ঢাকা, শুক্রবার 8 June 2018, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে জমে উঠেছে ঈদের বাজার

চট্টগ্রামে একটি অভিজাত দোকানে কাপড় দেখছে ক্রেতারা

নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামে জমে উঠেছে ঈদের বাজার। আর মাত্র আটদিন পরই ঈদুর ফিতর। তাই বেচা-কেনার ধুম পড়েছে। নগরীর মার্কেটগুলো ক্রেতাদের পদচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে। পছন্দের পোশাক কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ক্রেতারা। এখন দোকানিদের এক মুহূর্তও দম ফেলার ফুসরত নেই। নগরীর মার্কেটগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই থাকবে না। 

নগরীর এমন কোনো বিপণি বিতান নেই যেখানে নারী, পুরুষ, তরুণ, শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের পদচারণা নেই। তারা মনের আনন্দে নিজেদের পছন্দমতো ঈদের কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন। আর এই আনন্দে শামিল হচ্ছেন পরিবারের কর্তারাও।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ঈদের কেনাকাটা। ধনী ও গরীব সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ঈদের নতুন পোশাক কেনার জন্য। কিনছেন নিজের জন্য, আত্মীয়, স্বজন, বন্ধু-বন্ধবকে উপরহার  দিতেও কেনা হচ্ছে ঈদের পোশাক। সমানতালে চলছে বিক্রেতাদের সঙ্গে দর-কষাকষিও।

কর্মজীবী, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী সব স্তরের মানুষ এখন কাজের ফাঁকে পরিবারকে সময় দিচ্ছেন। তারা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়াতে প্রতিটি অভিজাত মার্কেটে দোকানের সামনে মানুষের মডেল রূপে সাজিয়ে রাখা হয়েছে পুতুল। সাজিয়ে রাখা এসব পুতুলের গায়ে বেশীরভাগই ভারতীয় পোশাক।

তীব্র গরম ও দাবদাহ উপেক্ষা করে ক্রেতারা সকাল-বিকেল ঈদের কেনাকাটা করছেন। কিন্তু এ সময়ে হাতে কম সময় থাকায় ও গরমের তীব্রতা বেড়ে গেলে ক্রেতারা কেনাকাটার সময় পরিবর্তন করে নেন। সকালে ও দুপুরে প্রখর রোদ ও গরম পড়ায় এখন ক্রেতারা সন্ধ্যার পর মার্কেটে আসেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটা করেন। 

কয়েকজন দোকান কর্মচারীরা জানান, সকালে কিছুটা ফাঁকা থাকলেও দুপুরের পর থেকে ক্রেতাদেরে উপচেপড়া ভিড় হয়। ঈদের শেষমুহূর্তে এসে এ ভিড় আরও তীব্র হয়েছে। তারা জানান, ছেলেরা বেশিরভাগ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পাঞ্জাবি। মেয়েরা নিচ্ছেন ঢিলেঢালা থ্রি-পিস। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর সেন্ট্রাল প্লাজা, ইউনেস্কো সেন্টার সানমার ওশান সিটি, লাকি প্লাজা, সাউথল্যান্ড সেন্টার, বিপণি বিতান, ফিনলে স্কয়ার, আখতারুজ্জামান সেন্টার, সিঙ্গাপুর মার্কেট, গুলজার টাওয়ার, মতি টাওয়ার, মিমি সুপার মার্কেট, আফমি প্লাজা, আমিন সেন্টার, রিয়াজউদ্দিন বাজার, তামাকুমন্ডি লেইন, শাহ আমানত মার্কেট, ঝলক প্লাজা, বিনিময় টাওয়ার, বে শপিং, ভিআইপি টাওয়ার, অ্যাপোলো শপিং, চকভিউ, কেয়ারি ও জহুর হকার্সসহ সব মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। কোথাও তিল ধারনের ঠাঁই নেই। 

তবে, প্রতিবছরের মতো এবার কম আসেনি ভারতীয় পোশাক। এখানকার অভিজাত শপিং মলগুলো ভারতীয় পোশাকে সয়লাব। ভারতের নিম্নমানের কাপড়ে ছেয়ে গেছে এখানকার ঈদ বাজার। বাহারি নাম দিয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এ সব পোশাক। বলতে গেলে, ভারতীয় পোশাকের দখলেই চট্টগ্রামের ঈদ বাজার।

শুধু চাকচিক্যের মোহে পড়ে তরুণ প্রজন্ম ঝুঁকে পড়ছে এসব কাপড়ের দিকে। পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে ব্যাপক হারে আমদানি করা হয়েছে ভারতীয় পোশাক। ফলে দেশিয় পোশাক শিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। গুণে ও মানে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও দেশি পোশাক বিক্রির পরিমাণ খুব কম। 

বিক্রেতারা জানান, ডিজাইনকে ঈদের পোশাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। দেশিয় পোশাকের চাইতে ভারতীয় পোশাক বেশি ঝলমলে। সেগুলোর চাহিদাও ক্রেতাদের মাঝে বেশি দেখা যাচ্ছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে রোজার আগেই ভারতীয় পোশাক আমদানি করা হয়েছে। বিক্রিও অনেক ভালো হচ্ছে। দোকানিরা জানান, বিশেষ করে তরুণীরা এ পোশাক কিনতে ঝুঁকছে বেশি। উন্নত মানের কাপড় বিক্রি কম হচ্ছে শুধু এ কারণে।

দেশি কাপড়ের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, ভারতীয় সংস্কৃতি ব্যাপক হারে বাংলাদেশে প্রবেশ করায়, একদিকে যেমন দেশি সংস্কৃতির কদর হারাতে বসেছে। তেমনি ভারতের নায়িকারা যেসব পোশাক পরছে তাদের দেখে তরুণ প্রজন্ম অনুকরণ করছে। ফলে ভারতের কাপড় নিম্নমানের হলেও বেড়ে গেছে চাহিদা। এতে হাজার হাজার কোটি টাকার মুনাফা চলে যাচ্ছে ভারতে। সরকার এ বিষয়গুলো বিবেচনা না করলে খুব দ্রুত দেশের অর্থনীতি ভারতের হাতে চলে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবো আমরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ