ঢাকা, মঙ্গলবার 25 September 2018, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে: মুহিত

সংগ্রাম অনলাইন : আগামী সেপ্টেম্বরে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বাড়বে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পেশ করার সময় মুহিত বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার খাত হচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে আ’লীগ সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে তখন দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল মাত্র ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। এ প্রেক্ষাপটে আমরা উৎপাদন, বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে ‘বিদ্যুৎ খাতে মাস্টার পরিকল্পনা’ করি এবং পরিকল্পনামাফিক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করি।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৪ হাজার ৯২১ কোটি ব্যয় ধরা হয়েছে, গত অর্থবছরে যা ছিল ২৪ হাজার ২৬১ কোটি। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ২২ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা এবং জ্বালানি খাতে এক হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য ছিল ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করে সবার জন্য যৌক্তিক মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। সরকারের প্রচেষ্টায় নয় বছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ২৭টি থেকে ১১৮টিতে উন্নীত হয়েছে; বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তিন গুণ বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াটে।

সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ২০০৯ সালের ৩ হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট থেকে বর্তমানে ১০ হাজার ৯৫৮ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। বিগত ৯ বছরে ২ হাজার ৬২২ সার্কিট কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন এবং ১ লক্ষ ৭৪ হাজার কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে।

বর্তমানে মোট সঞ্চালন ও মোট বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ১০ হাজার ৬৮০ সার্কিট কিলোমিটার এবং ৪ লক্ষ ৫০ হাজার কিলোমিটার। এ সময়ে বিদ্যুতের সিস্টেম লস ১৬.৯ শতাংশ থেকে ১১.০ শতাংশে নেমে এসেছে। সার্বিকভাবে, বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর হার ৪৭ শতাংশ হতে ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

মুহিত জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নতুন গ্যাস ও তেলক্ষেত্র অনুসন্ধানের ওপর জোর দিয়েছে। গ্যাস অনুসন্ধান ও ভূকম্পন জরিপ কাজে বাপেক্সকে সহায়তা করার লক্ষে সরকার ২০০৯ সালে ‘গ্যাস উন্নয়ন তহবিল’ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০১৫ সালে ‘জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল’ গঠন করেছে।

‘আমাদের প্রচেষ্টায় জ্বালানি তেলের মজুদ ক্ষমতা ২০০৯ সালের ৮.৯ লাখ মেট্রিক টন হতে বর্তমানে ১২.২১ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। সদ্য আবিষ্কৃত ভোলা গ্যাসক্ষেত্রসহ মোট প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা বর্তমানে ২৭টি। এর মধ্যে ২০টি থেকে গ্যাস উত্তোলণ করা হচ্ছে। দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতা ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসের ১ হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে,’ যোগ করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি আরো জানান, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য শিল্পকারখানার চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে সরকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিরও উদ্যোগ নিয়েছে। দৈনিক প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট হিসেবে এলএনজি গ্যাস আমদানির লক্ষে ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের মহেশখালিতে দুটি ভাসমান সংরক্ষণাগার ও পুনঃগ্যাসায়ন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। সূত্র: ইউএনবি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ