ঢাকা, বৃহস্পতিবার 7 June 2018, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পর্যালোচনায় আরও দুই মাস সময় নিয়েছে সংসদীয় কমিটি

সংসদ রিপোর্টার : সংসদে উত্থাপিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পর্যালোচনার জন্য আরও দুই মাস সময় নিয়েছে সংসদীয় কমিটি। ফলে চলতি অধিবেশনে বিলটি পাস হচ্ছে না। গতকাল বুধবার সংসদের বৈঠকে অধিবেশনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করলে সংসদ তা অনুমোদন দেয়।
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি বহুল আলোচিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। পরে গত ৯ এপ্রিল সংসদে উত্থাপন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। খসড়া আইনটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে এক মাসের জন্য পাঠানো হয়েছে।
আইনটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ও সংসদে উত্থাপনের পর গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের থেকে ব্যাপক আপত্তি তোলা হয়। পরে কমিটি আইনটির আপত্তির বিষয়গুলো জানতে সংসদীয় কমিটি গণমাধ্যমের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয়। যার প্রেক্ষাপটে গত ২২ মে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি খসড়া আইনটি নিয়ে সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকদের সংগঠন ‘সম্পাদক পরিষদ’, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন-অ্যাটকোর সঙ্গে বৈঠক করে। সাংবাদিক ও গণমাধ্যম মালিকদের প্রতিনিধিদের ওই বৈঠকে আইনটি পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিয়েছে।
সমালোচিত ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা তথ্যপ্রযুক্তি আইন থেকে সরিয়ে সেগুলো আরও বিশদ আকারে যুক্ত করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হচ্ছে।
এ আইন পাস হলে হ্যাকিং; ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’; রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করতে বা ভয়ভীতি সৃষ্টির জন্য কম্পিউটার বা ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং ডিজিটাল উপায়ে গুপ্তচরবৃত্তির মত অপরাধে ১৪ বছরের কারাদাণ্ডের পাশাপাশি কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদ- বা উভয়দ- দেওয়া যাবে।
আর ইন্টারনেটে কোনও প্রচার বা প্রকাশের মাধ্যমে ‘ধর্মীয় অনুভূতি বা মূল্যবোধে আঘাত’ করার শাস্তি হবে ১০ বছরের জেল, ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ড।
খসড়া আইনটির মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর থেকে বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে পড়ে। সাংবাদিকরাও প্রস্তাবিত আইনটির ৩২ ধারায় সমালোচনা করছেন। এই আইনের ফলে প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হবে বলে মনে করছেন তাদের অনেকে।
ওই ধারায় সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কেউ যদি বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কোনও ধরনের তথ্য উপাত্ত, যেকোনও ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে গোপনে রেকর্ড করে, তাহলে সেটা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ হবে এবং এ অপরাধে ১৪ বছর কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ