ঢাকা, বৃহস্পতিবার 7 June 2018, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২১ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইতিকাফ

-শাহাবুদ্দিন আহমদ চৌধুরী (সেলিম)
[দুই]
১০। ইতিকাফের উপযুক্ত স্থান কোনটি বা কোথায় : ইতিকাফের জন্য কুরআন ও হাদীসের নির্দেশিত জায়গা হচ্ছে মসজিদ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ সংক্রান্ত পদক্ষেপ ও নির্দেশনা গুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়; ইতিকাফ মসজিদে হতে হবে। বিশেষজ্ঞ আলেমগণের মত হচ্ছে, ইতিকাফ করবেন সেই মসজিদে যেখানে নিয়মিত ভাবে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতে আদায় হয়। বিশেষ করে সেখানে যেন জুমার সালাত আদায় হয়।
১১। কতদিন ইতিকাফ করা যায় বা ইতিকাফের সময়সীমা: বিশুদ্ধ মতানুযায়ী ইতিকাফের সবচেয়ে কম সময় হচ্ছে একদিন একরাত। সর্ব্বোচ্চ কতদিন ইতিকাফ করা যায় এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে কোন কিছু বলা নেই। আমাদের দেশসহ অধিকাংশ মুসলিম প্রধান দেশে সাধারণত রমাদানের শেষ ১০ (দশ) দিন লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির আশায় ইতিকাফ করা হয়।
১২। ইতিকাফ শুরু ও শেষ কখন এবং ইতিকাফের উত্তম সময় কোনটি : কেউ যদি রমাদানের শেষ ১০ (দশ) দিন ইতিকাফ করতে চায় সেক্ষেত্রে চার ইমামসহ অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ আলেমগণের মত হচ্ছে, ইতিকাফ শুরু করতে হবে একুশতম রমাদানের রাতের আগে অর্থাৎ বিশতম রমাদানের দিনে সূর্য ডুবে যাওয়ার আগে অর্থাৎ ইফতারের আগে। সাধারণত বিশতম রমাদানে আসর সালাতের পর মাগরিবের আগে মসজিদের ঢুকে যেতে হয়।  ইতিকাফ শেষ করা বা ইতিকাফ থেকে বের হওয়ার জন্য উত্তম সময় হল চাঁদ রাত বা ঈদের রাতে মসজিদে অবস্থান করে পরদিন সকালে সরাসরি ঈদগাহে চলে যাওয়া। কিছু কিছু সাহাবী এভাবে করেছেন। তবে রমাদানের শেষ দিন (২৯ বা ৩০ তারিখ যেটি হয়) সূর্য ডুবে যাওয়ার বা সূর্যাস্তের পর বা ইফতারের পর মসজিদ থেকে বের হওয়া জায়েয।
১৩। ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ইতিকাফ কোথায় এবং কখন : ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ইতিকাফ হচ্ছে মসজিদুল হারামে আদায়কৃত ইতিকাফ, যেটি পবিত্র মক্কা নগরীতে অবস্থিত। তারপর মসজিদে নববীতে (মদিনায় নবীর মসজিদে) আদায়কৃত ইতিকাফ, তারপর বায়তুল মোকাদ্দাসে (যেটি জেরুসালেমে অবস্থিত) আদায়কৃত ইতিকাফ। এরপর যে কোন জামে মসজিদে।
ইতিকাফের সবচেয়ে উত্তম সময় হচ্ছে রমাদানের শেষ ১০ (দশ) দিন।
১৪। ইতিকাফ অবস্থায় যে সকল আমল বেশি বেশি করা উত্তম: ক. ফরজ ও সুন্নাত সালাত যথাযথ আদায়ের পর বেশি বেশি করে নফল সালাত পড়া ।
খ. এ’ সময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার কাছে বেশি বেশি দোয়া করা এবং যত বেশি সম্ভব ক্ষমা প্রার্থনা করা।
গ. এ’ সময় বেশি করে জিক্র করা। যেমন: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ। তাকবীর বলা যেমন: আল্লাহু আকবর। কলেমা পাঠ করা যেমন: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলু-ল্লাহ্। আশ্হাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা’ শারিকালাহু ওয়া আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদান্ আ’বদূহু ওয়া রাসূলুহু।
আরো পড়া যেতে পারে; সুব্হানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী সুব্হানাল্লাহিল আ’যীম। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারিকালাহু, লাহুল মুল্কু ওয়া লাহুল হাম্দু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকীল, নি’মাল মাওলা ওয়া নি’মান নাসীর ইত্যাদি। (বুখারী)।
ঘ. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা।
“নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরূদ পাঠান। হে, ঐসব লোক, যারা ঈমান এনেছ তোমরাও তাঁর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠাও।” (সূরা আহযাব, আয়াত: ৫৬)।
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, আমি নিজেও এ কাজ করি তোমরাও তা কর। এতে দরূদের মর্যাদা যে কত বড় তা সহজেই বুঝা যায়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে আমার উপর একবার দরূদ পাঠায় আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তার উপর দশবার দরূদ পাঠান।”
ঙ. কুরআন তেলাওয়াত করা, আরবীতে পড়ার পাশাপাশি তাফসির পড়া ন্যূনতম অনুবাদ হলেও পড়া। যাতে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার নির্দেশগুলো বুঝে নিজের জীবনে প্রয়োগ করা যায়।
চ. হাদীস পড়া, নবী-রাসূল এবং সাহাবীদের জীবনী পড়া। সর্বোপরি সময়ের উপযুক্ত সদ্ব্যবহার করে নিজেকে সর্বদা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার স্মরণে মসগুল রাখা।
১৫। কদর রাত তথা রমাদানের শেষ ১০ (দশ) দিনের বেজোড় রাত ও এ’রাতে করণীয় : এ’ রাতটি হাজার মাস থেকেও উত্তম এবং কল্যাণময়। পবিত্র কুরআন এ’রাতে নাজিল হয়েছে। ফেরেশতারা এ’রাতে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার নির্দেশে বান্দাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে বের হন। ফজর হওয়া পর্যন্ত এ’রাত পুরোপুরি শান্তি ও নিরাপত্তার। এ’রাতেই মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে থাকে তথা তাকদীরের ফায়সালা হয়ে থাকে। কুরআন ও হাদীসে এ রকম আরো বহু বরকতময় ফজিলতের বর্ণনা রয়েছে। কদরের রাত আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার পক্ষ থেকে তাঁর রহমত ও ক্ষমা প্রত্যাশী বান্দাদের জন্য এক বিশেষ উপহার।
একবার মা আয়শা (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমি যদি লাইলাতুল কদর খুঁজে পাই তাহলে আমি কি করব? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আয়শা তখন তুমি এ’ দোয়া করবে, “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী।” অর্থ: হে আল্লাহ্, তুমি বড়ই ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা করতে পছন্দ কর, তাই তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। (বুখারী)।
১৬। দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সময়: ক. প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর। খ. সিজদারত অবস্থায়। গ. রাতের শেষ তৃতীয়াংশে। ঘ. আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়। ঙ. সিয়ামরত অবস্থায়। চ. ইফতার করার পূর্বক্ষণে। ছ. লাইলাতুল কদরের রাতে। জ. জুমার দিন।
১৭। ইতিকাফকারীর জন্য যে সকল কাজের অনুমতি রয়েছে: ক. ইতিকাফকারী মসজিদে পানাহার ও ঘুমোতে পারবে; তবে কম খাওয়া এবং কম ঘুমানো ইবাদাতের জন্য সহায়ক। এ সময় ইতিকাফের হক ও মসজিদের আদবের প্রতি যত্নশীল হতে হবে।
খ. একান্ত প্রয়োজনে বা অস্বস্তিবোধ করলে গোসল করা যাবে তবে নিয়মিত সাধারণ গোসল না করা ভাল।
গ. চুল আঁচড়ানো, তেল ও সুগন্ধি ব্যবহার, পোশাক পরিবর্তন ইত্যাদির অনুমতি আছে।
ঘ. পরিবারের কেউ দেখা করতে আসলে তাকে সাক্ষাত দেয়া, কথা বলা ইত্যাদি করা যাবে; তবে তা যেন দীর্ঘ না হয়।
ঙ. পেশাব-পায়খানা ও অজু করার জন্য বাইরে যাওয়া জায়েয, তবে এসব যেন মসজিদের কাছাকাছি হয়।
চ. খাবার নিয়ে আসার লোক না থাকলে বা মসজিদে খাওয়ার ব্যবস্থা না থাকলে বাইরে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে।
ছ. কোন কারণে মসজিদে আগুন লেগে গেলে বা মসজিদ ভেঙে পড়া ও ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হলে ইতিকাফের স্থান থেকে বের হওয়া যায়।
জ. ইতিকাফকারীর অবস্থান যদি এমন মসজিদে হয় যেখানে জুমার জামাত হয় না, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র জুমার সালাত আদায়ের জন্য বের হতে পারবে।
১৮। ইতিকাফকারীকে যেসব কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে: ঐ সকল কাজ থেকে ইতিকাফকারী বিরত থাকবেন, যে কাজ করলে ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। যেমন বেশি কথা বলা, বেশি মেলামেশা করা, বেশি ঘুমানো, টেলিফোনে গল্প গুজব করা, ইন্টারনেট ব্রাউজ করা, অন্যের সাথে হাসি ঠাট্টায় মেতে থাকা, ঝগড়া-ঝাটি করা, অন্যের গীবত করা, ইতিকাফের মূল সময়কে কাজে না লাগানো ইত্যাদি। ইতিকাফকারী মসজিদে অবস্থানকালে বিশেষ শরীয়া ওজর ছাড়া ক্রয় বিক্রয়ে লিপ্ত হবে না। রোগীর সেবা করতে ও জানাযায় অংশ নিতে বের হবে না। ইতিকাফের শুরুতে কেউ যদি এ জাতীয় কোন শর্ত করে নেয়, তবে তার কথা ভিন্ন।
১৯। কোন কাজগুলো করলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যায় তথা ভেঙে যায়: ক. বিনা প্রয়োজনে ইতিকাফের স্থান থেকে বের হলে।
খ. শিরক বা কুফরী কাজে লিপ্ত হলে।
গ. অজ্ঞান বা পাগল হয়ে গেলে, মাতাল হয়ে পড়লে।
ঘ. স্ত্রী সহবাস বা যেকোন প্রকার যৌনাচারে লিপ্ত হলে।
ঙ. নারীদের ক্ষেত্রে সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে বা গর্ভপাত হলে; হায়েয-নিফাস শুরু হলে।
২০। কদর রাতের আলামত বা লক্ষণসমূহ: বিভিন্ন বর্ণনামতে সর্বাধিক সঠিক আলামত হচ্ছে, এ’রাতটি সুস্পষ্ট আলো ঝলমলে হবে। এ’রাতে গরমও বেশি হবে না এবং ঠা-াও বেশি হবে না।
পরদিন ভোর বেলায় যখন সূর্য উদিত হবে তখন চৌদ্দ তারিখের চাঁদের মতো তাপহীন ও অন্যদিনের তুলনায় কম আলো সম্পন্ন হবে।
অন্য এক বর্ণনা মতে, এ’রাতে আকাশ থেকে বৃষ্টি নেমে আসতে পারে এবং জমিন পানি ও কর্দমাক্ত হতে পারে।
এ’রাতের কোন এক সময় গাছ-পালা থেকে শুরু করে প্রতিটি সৃষ্টি জমিনের দিকে ঝুঁকে আল্লাহ্কে সিজদা করে, পরে তা আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
এ’রাতে সকাল পর্যন্ত শয়তানকে তারকা নিক্ষেপ করা হয় না।
২১। ইতিকাফের উদ্দেশ্যে মসজিদে আসার কালে যে সকল জিনিস-পত্র প্রয়োজন: বিছানা, বালিশ, চাদর, মশারি, সুত্লি ও ট্রাভ্যাল ব্যাগ। ব্রাশ, মিছওয়াক, টুথপেস্ট, সাবান, শেম্পু, লোশান, নেইল কাটার।
টাওয়েল, গামছা, ট্রাউজার, হ্যাঙ্গার। জরুরী ঔষধপত্র, পানির মগ, চ্যান্ডেল ও সুগন্ধি। কুরআন, হাদীস ও দোয়ার বই, খাতা, কলম ও চশমা। কারো যদি জুমার দিন আলাদা কাপড় পরার অভ্যাস থাকে, তাহলে সেগুলো সঙ্গে আনা যেতে পারে।
২২। ইতিকাফের ফজিলত: ক. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি রমাদান মাসের শেষ ১০ (দশ) দিন ইতিকাফ করবে, সে ব্যক্তি দুটি হজ্ব ও দুটি ওমরাহ্র সমান সওয়াব হাসিল করবে। (বায়হাকি)। তিনি আরো বলেন, যদি কেউ আনুগত্যের সাথে ইবাদতের নিয়তে একদিন ইতিকাফ করে তবে তার সব গুনাহ্গুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে। (জামে আস-সগীর)।
খ. আবদুল্লাহ্ বিন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) থেকে বর্ণিত, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যদি কেউ পূর্ণ আনুগত্যের সাথে একদিন ইতিকাফ করে, আর আল্লাহ্র কাছে পুরষ্কারের আশা করে, তখন সে লোক ও জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তিনটি পরিখা খনন করা হবে। এক একটি পরিখা চওড়ায় হবে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত বা পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত।” (তাবরানি ও হাকেম)।
কোন কোন হাদীস বিশেষজ্ঞ উপরে হাদীস দুটিকে জয়ীফ বলেছেন, তবে একজন হাদীস বিশারদ দ্বিতীয় হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
এখানে কদর রাতের ফজিলত সম্পর্কে একটি হাদীস উল্লেখ করতে চাই, তা হলো: “যদি কেউ কদরের রাতে পূর্ণ আনুগত্যের সাথে পুরষ্কারের আশায় আল্লাহ্র ইবাদাত করে, তার অতীতের সব গুণাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)।
২৩। শেষ কথা: আপনি, আমি এবং আমাদের সবাইকে একদিন এ কোলাহলময়, আনন্দমুখর, সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে একাকী নির্জন কবরে চলে যেতে হবে। যেখানে মহান রবের অস্তিত্ব¡ ছাড়া আর কারো সংশ্রব থাকবে না। তাই আসুন দুনিয়ার অন্যান্য সকল কিছু থেকে আলাদা হয়ে নিজেকে মহান রবের নৈকট্য হাসিলের নিমিত্তে নিরন্তর সাধনায় নিয়োজিত করি, ইতিকাফের মাধ্যমে ঈমানকে শানিত করি এবং ঈমানকে উন্নততর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।
আর সবকিছু উজাড় করে বিনয়াবনত চিত্তে নিজের মস্তককে সিজদায় লুটিয়ে দেই এবং কান্না জড়িত কাতর কণ্ঠে ফরিয়াদ জানাই:
“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী।” অর্থ: হে আল্লাহ্, আপনি বড়ই ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন, তাই আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন।
“রাব্বানা আতিনা ফিদদুনইয়া হাসনাহ্’ ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাহ্’ ওয়াকিনা আ’যাবান্নার।” (সূরা বাকারা, আয়াত: ২০১)। অর্থ: হে আমাদের মহান স্রষ্টা, আমাদের মালিক, আপনি আমাদেরকে দুনিয়ায় কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে আগুনের আজাব থেকে হেফাজত করুন। (এখানে আমাদের বলতে, আমরা নিজে, আমাদের পরিবার-পরিজন, আত্মীয় স্বজন ও সকল মুসলিম ভাই বোনের কথা স্মরণে আনতে পারি)।
উল্লেখ্য, একজন ইতিকাফকারীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ইতিকাফের মাধ্যমে আপনি কি অর্জন করেছেন?
উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ইতিকাফের এ দিনগুলোতে মসজিদে অবস্থানকালীন সময়ে আমি অন্তরে চরম প্রশান্তি অনুভব করেছি এবং আমার মনে হয়েছে আমার অনেক চাওয়া পাওয়া আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাকে এখানেই পূরণ করে দিয়েছেন।
পরিশেষে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের একটি উক্তিকে সামনে আনতে চাই, রমাদান সম্পর্কিত কোন এক আলোচনা শেষ করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন-
“রমাদান শেষ কিন্তু সিয়াম যেন নয়।
কদর শেষ কিন্তু কিয়ামুল লাইল যেন নয়।” [সমাপ্ত]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ