ঢাকা, শুক্রবার 8 June 2018, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আন্তর্জাতিক আল-কুদস দিবস আজ

আজ শুক্রবার আন্তর্জাতিক আল কুদস দিবস। বায়তুল মুকাদ্দাস ইসলামের ১ম কিবলা এবং মক্কা মুআয্যামাহ ও মদিনা মুনাওয়ারার পরে তৃতীয় পবিত্র স্থান। হজরত রাসুলে কারিম সাল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কার মসজিদুল হারাম, মদীনার মসজিদুন্নবী ও বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদের উদ্দেশে সফরকে বিশেষভাবে সওয়াবের কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যা অন্য কোন মসজিদ সম্পর্কে করেননি।

হিজরতের পর বায়তুল মুকাদ্দাস ইসলামের প্রথম কিবলা। বায়তুল মুকাদ্দাস দুনিয়ার জন্য অসংখ্য ভূখ-ের মত কোনো সাধারণ ভূখ- নয়। এ পবিত্র ঘর থেকেই খাতামুন্নাবীয়ীন হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিরাজে গমন করেছিলেন।

বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদ এবং তার আশে-পাশের এলাকা বহু নবীগণের স্মৃতি বিজড়িত। এই পবিত্র নাম শুধু একটি স্থানের সাথে জড়িত নয় বরং এই নাম সকল মুসলমানের ঈমান ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এখানে রয়েছে অসংখ্য নবী-রাসূলের মাজার। ওহী ও ইসলামের অবতরণ স্থল এ নগরী নবীগণের দ্বীন প্রচারের কেন্দ্রভূমি। তাই এ পবিত্র নগরীর প্রতি ভালবাসা প্রতিটি মু’মিনের হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত।

হজরত ইবরাহীম (আ.) কা‘বা ঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর হজরত ইয়াকুব (আ.) জেরুসালেমে আল আকসা মসজিদ নির্মাণ করেন। অতঃপর হজরত সুলায়মান (আ.) এই পবিত্র মসজিদের পুনঃনির্মাণ করেন। ৬৩৮ ঈসায়ী সালে দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.) এর খিলাফতকালে পুরো বাইতুল মুকাদ্দাস এলাকা মুসলমানদের দখলে আসে। ১০৯৬ সালে খ্রিস্টান ক্রুসেডারগণ সমগ্র সিরিয়া ও ফিলিস্তিন দখল করে নেয়ার পর বাইতুল মুকাদ্দাস মসজিদের ব্যাপক পরিবর্তন করে একে গীর্জায় পরিণত করে। এরপর ১১৮৭ সালে মুসলিম বীর ও সিপাহসালার সুলতান সালাহ উদ্দীন আইয়ুবী জেরুসালেম শহর মুসলমানদের অধিকারে নিয়ে আসেন। সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর হাতে পরাজিত হওয়ার পর খ্রীস্ট শক্তি পিছু হটলেও ইয়াহুদী চক্র বায়তুল মুকাদ্দাসের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি রাখে। তারা ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে সুদূর মদীনা পর্যন্ত সারা মুসলিম এলাকা নিয়ে বৃহত্তর ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করে।

চির প্রতারক সন্ত্রাসী ইহুদীবাদীদের পরিকল্পনা ছিল গোটা আরব বিশ্ব দখল করার। কিন্তু ফিলিস্তিনীদের দীর্ঘ সংগ্রামের পাশাপাশি অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের জনগণও আজ জেগে উঠছে। তারা নিজ নিজ দেশে শান্তি ও মুক্তির সংগ্রামের পাশাপাশি ফিলিস্তিনীদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইহুদী আগ্রাসনের শুরুর দিন থেকেই কোন না কোন গ্রুপ প্রতিরোধ সংগ্রাম করে যাচ্ছে। হামাস, আল জিহাদ, হিযবুল্লাহ এ ক্ষেত্রে আশা জাগানিয়া ভূমিকা রাখছে। ফলে সাম্প্রতিক দশকে তিনবার ইসরাইল যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে। ওআইসি, ন্যাম, জাতিসংঘ সবসময়ই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে প্রস্তাব পাশ করে আসছে। বিশ্বজনমত আজ ফিলিস্তিনের পক্ষে এবং আরব বিশ্বের ক্যান্সার খ্যাত ইসরাইলের বিপক্ষে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও আল কুদ্স মুক্তির দাবীতে সোচ্চার বিশ্বের সকল ইসলামী পক্ষ। শিয়া-সুন্নী, আরব-অনারবসহ সবাই বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য ও আল কুদ্স-ফিলিস্তিনের মুক্তির কথা বলে। এই ঐক্যে ফাটল ধরানোর বহুবিধ প্রচেষ্টা ইতোমধ্যেই ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে। এরই পাশাপাশি ইহুদিবাদী চক্রের এজেন্টরা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উগ্রবাদী জঙ্গী গোষ্ঠীসমূহ সৃষ্টি করেছে। যারা পরস্পরকে কাফির ফতোয়া দিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। এইসব জঙ্গী গোষ্ঠী নিজেদেরকে ইসলামী বলে দাবী করলেও ফিলিস্তিন-আল কুদ্স এর ব্যাপারে যেমন কোন কথা বলে না তেমনি ইসরাইলের সন্ত্রাসী কর্মকা-েরও প্রতিবাদ করে না। উপরন্ত মধ্যপ্রাচ্যে তাদের উগ্র হাঙ্গামার কারণে ফিলিস্তিন ও আল কুদ্স ইস্যু ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। এতে আল কুদ্সের মুক্তির ব্যাপারটা মুসলমানদের দৃষ্টির অন্তরালে চলে যাচ্ছে। আবার ইসলামের দোহাই দিয়ে মাযহাবী বিতর্ক চাঁঙ্গা করে ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে দিচ্ছে। তারা নিরীহ নারী-পুরুষ ও শিশুদেরকেও নির্বিচারে হত্যা করছে। ষড়যন্ত্রকারীরা নতুন নতুন দল ও উপদল সৃষ্টি করে সমরাস্ত্র, অর্থ ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে যুদ্ধের বিস্তার ঘটানোর মাধ্যমে মুসলমানদের শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টায় নিয়োজিত হয়েছে। একই সাথে তারা এই কর্মকা-ের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের মূল সমস্যা ফিলিস্তিনের বিষয়টি থেকে মুসলমানদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে দেয়ার এবং মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্যের বীজ বপন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর পিছনে মোড়লীপনা করে যাচ্ছে আমেরিকা। সাম্প্রতি ইসরাইল তাদের রাজধানী তেলআবিব থেকে জেরুসালেমে স্থানান্তরের ঘোষণা দেয় এবং আমেরিকা সেই ঘোষণা সমর্থন করে। গত ১৪মে আমেরিকার দুতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুসালেমে স্থানান্তরের সময় নিরস্ত্র প্রতিবাদী ফিলিস্তিনীদের ওপর ইসরাইলের বর্বর সেনাবাহিনীর গুলীতে শতাধিক ফিলিস্তিনী মুসলিম শহীদ হন এবং বর্বোরচিত হামলায় আহতের সংখ্যা প্রায় ২,৫০০ জন। এ বছর ১৫মে ছিল ফিলিস্তিনীদের ওপর ইসরাইলী দখলদারিত্বের তথা মহা বিপর্যয়ের (নাকাবা) ৭০ বছর উপলক্ষে আয়োজিত তাদের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিলে গুলী চালাবার কোনো বৈধতা ইসরাইলের নেই। সম্পুর্ণ অন্যায় ও বর্বরোচিতভাবে ফিলিস্তিনীদের যুগের পর যুগ ধরে হত্যা করে আসছে ইসরাইল। আর এর মদদ দাতার ভুমিকায় রয়েছে আমেরিকা। এর প্রতিবাদে সমগ্র মুসলিম বিশ্ব প্রতিবাদ জানাচ্ছে। 

কর্মসূচি: আন্তর্জাতিক আল-কুদ্স দিবস উপলক্ষে আল-কুদ্স কমিটি বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আজ শুক্রবার সকাল ৩.৩০ টায় বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন মিলনায়তনে (প্রেস ক্লাবের বিপরীতে) ‘আল কুদস ও ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলী দখলদারিত্বের ৭০ বছর, শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এতে অর্থ মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক এমপি সেমিনারে প্রধান অতিথি থাকবেন। এছাড়া দুপুর সাড়ে ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ