ঢাকা, শুক্রবার 8 June 2018, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কবি ফররুখ আহমদের জন্মশতবর্ষ উদযাপন  অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ

 

অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান : মাননীয় প্রধান অতিথি বাংলা একাডেমির প্রাক্তন মহাপরিচালক বিশিষ্ট কবি ও লোক-বিজ্ঞানী ড. আশরাফ সিদ্দিকী, অনুষ্ঠানের সভাপতি ‘কবি ফররুখ আহমদ জন্মশতবর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি’র সম্মানিত আহবায়ক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রাক্তন মহাপরিচালক, বিশিষ্ট শিল্পী, প্রথিতযশা লেখক মুস্তাফা জামান আব্বাসী, অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক, বাংলা একাডেমির প্রাক্তন মহাপরিচালক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. মাহমুদ শাহ কোরেশী, আমন্ত্রিত  অতিথিবৃন্দ, উপস্থিত সুধিবৃন্দ, আস্সালামু আলাইকুম। 

আমি প্রথমেই মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি, যাঁর অপরিসীম মেহেরবানীতে আজ আমরা এখানে জাতীয় নবজাগরণের অন্যতম প্রাণপুরুষ কবি ফররুখ আহমদের জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে সকলে একত্রিত হতে পেরেছি। সমাগত সকলকে আমি কবি ফররুখ আহমদ জন্মশতবর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক উষ্ণ অভিনন্দন ও  গভীর কৃতজ্ঞতা। বাংলাদেশ ও বহি:বিশ্বের সর্বত্র কবি ফররুখ আহমদের অগণিত পাঠক, ভক্ত-অনুরক্ত ও শুভাকাংক্ষী রয়েছেন, যারা এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারেননি-তাদেরকেও আমি এ উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।

সমগ্র বিশ্বে বিরাজমান এক মহাক্রান্তিকালে কবি ফররুখ আহমদের (১০জুন ১৯১৮-১৯ অক্টোবর ১৯৭৪) জন্ম। সারাবিশ্বে তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-৪৫) রণ-দামামা বেজে উঠেছে। পরাশক্তির আণবিক বোমার আঘাতে জাপানে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনহানি ঘটে। উপমহাদেশ ইংরাজ শাসকদের করতলগত,  ।  পুঁজিপতি ধনিক-বণিক-শোষক শ্রেণীর মানুষের অমানবিক শাসন-শোষণ ও হৃদয়হীন আচরণে বাংলার জনপদে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তাতে লক্ষ লক্ষ অসহায় মানুষের অনাহারে করুণ মৃত্যু ঘটে। ঐসময় পরাধীনতার জিঞ্জির ছিন্ন করে উপমহাদেশের জনগণ ইংরাজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করে। 

বিশ্বযুদ্ধ, পরাধীনতা, দুর্ভিক্ষ এসব মানবিক বিপর্যয় ও দুঃসহ অবস্থায় অধঃপতিত জাতির উত্থান, শৃঙ্খলমুক্তি ও উপমহাদেশের মুসলমানদের স্বতন্ত্র, স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এক চরম সংকটময় যুগ-সন্ধিক্ষণে ফররুখ আহমদ স্বভাবতই  সমকালীন জীবন-বাস্ততার করুণ আলেখ্য তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে হতাশাগ্রস্ত জাতির জীবনে নতুন প্রাণ-সঞ্চার ও নবজীবনের উদ্বোধনে ওজস্বী ভাষায় দিক-নির্দেশনামূলক অনুপ্রেরণাকর অসংখ্য কাব্য-কবিতা রচনা করেন। তাঁর অপরূপ মাধুর্যময় ভাষায় রচিত এসব রচনাবলি হতাশাগ্রস্ত-বিপর্যস্ত জাতির জীবনে অমিত আশা-আশ্বাস ও নির্ভরতার সৃষ্টি করে। একদিকে, দুর্ভিক্ষ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে লেখা তাঁর কবিতায় যেমন মানবিক সংবেদনার মর্মন্তুদ প্রকাশ ঘটেছে, অন্যদিকে তেমনি স্বাধীনতা ও নবজাগরণের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষ্যে তাঁর আদর্শনিষ্ঠ, ঐতিহ্যনির্ভর, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী মহাকাব্যিক আবহে রচিত অমর পঙ্তিমালা সমকালে জাতির জীবনে নতুন প্রেরণা ও উদ্দীপনা সঞ্চার করে। এসময় গভীর আবেগ ও দরদভরা লালিত্যময় ভাষায় তাঁর উচ্চারণ-     

 “কত যে আধাঁর পর্দা পারায়ে ভোর হ’ল জানিনা তা নারঙ্গী বনে কাঁপছে সবুজ পাতা”(সাত সাগরের মাঝি)

  কবি যেন এক ঐশী প্রেরণায় উদ্দীপ্ত-অনুপ্রাণিত হয়ে নববসন্তের সবুজ কিশলয়ের মত সতেজ ও গভীর জীবনাবেগে জেগে ওঠেন। কবি তাঁর লালিত স্বপ্ন অপরূপ মাধুর্য্যময় ভাষায় প্রতীকীভাবে জাতির সামনে তুলে ধরেন। জাতির মর্মমূলে তা গভীর আলোড়ন ও অনুরণন সৃষ্টি করে। যেমন-

“তুমি কি ভুলেছ লবঙ্গ ফুল, এলাচের মৌসুমী,

যেখানে ধূলিতে, কাঁকরে দিনের জাফরান খোলে কলি,

যেখানে মুগ্ধ ইয়াসমিনের শুভ্র ললাট চুমি’

পরীর দেশের স্বপ্ন-সেহেলী জাগে গুলে বকাওলী।”

     এভাবে কবি দেশ, দেশের মানুষ ও সমকালীন জীবনের দুঃখ-দুর্দশা, আশা-আকাক্সক্ষার বাঙময় চিত্র রূপায়িত করেন। এ কারণে ফররুখ আহমদ একজন কাল-সচেতন, সমাজ-মনষ্ক, ঐতিহ্যবাদী, আদর্শনিষ্ঠ, জীবন-নির্ভর স্বতন্ত্র মহিমায় উজ্জ্বল কবি হিসাবে চিহ্নিত। বাস্তবতার সাথে রোমান্টিকতার সংমিশ্রণে কবি সমকালীন বাস্তবতার যথার্থ আলেখ্যকে চিরায়ত ও সর্বজনীন রূপ দান করেন। কালের প্রতিভূ হয়েও তিনি কালোত্তীর্ণ। একটি বিশেষ দেশ ও সমাজের হয়েও তাঁর কাব্যের আবেদন দেশ-সমাজের গন্ডি পেরিয়ে  বিশ্বজনীন-উদার মানবিক চিরায়ত রূপ লাভ করে।

ফররুখ আহমদ আমাদের জাতিসত্তার এক অনবদ্য রূপকার। স্বকীয় আদর্শ-ঐতিহ্য সমৃদ্ধ মানবিক সংবেদনাপূর্ণ ফররুখের কাব্যকৃতি এক স্বতন্ত্র কবি ভাষায় উজ্জ্বল ও দীপ্তিমান হয়ে উঠেছে। এরসাথে সমকালীন ভাব-বিষয় ও আধুনিক শিল্পসম্মত কলা-নৈপুণ্যের সুষম-নান্দনিক বিন্যাস ঘটায় তাঁর কাব্যকৃতি অসামান্য সাফল্য ও অনন্য বৈশিষ্ট্য অর্জন করে। ভাব ও বিষয়কে উপযুক্ত ছন্দ, শব্দ, উপমা-রূপক-রূপকল্পের আধারে অনিন্দ্য রূপদানের ফলে তাঁর কাব্যকৃতি শিল্প-সৌকর্যে মহিমান্বিত হয়ে উঠেছে। এজন্য অনেকে তাঁকে ‘শিল্পী কবি’র বিরল অভিধায় আখ্যায়িত করেন।

    রোমান্টিক কবি-স্বভাবের অধিকারী ফররুখ তাঁর কাব্যে স্বপ্ন-কল্পনার এক অতীন্দ্রিয় আবেশ তৈরী করেন। কিন্তু তিনি কল্পনা-বিলাসী ছিলেন না। বাস্তবতার অনুষঙ্গে আদর্শচিন্তা ও ঐতিহ্যের মোড়কে আবেগ-মথিত অপরূপ ললিত মধুর ভাষায় তিনি জীবন-স্বপ্নকে বর্ণাঢ্যরূপে তুলে ধরেছেন-যা পাঠক-চিত্তকে সহজেই উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করে। ফররুখ কাব্যের এ অসাধারণ আবেদন সমকালে যেমন, বর্তমানেও তেমিন এবং আশা করি অনন্তকাল ধরে চিরকালিন মানব-হৃদয়ে অনিঃশেষ আবেদন ও ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করবে। ফররুখের ভাষা  সহজেই শনাক্তযোগ্য। তাঁর কাব্যের ভাষা আরবি-ফারসি শব্দের এক অপূর্ব মিশ্রণ। এটা যেমন ওজস্বিতা, লালিত্য ও ব্যঞ্জনাধর্মী, তেমনি উপমা-রূপক-রূপকল্পের নিপুণ ব্যবহারে চিত্তাকর্ষক ও মাধুর্যময় হয়ে উঠেছে। তাঁর সমগ্র কাব্য ভাষায় এক ধরনের ধ্রুপদ বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। তবে এ ভাষার বৈচিত্র্যও অসাধারণ। তাঁর রচিত ‘সাত সাগরের মাঝি’, ‘আজাদ কর পাকিস্তান’ ও ‘সিরাজাম মুনীরা’র ভাষা আর ‘হে বন্য স্বপ্নেরা’, ‘মুহূর্তের কবিতা’, ‘ কাফেলা’র ভাষা একরকম নয়। আবার তাঁর রচিত ২১টি শিশুতোষ গ্রন্থের ভাষা সম্পূর্ণ অন্যরকম। ফররুখ কাব্যের ভাব, বিষয় ও ভাষার এ বৈচিত্র্য তাঁর বিশালতা,  অসাধারণ দক্ষতা ও বহুমাত্রিকতার পরিচয় সুস্পষ্ট করে তোলে। ফররুখ আহমদের প্রতিভা বহুমাত্রিক। গদ্য-পদ্য উভয় রূপরীতিতে তিনি সিদ্ধহস্ত। ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গীতিকাব্য, মহাকাব্য, সনেট, গান, ব্যঙ্গকাব্য, অনুবাদ, ব্যঙ্গনাটক, কাব্যনাট্য, গীতিনাট্য, শিশুতোষ কাব্য ইত্যাদি বিচিত্র রূপরীতিতে তিনি বাংলা সাহিত্যের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। রবীন্দ্র-সমকালে কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা কাব্যে এক স্বতন্ত্র ধারা সৃষ্টি করেন। রবীন্দ্র-নজরুল ধারার সমান্তরালে ত্রিশোত্তর যুগের কবিগণ আরেক নবতর ধারার প্রবর্তন করেন। তাঁদের চিন্তা-চেতনা ও সাহিত্যাদর্শে পাশ্চাত্যের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এঁদের পাশাপাশি গ্রামীণ ঐতিহ্য ও জীবনবেধের অনবদ্য রূপকার হিসাবে এসময় আত্মপ্রকাশ ঘটে জসীমউদদীন, বন্দে আলী মিয়া, রওশন ইজদানী প্রমুখ কবিদের। বাংলা সাহিত্যের এ বিচিত্র, সমৃদ্ধ পটভূমিতে এক স্বতন্ত্র, মহিমায় উজ্জ্বল কবি হিসাবে ফররুখ আহমদের আবির্ভাব। অনেকে তাঁকে চল্লিশের উজ্জ্বলতম কবি হিসাবে আখ্যায়িত করলেও প্রকৃতপক্ষে, তিনি তাঁর সমকালে বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক উজ্জ্বল কবি-প্রতিভা হিসাবে সমাদৃত হন। 

ফররুখ আহমদ তাঁর প্রতিভার উন্মেষ-লগ্ন থেকেই বিশেষভাবে আলোচিত-সমালোচিত হলেও তাঁর সমগ্র কাব্যকৃতির যথার্থ মূল্যায়ন হয়নি। কেউ তাঁর কাব্যাদর্শের জন্য তাঁর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন, কেউ এজন্য তাঁকে অবমূল্যায়ন করেন। নির্মোহ দৃষ্টিতে শিল্পের মানদন্ডে তাঁকে বিচার-বিশ্লেষণ করার প্রবণতা বড় একটা দেখা যায়নি। এমনকি, তাঁর সমগ্র কাব্যকৃতি এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। এদিক থেকে ফররুখ নিদারুণভাবে উপেক্ষিত। জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর সমগ্র সাহিত্য প্রকাশ-প্রচারের দাবি জানাচ্ছি। 

আমরা কতিপয় সাহিত্য-কর্মী ১৯৯৮ সালে প্রথম ‘ফররুখ একাডেমি’(পরবর্তীতে ফররুখ গবেষণা ফাউন্ডেশন নামে রেজিস্ট্রিকৃত) প্রতিষ্ঠান গঠন করে প্রাতিষ্ঠানিক ফররুখ চর্চার উদ্যোগ গ্রহণ করি। এর মাধ্যমে আমরা সাধ্যমত প্রতি বছর ফররুখের জন্ম-মৃত্যু দিবস পালন, মাসিক সাহিত্য সভার আয়োজন, ‘ফররুখ একাডেমি পত্রিকা’ ও গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে দেশবরেণ্য অনেক কবি-সাহিত্যিক-লেখক-গবেষক, শিক্ষাবিদদের সম্পৃক্ত করে ফররুখ চর্চা শুরু করি। প্রবীণদের পাশাপাশি আমরা নবীনদেরকেও ফররুখ চর্চায় অনুপ্রাণিত করার প্রয়াস পাই। এযাবৎ ফররুখ একাডেমি পত্রিকার তিরিশটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। ফররুখ আহমদের ‘সিরাজাম মুনীরা’ ফররুখ একাডেমি সংস্করণসহ ফাউন্ডেশন প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে  মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ রচিত ‘ফররুখ আহমদের শক্তি ও স্বাতন্ত্র্যের স্বরূপ’, শাহাবুদ্দীন আহমদের ‘উপমা শোভিত ফররুখ’, কবি আব্দুর রশিদ খান অনূদিত ‘ঝড়সব ঝবষবপঃবফ চড়বসং ড়ভ  ঋধৎৎঁশয অযসবফ’,মুহম্মদ মতিউর রহমান রচিত ‘ফররুখ প্রতিভা’, ‘কবি ফররুখ আহমদের জীবন ও সাহিত্য সম্পর্কিত তথ্যপঞ্জি’ ইত্যাদি। এ ছাড়া ইয়াসমিন ফারুক কর্তৃক কবির প্রখ্যাত ‘সাত সাগরের মাঝি’ ও ‘সিরাজাম মুনীরা’ কাব্যের  ইংরাজি অনুবাদ প্রকাশে ফাউন্ডেশন সহযোগিতা প্রদান করে। 

ফররুখ গবেষণা ফাউন্ডেশন ফররুখ চর্চায় উৎসাহ প্রদানের উদ্দেশ্যে ২০০৮ সালে ‘ফররুখ গবেষণা ফাউন্ডেশন পুরষ্কার’ প্রবর্তন করেছে।  এ পর্যন্ত যেসব বরেণ্য ব্যক্তিকে এ পুরস্কার প্রদান করা  হয়েছে, তাঁরা হলেন মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ(২০০৮),শাহাবুদ্দীন আহমদ(২০০৯), ড. সুনীল কুমার মুখোপাধ্যায় (২০১০), আব্দুল মান্নান সৈয়দ (২০১১), আব্দুর রশিদ খান (২০১২), অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল গফুর (২০১৩), ড. সদরুদ্দিন আহমেদ (২০১৪) প্রমুখ।  

বলতে দ্বিধা নেই, আমাদের সীমিত সামর্থ্য ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে ফররুখ-চর্চার দিগন্ত আমরা আশানুরূপ প্রসারিত করতে পারিনি। এজন্য নিরতিশয় কষ্ট ও মর্মবেদনা ভোগ করা সত্ত্বেও আমরা আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস অব্যাহত রেখেছি। আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতার কথা চিন্তা করে বিগত ২৪.০৯.২০১৭ তারিখে ফাউন্ডেশনের বার্ষিক অধিবেশনে ফররুখের জন্মশতবর্ষ যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের উদ্দেশ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেই। এরপর ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিশিষ্ট কবি-শিল্পী-সাহিত্যিক-শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটির মাধ্যমে এ পর্যন্ত রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটে ফররুখ জন্মশতবর্ষ উদযাপিত হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা ছাড়াও কবির উপর গ্রন্থ প্রকাশ, বিশেষত ফররুখের শিশুতোষ রচনার একটি নির্বাচিত সংকলন, স্মারক, গানের সিডি ইত্যাদি প্রকাশের ব্যাপক কর্মসূচী রয়েছে। এ কর্ম-পরিকল্পনার বাস্তবায়ন বছরের  শেষাবধি পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এজন্য সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও শুভকামনা প্রত্যাশা করি।

  ফররুখ আহমদের জন্মশতবর্ষ যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য জাতীয় কমিটির সকল সদস্য, বিশেষত বিগত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে যেসব নিবেদিতপ্রাণ কর্মী অক্লান্ত পরিশম করেছেন, শ্রম, সময় ও অর্থের যোগান দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি জানাই আন্তরিক গভীর কৃতজ্ঞতা। 

সবশেষে মহান রাব্বুল আলামীন, যাঁর অপরিসীম মেহেরবানীতে আজকের এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে, তাঁর অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। উপস্থিত সকলকে সদয় উপস্থিতি ও অনুষ্ঠান সফলভাবে বাস্তবায়নে আন্তরিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য শেষ করছি।   

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ