ঢাকা, বৃহস্পতিবার 7 June 2018, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

৬ জুন, রয়টার্স : তাইওয়ান প্রণালীতে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন উসকানিতে চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে মনে করা হচ্ছে। চীনের সাথে বাণিজ্য বিতর্ক ও উত্তর কোরিয়ার পরমাণু সঙ্কট চলার মধ্যেই এমন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানের চার দিকে সামরিক অবস্থান জোরদার করে রেখেছে চীন। তারা দ্বীপটিকে নিজেদের বলে দাবি করে থাকে। তবে তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে থাকে। তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে মার্কিন যুদ্ধাজাহাজ যাত্রা করলে তাকে তাইওয়ানের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনের নতুন প্রমাণ হিসেবেই দেখা হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে বছরে একবার বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা ভেবেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এতে চীন বিক্ষুব্ধ হবে ধারণা থেকেই তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। সর্বশেষ ২০০৭ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ নিয়ে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা মনে করেন, আরেকবার সেখানে যুদ্ধবিমান নিয়ে যাওয়ার সময় পার হয়ে যাচ্ছে। আরেকটি কম উসকানিমূলক বিকল্প হলো গত বছরের জুলাই মাসের মতো করে আবারো মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ নিয়ে প্রণালীটি অতিক্রম করা।

পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেতে অস্বীকার করা হয়েছে। তাই আসলে কতদিন পর তাইওয়ান প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হবে তা পরিষ্কার নয়।

নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথা ভেঙে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সাথে ফোনালাপ করেন। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি তাইওয়ান নিয়ে নরম সুরে কথা বলছেন। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু সঙ্কট সমাধানের জন্যও চীনকে সহযোগতিার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের বড় ধরনের বাণিজ্য বিতর্কের সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করছে। তাই ঠিক এই মুহূর্তে তারা তাইওয়ান প্রণালীতে জাহাজ পাঠাবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

চীন তার সামরিক মহড়ার মাধ্যমে তাইওয়ানকে সতর্ক করে দিয়েছে। তারা দ্বীপটির ওপর দিয়ে বোমারু বিমান ও সামরিক বিমান চালানোর পাশাপাশি সরু তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে যুদ্ধজাহাজও চালিয়ে নিয়ে গেছে। চীনের এমন কর্মকা- সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা হলো, চীন সেখানে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। তাইওয়ানের সাথে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক না থাকলেও সেখানে নতুন আমেরিকান ইনস্টিটিউট খোলার জন্য আগামী ১২ জুন মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তারা দেশটিতে যাবেন বলে ঠিক হয়ে আছে। ইনস্টিটিউটটি তাইপেতে কার্যত মার্কিন দূতাবাস হিসেবে ব্যবহৃত হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সাথে ১২ তারিখের বৈঠকের কারণে ওই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের বিষয়টি সাংঘর্ষিক হয়ে গেছে। তবে আগামী সেপ্টেম্বরে ইনস্টিটিউটটি উদ্বোধনের আরেকটি সুযোগ পাওয়া যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ