল উদ্দীন জাফরী, ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. ইয়াহইয়ার রহমান, আইম্মাহ পরিষদের সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী, মসজিদ মিশনের সেক্রেটারী জেনারেল ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, তৌহিদি জনতা পরিষদ মহাসচিব মাওলানা আজিজুর রহমান আজিজ, জাতীয় ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা লুৎফর রহমান, খেলাফতে রব্বানীর আমীর মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আ.ন.ম রফিকুর রহমান মাদানী, ফুলতলী দরবার শরীফের শায়খুল হাদীস মাওলানা সাইফুল ইসলাম, কুরআন-সুন্নাহ পষিদের সভাপতি মাওলানা ফখরুদ্দীন, কুরআন-সুন্নাহ পরিষদের মহাসচিব শায়খ নাছিরুদ্দীন হেলালী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মীরের সরাই পীর মাওলানা আব্দুল মোমিন নাসেরী, শর্ষীনার ছোট পীর মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী, টেকের হাটের পীর মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, মাওলানা গোলাম কবির আজহারী, প্রফেসর আব্দুস সবুর মাতুব্বর, মাওলানা কাজী জালাল উদ্দীন, প্রিন্সিপাল রফিকুল ইসলাম, মুফতি মিজানুর রহমান, ঢাকা উত্তরের উলামা বিভাগের দায়িত্বশীল মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা কামরুল ইসলাম, মুফতি মাসউদুর রহমান, মুহাদ্দিস আবুল হাসান, মুফতি ফয়জুল হক কাসেমী, মুফতি ইমাদুদ্দিন, অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম, মাওলানা তাজুল ইসলাম কাওসারী, মুফতি কামরুল ইসলাম, মুফতি কেফায়েতুল্লাহ প্রমুখ।
মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী বলেন, সমাজতন্ত্রের পতনের পর এখন সারাবিশ্বে ইসলামী আদর্শ টিকে রয়েছে। এজন্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ইসলামী আদর্শকে ধ্বংস করতে নানা ফন্দিফিকির করছে। ইসলামের নামে বিভিন্ন মতবাদ তৈরি করে তা বাজারে ছেড়ে দিচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে লোক প্রশিক্ষণ দিয়ে তারা উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে ইসলামের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, আলেমরা কখনো সন্ত্রাস-উগ্রবাদের সাথে জড়িত হতে পারে না। বরং আলেমরাই সন্ত্রাস-উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে।
হাফেজ মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ বলেন, সরকার সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে অভিযান চালাচ্ছে। সন্ত্রাস ও মাদকের অভিযানের সিদ্ধান্ত সঠিক হলেই যে পদ্ধতিতে করা হচ্ছে তা ভুল। এভাবে সন্ত্রাস-মাদক কারবারি নির্মূল হবে না। ইসলামী অনুশাসনের মাধ্যমে দূর করতে হবে। ইসলামী অনুশাসনই পারে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ উপহার দিতে।
খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, মুসলমানরা কখনো সন্ত্রাস-উগ্রবাদের সাথে জড়িত হতে পারে না। অথচ বিশ্বে কোন ঘটনা ঘটলেই মুসলমান ও ইসলামকে বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার করা হয়। তিনি বলেন, যারা বিনা কারণে মানুষ হত্যা করে তারা কখনো আল্লাহর প্রিয়পাত্র হতে পারে না। বোমা মেরে কখনো বেহশতে যাওয়া যাবে না। বরং যারা এগুলো করেন তারা ইসলামের ক্ষতি করছেন।
উলামায়েকেরামরা বলেন, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ দূর করতে ইসলামী অনুশাসনের পরিপূর্ণ অনুসরণ একান্ত জরুরী। আল্লাহর দেয়া বিধান থেকে দূরে থাকার কারণেই ব্যক্তি সন্ত্রাস, গোষ্ঠি সন্ত্রাস, দলীয় সন্ত্রাস ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস দিন দিন মহামারি আকার ধারণ করছে। তাই আমাদেরকে সকল প্রকারের মত, পথ ও বিধান ত্যাগ করে একমাত্র আল্লাহ প্রদত্ত ও মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) প্রদর্শিত বিধানের প্রতি ফিরে আসতে হবে।
শীর্ষ উলামায়ে কেরামগণ বলেন, সন্ত্রাস দূর করতে জানার জন্য ও মানার জন্য কুরআন অধ্যায়ন করতে হবে। ঈমান ও আমলের মিল থাকতে হবে। দুনিয়া ও আখেরাতের দর্শনকে মিলিত বা সমন্বয় না করলে শান্তিও আসবেনা। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ দূর হবে না। বেশী বেশী ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে জাতিকে ফিরিয়ে রাখার বাস্তব উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য মহানবীর পথ অনুসরণ করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ