ঢাকা, শুক্রবার 8 June 2018, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জনগণের দৃষ্টি বাজেটের প্রতি নিবন্ধ করতেই লম্বা বক্তৃতা দেই : অর্থমন্ত্রী

 

সংসদ রিপোর্টার: জনগণের দৃষ্টি বাজেটের প্রতি নিবন্ধ করার জন্য লম্বা ও বিস্তৃত বক্তৃতা দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। 

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেট পেশ করতে গিয়ে দেশবাসীর কাছে বিগত দশ বছরে আমাদের অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, কিছু ভাবনা আর কিছু স্বপ্ন তুলে ধরলাম। বলা বাহুল্য, আমাদের বিশাল কর্মযজ্ঞের বিস্তৃত উপাখ্যান তুলে ধরার সুযোগ এখানে তেমন থাকে না; কিছুটা আভাস দেয়া যায় মাত্র। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো যে, আমি লম্বা ও বিস্তৃত বাজেট বক্তৃতা দেই। সেটা ঠিক বটে, তবে এ বক্তব্য দেয়ার উদ্দেশ্য হলো জনগণের দৃষ্টি বাজেটের প্রতি নিবদ্ধ করা। সেক্ষেত্রে যথেষ্ট সাফল্য এসেছে বলে আমার মনে হয়। বাজেট বক্তৃতা জনগণ শুনেন অথবা সময়ে সময়ে পাঠ করেন। জটিল বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। বাজেট প্রস্তাব বুঝতে সক্ষম হন। বাজেটে আগ্রহ এখন সারা দেশব্যপী বিস্তৃত।

তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও বাজেটের আকার বেড়েছে। উচ্চ প্রবৃদ্ধি পেতে হলে এর কোন বিকল্পও নেই। তাছাড়া, দেশের জনগণের জীবনমানে মৌলিক পরিবর্তন আনার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো টেকসই উচ্চ প্রবৃদ্ধি। একই সাথে, বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে আর সবার মত আমাদেরও ভাবনা আছে। সেভাবে ব্যবস্থাও নিচ্ছি; পরিস্থিতির উন্নতিও হচ্ছে। চলতি বছরে পাইপলাইনে থাকা বৈদেশিক সাহায্য ব্যবহারে আমরা বেশ সফলতা দেখিয়েছি। রাজস্ব আহরণ ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংস্কারের যে উদ্যোগ আমরা নিয়েছি তাতে রাজস্ব আহরণ যেমন বাড়বে, তেমনি দক্ষ ব্যয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাজস্ব পরিসর বৃদ্ধি পাবে। এ বছরের সংশোধিত বাজেট বাস্তবায়নের হার আবার ৯২ শতাংশ হবে বলে আশা করছি। আমার বিশ্বাস, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগামীতে আমরা অনেক ভালো অবস্থানে থাকবো ।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, যতই সমালোচনা হোক না কেন অর্থনৈতিক অগ্রগতির সহজ ও বোধগম্য নির্দেশক হলো প্রবৃদ্ধির হার। ন্যায্যতা ও সমতা নিয়ে কিছু কথা এখানে যোগ করতে চাই। সঙ্গত কারণেই শুরুর দিকে আমরা উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিকে বেশি নজর দিয়েছি। যদিও নারী ও শিশু উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলোও আমাদের প্রাধিকার তালিকায় ছিল। সামনের দিনগুলোতে আমরা প্রবৃদ্ধিকে সুসংহত ও টেকসই করবো। পাশাপাশি, সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পদ ও সেবায় আপামর জনসাধারণের সহজ সুযোগ গ্রহণ নিশ্চিত করে উন্নয়নের সুফল সকলের নিকট পৌঁছে দিবো। আমাদের লক্ষ্য যুগপৎ সমৃদ্ধি ও সাম্য।

অর্থমন্ত্রী নিজের কাজের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী আমি। তার ডাকে সাড়া দিয়ে ৪৭ বছর পূর্বে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলাম একটি ‘সুখী, সমৃদ্ধ, শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন সোনার বাংলা’ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে। বিগত ১০টি বছর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার সুবাদে সে স্বপ্নের বাস্তব রূপায়ণের প্রয়াস নিয়েছি। আজ দেশে/বিদেশে সকলেই স্বীকার করে যে, এ দশ বছরে দেশ অনেকখানি এগিয়েছে। তবু স্বপ্নের সীমারেখা এখনও স্পর্শ করা যায়নি। এটি নিরন্তর বহমান একটি প্রক্রিয়া। বিগত দশ বছরে আমার প্রচেষ্টার সাথে ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণা ও প্রাজ্ঞ দিকনির্দেশনা, মন্ত্রিপরিষদে ও জাতীয় সংসদে আমার সুযোগ্য সহকর্মীবৃন্দের সহযোগিতা এবং প্রাজ্ঞজনের গঠনমূলক সমালোচনা, সর্বোপরি দেশের সকলস্তরের জনসাধারণের আগ্রহ ও আশা। আমাদের নীতি-কৌশল সাদরে গ্রহণ করে তারা উন্নয়ন প্রচেষ্টায় স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেছেন। সকলের প্রতি রইল আমার গভীর কৃতজ্ঞতা। সব মিলিয়ে দেশকে কতটা দিতে পেরেছি তার মূল্যায়ন দেশবাসী আর বিশ্ব করছে। তবে, এটুকু দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে পারি আমার মননে ও কর্মে আমি কেবল আমার দেশের অগ্রযাত্রাকেই বিবেচনায় রেখেছি।

তিনি বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে বলেন, বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা আমাকে বিস্মিত ও স্বপ্নচারী করে। আমি অবাক বিস্ময়ে দেখি কতটা আঘাত সহ্য করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে এদেশের জনগণ, স্বল্প সম্পদ ও সীমাহীন সীমাবদ্ধতার মাঝে ‘বাসকেট কেস’ এর অপবাদ কাটিয়ে একটি দেশ কিভাবে ‘উন্নয়ন বিস্ময়’ হয়ে উঠে। যে দেশের শ্রম বাজারে আছে ২ কোটিরও অধিক সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণী, যে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো প্রত্যন্ত গ্রাম-পাড়া-মহল্লা এমনি দুর্গম পার্বত্য এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত, যেখানে এখনও অনাবিষ্কৃত রয়েছে অমিত সমুদ্র সম্পদ, প্রতিনিয়ত যেখানে উন্মোচিত হচ্ছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার এবং যে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি ১৬ কোটি স্বতঃস্ফূর্ত জনগণ সে দেশের অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত বা প্রতিরোধ করার সাধ্য কারো নেই। এখন প্রয়োজন কেবল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব কিছুর সুসমন্বয় এবং সঠিক ও সুযোগ্য নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা। সমৃদ্ধ আগামীর পথে বাংলাদেশের অভিযাত্রার ‘রূপকল্প-২০৪১’ প্রণয়নে আমি বয়সের কারণেই হয়ত তেমন ভূমিকা রাখতে পারবো না; তবে, কাজ যে শুরু হয়েছে তাতে আমি খুবই তৃপ্ত ও নিশ্চিত। অবশ্যই সে উদ্যোগের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার চেষ্টা করবো। এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে এবং সমৃদ্ধ আগামীর পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় দৃঢ় বিশ্বাস ঘোষণা করে আমি ২০১৮‑১৯ অর্থবছরের বাজেট এ মহান সংসদে পেশ করছি। আমি নিশ্চিত এ বাজেট বাস্তবায়নে দেশের আপামর জনগণ তাদের উদ্যোগ, সৃজনশীলতা, কর্মদক্ষতা, অংশীদারিত্ব এবং সর্বতোভাবে স্বতস্ফূর্ততা নিয়ে অংশগ্রহণ করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ