ঢাকা, শুক্রবার 8 June 2018, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভোটার আকর্ষণের বাজেট  বাস্তবায়নযোগ্য নয় 

স্টাফ রিপোর্টার : বাজেট ঘোষণার পর বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ২০১৮-১৯ সালের বাজেট বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতা কথা বলছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক সেনা প্রধান মাহবুবুর রহমান এবং বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কথা বলেছেন মিডিয়ার সঙ্গে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ সালের বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। গত অর্থবছরে চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, এই বাজেট বাস্তবসম্মত নয়। এটি ভোটের বাজেট। জনগণকে ধোঁকা দিয়ে, প্রত্যাশা দিয়ে একটি বড় বাজেট করেছে। সরকার গত বছরের বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ব্যাপক কাটছাঁট করেছে। গত বছরের সংশোধিত বাজেটে যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল, সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এবার আরও ৬৪ হাজার কোটি টাকা বেশি, এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব না।

মোশাররফ হোসেন বলেন, এই অর্থ বছরে কোন এমন কোন কারণ নাই যে, সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ হবে? এটি বিশাল অঙ্কের ঘাটতি বাজেট। এই বাজেটে ঘাটতি ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। যেখানে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা উন্নয়ন বাজেট, সেখানে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঘাটতিÍএই ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নেবে, বিদেশ থেকে ঋণ নেবে। তাতে ঋণের বোঝা আরও বেড়ে যাবে। এমনিতেই বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো দেউলিয়া। সেখানে সরকারকে যদি ঋণ দিতে হয়, তাহলে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ঋণ দিতে পারবে না।

বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয় দাবি করে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিনিয়োগ কম হবে, আমদানি-রপ্তানি কম হবে এ কারণে এই বাজেট লোক দেখানো এবং ভোট আকর্ষণের বাজেট। এই বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়। গত বাজেট বাস্তবায়নের মান দেখে এবার সহজে এটা বোঝা যায়, সরকার এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারবে না। রাজস্ব আদায় করতে পারবে না। সংখ্যা বেশি, বিশাল বাজেটÍএ কারণে নির্বাচনের বছরে ভোট আকর্ষণের বাজেট দেওয়া হয়েছে।

বাজেটের বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন , এই বাজেটে বেশ ভালো-ভালো কথা আছে। প্রতিশ্রুতি আছে। কিন্তু এটা বাস্তবায়ন কতটুকু সম্ভব, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী খাতে বরাদ্দ যথেষ্ট মনে হয়নি। কারণ সশস্ত্র বাহিনী এখন বড় হয়ে গেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। 

তিনি বলেন, এই বাজেটকে ঢাউস বাজেট বলাই যায়। এই বাজেটের মূল উদ্দেশ্য নির্বাচন। এই বাজেট বাস্তবায়ন করা কতটুকু সম্ভব হবে, আমি জানি না। সামনে নির্বাচন রেখে এই বাজেট দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকার বাজেট থেকে কত টাকা চুরি করবে, সেটা তো দেয়নি। সরকার কত টাকা আত্মসাত করবে, কত টাকা খাবে, কত টাকা কে কীভাবে পকেটস্থ করবে  সেটা বলেনি। তিনি বলেন, গরিবের পকেট কাটবে আর নিজেদের পকেট ভরবে, এই বাজেটের উদ্দেশ্য এটাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ