ঢাকা, বৃহস্পতিবার 7 June 2018, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রহমত মাগফিরাত নাজাতের মাস রমযান

মিয়া হোসেন : আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে নাজাতের দশক। এ দশকে আল্লাহ বান্দাহদের জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। এ মাসে আল্লাহ অপেক্ষা করতে থাকেন বান্দাহ কখন তার কাছে ক্ষমা চাইবে। ক্ষমা চাইলে আল্লাহ খুশী হন এবং ক্ষমা করে দেন। আর পবিত্র রমযানের এ দশকে বান্দার গুনাহ ক্ষমা করার জন্য বিশেষ রজনী রেখেছেন।
মুয়াত্তা-ই-ইমাম মালেকে বর্ণিত আছে যে, হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জানতে পারলেন যে, পূর্বেকার উম্মতের বয়স অনেক দীর্ঘ হতো এবং সে তুলনায় নিজের উম্মতের বয়স অনেক কম। সুতরাং আমার উম্মতের আমলের পরিমাণ এ হায়াতের ব্যবধানে পূর্বেকার উম্মতের আমলের পরিমাণের সমান হতে পারে না। বিষয়টি অবগত হয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দুঃখিত হলেন। তখন আল্লাহ তা'আলা লাইলাতুল ক্বদর প্রদান করেন। যাতে এ সমস্যা ও দুঃখ দূরীভূত হয়। তাই এমন এক রাত দান করলেন যে রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদত অপেক্ষা উত্তম।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একদা সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) এর সামনে বনি ইসরাইলের এমন এক আবিদ ব্যক্তির বর্ণনা করলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে বিরামহীনভাবে এক হাজার মাস জিহাদ করতে থাকেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর এ বর্ণনা শুনে সাহাবায়ে কেরাম সে লোকটির প্রতি বিমুগ্ধ হয়ে পড়লেন। তখন আল্লাহ পাক এ দীর্ঘ বয়সের বিকল্প স্বরূপ লাইলাতুল ক্বদর প্রদান করেন।
আল কুরআনুল করীম লাইলাতুল ক্বদরে নাযিল হয়েছে। এ রাতে হযরত জিবরাইল (আঃ) ফেরেশতাদের এক বিরাট জামায়াত নিয়ে দুনিয়ার বুকে অবতীর্ণ হন এবং জগতবাসীর মধ্যে লাইলাতুল ক্বদরের কল্যাণ ও প্রাচুর্য বিতরণ করেন। এ বিতরণের কাজ ফজর হওয়া পর্যন্ত অনবরত চলতে থাকে। লাইলাতুল ক্বদর আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিরাট নেয়ামত- যার কোন তুলনা হয় না। এ রাতে ইবাদতের একাগ্রতা হাসিল হয়। অন্তর গাফিল হয় না। এ রাতে আল্লাহ তা'আলা অসংখ্য পাপী বান্দাকে মাফ করে দেন। এ রাতে তওবা কবুল হয়, আসমান-যমীনের রহমতের দরজা খুলে দেয়া হয়। ইবাদতে মাশগুল মুমিনকে ফেরেশতারা সালাম করে। এ রাতে কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামায, তসবীহ-তাহলীল পাঠ করে কাটিয়ে অনেক সওয়াব অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।
লাইলাতুল অর্থ রাত বা রজনী আর ক্বদর অর্থ সম্মান। এর আরেক অর্থ পরিমাপ, নিরূপণ, ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ। তবে রমযানে লাইলাতুল ক্বদর অর্থ সম্মানিত ও মহিমানি¦ত রাত। আমাদের দেশে জনগণের কাছে লাইলাতুল ক্বদরের  চেয়ে ‘শবে ক্বদর' বেশি পরিচিত। শব শব্দটি ফারসী যার অর্থ রাত। তাই শবে ক্বদরের অর্থ সম্মানিত রাত। আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী লিখেছেন : লাইলাতুল ক্বদর অর্থ এমন রাত বুঝায়, যাতে যাবতীয় ব্যাপারে পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়, উহার চূড়ান্ত রূপ দান করা হয় এবং একটি বছর কালের জন্য আল্লাহ তা'আলা এ রাতে সব বিধান ও মর্যাদার ফয়সালা করে দেন। সূরা দুখানের ৪ নং আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, এ মহান রাতে প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে চূড়ান্ত ফায়সালা করে দেয়া হয়। সহল ইবনে আব্দুল্লাহর মতে আল্লাহ তা'আলা তার মুমিন বান্দাদের প্রতি রহমত বর্ষণের পরিমাণ এ রাতে নির্ধারণ করেন বলে এ নামকরণ হয়েছে।
হযরত আয়েশা (রাঃ) এ রাতে কি দোয়া পাঠ করবেন জিজ্ঞেস করলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) উত্তর দিয়েছিলেন এভাবে, “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন কারীম, তুহিব্বুল আফাওয়া ফা'ফু আন্নী”- অর্থাৎ তুমি বলবে বা পড়বে, হে আল্লাহ, তুমি বড় ক্ষমাশীল, ক্ষমা করা পছন্দ কর, অতএব আমাকে ক্ষমা করে দাও। তাছাড়া কুরআন তিলাওয়াত, তাফসীর পড়া ও অন্যান্য ইসলামী সাহিত্য অধ্যায়ন, দান-সদকা করাসহ ভাল কাজ করা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ