ঢাকা, শুক্রবার 8 June 2018, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঝালকাঠিতে সেমাই কারখানায় দৈনিক ১২০ টাকা মজুরিতে শ্রম দিচ্ছে শিশুরা

ঝালকাঠি সংবাদদাতা: ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করে শিশু শ্রমে নিয়োজিত হয়েছে আলিম (১৩)। তার পিতা একজন ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী। মা মারা গেছেন ৫ বছর পূর্বে। বাবা আরেকটি বিয়ে করেছেন। অভাবের সংসারে সৎ মায়ের বৈষম্য মূলক আচরণ ও অর্ধাহার-অনাহারে দিন অতিক্রম করায় শিশু শ্রমের কাজে আসতে বাধ্য হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮ টায় শুরু করে সারা দিন কাজ করে সন্ধ্যা ৬ টায় ছুটি হয়। এ সাড়ে ১০ ঘণ্টা কাজ করে দৈনিক বেতন পাচ্ছে ১শ ২০ টাকা মাত্র। কথাগুলো বলছে কুলসুম সেমাই কারখানায় নিয়োজিত শিশু শ্রমিক আঃ আলিম। তার বাড়ি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউরী গ্রামে। শহরের সেমাই কারখানা গুলো ঘুরে দেখা গেছে শুধু আলিম নয় এভাবে আরো শিশু শ্রম রয়েছে মক্কা, মিনার, মদিনা, কুলসুম, নুরানী সেমাই তৈরী কারখানায়। মক্কা সেমাই কারখানায় রয়েছে ইমরান (১৪), হাসান (১৬), রাকিব (১৫), জাকির (১৬)। এরা সবাই ফরিদপুর থেকে এসেছে সেমাই তৈরীর কাজ করতে। মদিনা কারখানায় রয়েছে সজিব (১৩), হান্নান (১৪)। কুলসুম কারখানায় রয়েছে আলিম (১৩), ওমর ফারুক (১২)। নুরানী কারখানায় রয়েছে সজীব (১৭), হিরা হাওলাদার (১৫)। এরা খামি মিশানো, চুল্লিতে লাকরি দেয়া, কারখানা পরিস্কার করা, প্যাকেটিং কাজ করার জন্য নিয়োজিত। কর্মদক্ষতা অনুযায়ী কাজ ভাগ করে দেয়া হয় এ শিশু শ্রমিকদের। নুরানী মিল ব্যবস্থাপক মোঃ সুলতান হোসেন জানান, আমরা শ্রমিক সরদারদের মাধ্যমে লোকজন নিয়ে থাকি। তারাই কাজ বুঝে শিশু-বয়স্ক নিয়ে আসেন। ওদের বেতনও শ্রমিক সরদারের মাধ্যমে দেয়া হয়। শিশু শ্রমের ব্যাপারে মদিনা লাচ্ছা সেমাই কারখানার মালিক মোঃ নান্না মিয়া জানান, অভাবী শিশু-কিশোররা আসে এখানে কর্ম সংস্থানের খোঁজে। আমরা যেভাবে শর্ত দেই তাই তারা মেনে কাজ করছে। তবে ওদেরকে ঝুকিপূর্ণ কোন কাজে দেয়া হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্যাকেটিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়। স

দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আতাহার মিয়া জানান, রমযান উপলক্ষ্যে যাতে জেলার কোথাও ভেজাল খাদ্য বিক্রি বা দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি না হয় সে দিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারী করা হচ্ছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। শিশু শ্রমের বিষয়টিও দেখা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ