ঢাকা, শুক্রবার 8 June 2018, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা শাখায় নিয়ম বহির্ভূত টাকা প্রদানে বঞ্চিত অধিকাংশ গ্রাহক

খুলনা অফিস : মহেশ্বরপাশা এলাকার বাসিন্দা মো. মুনসুর আলী ও গল্লামারীর ইয়াকুব হোসেন। দুইজনই বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা শাখায় এসেছেন নতুন টাকার নোট নিতে। একজন পেয়েছেন ২০ টাকার তিন ব্যান্ডেল। অপরজন বঞ্চিত হয়ে ফিরছেন বাসায়। দুপুর সাড়ে ১২টায় আশা নিয়ে থাকার পালাও শেষ। কাউন্টার থেকে কর্মকর্তাদের ঘোষণা নতুন টাকার বান্ডিল শেষ। অপেক্ষা করতে বলছেন বেলা ২টা পর্যন্ত। জনপ্রতি চাহিদার সমপরিমাণ টাকা দেয়ার পরে আর না থাকলে দেয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা শাখাসহ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে রোববার থেকে নতুন টাকার বিনিময় শুরু। এই নোট বিনিময় করা হবে আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত প্রত্যেক ব্যক্তি ব্যাংক থেকে ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৫০ টাকা এবং ১০০ টাকার একটি করে প্যাকেট বদলে নিতে পারবেন। সে হিসেবে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকার নতুন কাগুজে নোট বদলে নিতে পারবেন। তবে ব্যাংকের কাউন্টার থেকে যেকোনো মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা যতটা খুশি নিতে পারবেন। কিন্তু একই ব্যক্তি একই টাকার একাধিক বান্ডিল নিলেও দেয়া হচ্ছে। তাদেরকে কোনো ধরনের বাধার সম্মুখিন হতে হচ্ছে না। একই সাথে অনেকে কোনো টাকার বান্ডিল না পেলে তা পুনরায় নেয়ার চেষ্টা করছেন। যার ফলে অনেকে নতুন নোট পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে যেয়েও ব্যর্থ হচ্ছে নোট পেতে।

সরেজমিন নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংকের খুলনায় শাখায় বৃহস্পতিবার নতুন নোট বিনিময় কাউন্টার। ঘড়ির কাঁটায় সকাল সাড়ে ১১টা। দায়িত্বরত পুলিশের পাশ কাটিয়ে অপর পুলিশ সদস্যের টাকা নেয়ার প্রস্তুতি। পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টরের বাধায় ফিরে আসেন। দুপুর সাড়ে ১২টার আগেই ১০ টাকার বান্ডিল শেষ। দুপর সাড়ে ১২টায় কাউন্টার থেকে টাকা সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ। অপেক্ষার পালা শেষে বঞ্চিত হয়ে গ্রাহকরা ফিরছেন বাসায়। তাতে কি কেউ না কেউ অপেক্ষাতো করবেই। বেলা একটায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলতেই এগিয়ে আসেন দায়িত্বরত পুলিশের কনস্টেবল শাহেদ। তিনি নিজের ইচ্ছায় এসে পরিচয় জেনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে তার নাম লিখতেই তিনি বাধা সৃষ্টি করেন। মোবাইলফোনে ডাক দেন তার স্যারকে। তিনি হলেন পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর জাহিদ। তিনি এসে যথারীতি প্রতিবেদককে নিয়ে ব্যাংকের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের কাছে ঘোরাঘুরি করেন। বেলা তিনটার সময় কাউন্টারে টাকা লেনদেন করতে দেখা গেলেও সেখানে পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।

জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে আসা ইস্্রাফিল জানান, তিনি সকালে এসে নতুন নোট নেয়ার জন্য কেবল কাউন্টারের কাছে আসেন। আর তখনই টাকা শেষ হয়ে যায়।

বড়বাজার থেকে আসা লিয়াকত হোসেন বলেন, তিনি বুধবার এসেও দুপুরের পরে টাকা পাইনি। বৃহস্পতিবার সকালেও টাকা পাওয়ার আগে শেষ। কপালে বুঝি নেই।

শাহেদ নামের ওই কনস্টেবল বলেন, এখানে লাইনে কোনো সমস্যা নেই। আর আপনি আমার নামার লিখলেন কেন? আমার স্যারের সাথে কথা বলেন।

সাব-ইন্সপেক্টর জাহিদ বলেন, এখানে কোনো ধরনের দুর্নীতির সুযোগ নেই। আপনি কার অনুমতি নিয়ে আসছেন? তিনি কাউন্টারের দায়িত্ব থেকে ব্যাংকের একটি টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্থানে গিয়েছিলেন।

নোট বিনিময় কাউন্টারের দায়িত্বরত ডেপুটি ম্যানেজার (ক্যাশ) শাহেদ আহমেদ খান বলেন, একজন গ্রাহক যে পরিমাণ টাকা চাইবে থাকলে সেই পরিমাণ দেয়া হবে। যদি ২০ হাজার চায় তবুও দেয়া হবে। আর দুইবার নিচ্ছে কিনা তা তিনি জানেন না।

খুলনায় ময়ূর নদীর পানি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি

খুলনা মহানগরীর পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ১১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ময়ূর নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। জলজপ্রাণির বেঁচে থাকার সুযোগ নেই। মানববর্জ্য, নানাবিধ আবর্জনা ও নগরী থেকে নর্দমা দিয়ে বয়ে আসা বিষাক্ত পানি ময়ূর নদীর পরিবেশ বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এই পানি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক।

পরিবেশ অধিদপ্তর, খুলনার মে মাসের বিভিন্ন নদীর পানি পরীক্ষার প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিওএ’র মান নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম হওয়ায় পানি প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে। পিলখানার গরুর রক্ত প্রতিদিন রাতে ময়ূর নদীতে এসে পড়ছে। প্রতি মাসে শহর থেকে ভেসে আসা পলিথিনের পরিমাণ প্রায় দুই মেট্রিক টন। এছাড়া মানববর্জ্য পরিবেশ বিপর্যস্ত করে তুলছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট কামরুজ্জামান সরদার জানান, বর্জ্য নিক্ষেপ বন্ধ, অবৈধ দখলদার মুক্ত হলে ময়ূর নদীকে বাঁচানো সম্ভব হবে। মহানগরীর স্বার্থে ময়ূর নদীকে বাঁচাতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এক প্রকাশনায় বলা হয়েছে, উপকূলীয় এলাকার ভূ-গর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততা বেড়েইে চলেছে। পানিতে লবণাক্ততা উপকূলের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে। নানা ধরনের চর্মরোগ হচ্ছে মানবদেহে।

কুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের খসড়া গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধ দখল ও ভরাটের কারণে ময়ূর নদী দিয়ে পানি নিষ্কাশন হয়না। ফলে শহরের ১৫ লাখ লোকের মধ্যে এক তৃতীয়াংশের অধিক লোক জলাবদ্ধতার ফলে নানা সমস্যায় ভোগে। মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের ফলে নগরীর ৮০ ভাগ রাস্তা পানিতে নিমজ্জিত হয়। মহানগরীর পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ময়ূর নদী ভূ-উপরিস্থ পানির বড় আধার। ময়ূর নদী বিশাল এক মিষ্টি পানির আধার। যার সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় খুলনা নগরীর সুপেয় পানি সরবরাহের চাহিদা পূরণ করতে পারতো। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সুপারিশমালায় বলা হয়েছে, ময়ূর দখলমুক্ত ও বর্জ্য নিক্ষেপ না করা হলে এখানকার পানি ব্যবহারযোগ্য হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর, খুলনা জানুয়ারি-এপ্রিল পর্যন্ত খুলনার ২৫টি হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবার পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রমাণিত হয়েছে পানি কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া মুক্ত। উল্লেখযোগ্য হোটেল- রেস্তোরাঁগুলো হচ্ছে ময়লাপোতা মোড়ের তৃষ্ণা সুইটস, নিউ জয় মা ঘোষ ডেয়ারী, খান-এ সবুর রোডের বিরানি ঘর, যাদব ঘোষ ডেয়ারী, ময়লাপোতার নাস্তা হাউজ, শিববাড়ির সাদ্দাম হোটেল, নিমন্ত্রণ হোটেল, সিমেট্রি রোডের হোটেল কস্তুরী, নিরালা এলাকার যমযম মিষ্টি ঘর, ফুলতলার মুসলিম হোটেল, খাজনা হোটেল, নিউ আনন্দ হোটেল, খুলনার বয়রার আল মদিনা হোটেল, আকাশ হোটেল ইত্যাদি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ