ঢাকা, শুক্রবার 8 June 2018, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রস্তাবিত গতানুগতিক বাজেট শিল্প খাতকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে

*বাজেটে চমক নেই পুরোনো চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে ---- সিপিডি

*প্রস্তাবিত বাজেট শিল্প খাতকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে --- এফবিসিসিআই

*অপরিবর্তিত করের হারে তহবিল সংগ্রহ কঠিন হবে --- ডিসিসিআই

স্টাফ রিপোর্টার: প্রস্তাবিত বাজেট গতানুগতিক। কোনো নতুনত্ব নেই। পুরোনো চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে। এ বাজেট শিল্প খাতকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। অনেক ক্ষেত্রে করের হার না কমিয়ে অপরিবর্তিত রাখায় তহবিল সংগ্রহ কঠিন হবে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন সংগঠন এ মন্তব্য করেন। 

প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন কোনো চমক নেই বলে দাবি করেছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। বাজেট-পরবর্তী তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় সংস্থাটির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরো বলেন, চলতি অর্থবছর যা ছিল আগামী অর্থবছরেও তাই রয়েছে। তাই এক কথায় এ বাজেটকে স্থিতাবস্থার বাজেট বলে অবিহিত করা যায়। তিনি বলেন, পুরনো কাঠামো ও পুরনো চিন্তার মধ্যেই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে।

রাজধানীর লালমাটিয়ায় অবস্থিত সিপিডির কার্যালয়ে বাজেট বক্তব্য শোনার পর উপস্থিত গণমাধ্যমকে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে করপোরেট কর কমানো হয়েছে। এক্ষেত্রে মালিকপক্ষেরই বেশি লাভ হবে। তিনি বলেন, কেন এ কর কমানো হয়েছে তার পেছনে যৌক্তিক ও প্রশাসনিক কোনো কারণ দেখছি না। ব্যাংকিং খাতে নৈরাজ্যের মধ্যে এ ধরনের করপোরেট কর ছাড় দেয়া ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্রের ওপর চাপ কমিয়ে ব্যাংকিং খাতকে চাঙ্গা করা উচিত ছিল। কিন্তু এই ঘোষিত বাজেটকে দেখে মনে হচ্ছে সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকতে হবে। 

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেছেন, প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব নয়। এ বাজেট শিল্প খাতকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফেডারেশন ভবনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পর্যালোচনা ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন সংগঠনটির সভাপতি। 

শফিউল ইসলাম বলেন, বাজেটে সার্বিকভাবে এক লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কেটি টাকার ঘাটতি দেখানো হয়েছে। ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা নেয়া হবে। সঞ্চয়পত্র থেকে নেয়া হবে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। এতে ব্যাংক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পরতে পারে।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ব্যাংক নির্ভর বাজেট উৎপাদন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সম্প্রতি ব্যাংক খাতে সুদহার বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজেটে ব্যাংক লোন নেয়ার ক্ষেত্রে সুদহার বাড়বে না, এটা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকে অস্থিরতার জন্য নিবিড় পর্যালোচনা দরকার।

শফিউল ইসলাম বলেন, আমরা বাজেটে ইনকাম ট্যাক্স সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলাম, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাজেটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। যেন তড়িঘড়ি না করে শেষ তিন মাসে সব প্রকল্পে হাত দেয়া না হয়। তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ, পরিবহন, অবকাঠামো খাতে বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে। বিধবা ভাতা, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এটা ভালো দিক।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)’র সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানির করের হার ৪০ শতাংশ হতে ৩৭.৫ শতাংশ কমিয়ে আনা এবং নন-পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানির করের হার ৪২.৫ শতাংশ হতে ৪০ শতাংশ নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হলেও, পাবলিকলি ও নন-পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানি এবং মার্চেন্ট ব্যাংক খাতে বিদ্যমান করের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যার কারণে পুনঃবিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়তে পারে। কর্পোরেট করের হার কমানো না হলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে। অথচ জিডিপিতে বিনিয়োগের পরিমাণ ১ শতাংশ বাড়াতে হলে প্রায় ২৪-২৫ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন। এমতাবস্থায় জিডিপিতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে হলে কর্পোরেট সেক্টরের সকল খাতে করের হার ন্যূনতম ২.৫ শতাংশ হারে কমানো প্রয়োজন। প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু কিছু পণ্যের উপর ভ্যাটের হার বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে এবং এক্ষেত্রে সকল পণ্যের উপর বিদ্যমান ভ্যাট হার বজায় রাখার আহ্বান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ