ঢাকা, রোববার 10 June 2018, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৪ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দু’তিন মাসের মধ্যে রাজনীতি পাল্টে যাবে ভদ্রলোকের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আর হবে না -ব্যারিস্টার মওদুদ

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত বিনা বিচারে হত্যাকা- ও মৌলিক অধিকার শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : উপযুক্ত কর্মসূচি ও কঠোর আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের  ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আজকে আমার এলাকায় যাব বলে পুলিশ তিন দিন আগে থেকে নেতাকর্মীদের ধরার জন্য রেড দেয়া শুরু করেছে। কিন্তু হয়তো আর দুই তিন মাস পরে যখন যাব তখন এই পুলিশই আমি যেন ভালোভাবে যেতে পারি সেই ব্যবস্থা করবে। এটা হবে, হতে বাধ্য। তিনি বলেন, এমন একটা সময় আসবে যখন এই সরকার বুঝতে পারবে যে, তাদের আর ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নেই। তাদের কোন ভবিষ্যৎ নেই। স্প্যাসিফিকভাবে বলতে পারি না। তবে আর কিছুদিন অপেক্ষা করুন। ধৈর্য ধরুন। উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত কর্মসূচি দেয়া হবে। সেই কর্মসূচি কঠোর কর্মসূচি হবে। কোন নরম বা ভদ্রলোকের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আর হবে না।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত ‘বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড ও মৌলিক অধিকার শীর্ষক’ গোল টেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাদক অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে মওদুদ বলেন, সঠিক তালিকা ধরে মাদক ব্যবসায়ীদের না ধরে চুনোপুটিদেরকে বিনা বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। আগামীতে বিনা বিচারের এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে।
তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের নামে দেশে যে হত্যাকাণ্ড পরিচালনা হচ্ছে তার অধিকার কে দিয়েছে? বিনা বিচারে এমন হত্যাকাণ্ড কোন আইনে করা হচ্ছে? কে মাদক ব্যাবসায়ী, কে মাদক সম্রাট তার তালিকা করলো কারা?
মওদুদ আরও বলেন, মাদকের বিস্তারের জন্য দায়ী সরকার নিজেই। গত দশ বছর ধরে তারা ক্ষমতায়, এতদিন কি কোনও উদ্যোগ ছিল মাদক নিয়ন্ত্রণের? যদি থাকতো তাহলে আজ এভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণের নামে অভিযান পরিচালনা করতে হতো না। নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে সরকার। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের জন্য তাদেরকেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
ব্যাংকে যে অস্থিরতা তা নিয়ন্ত্রণের কোন পদক্ষেপ নেই সরকারের উল্লেখ করে মওদুদ আহমদ বলেন, নানাভাবে নানা কৌশলে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করছে দুর্নীতিবাজরা। কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকার। লুটেরা লুটপাট করে খাচ্ছে। ব্যাংকিং কমিশন গঠনের ছিঁটেফোটাও বাজেটে উল্লেখ নেই। কর্মসংস্থানের সৃষ্টির ওপর কোন গুরুত্ব দেয়া হয়নি বাজেটে। ধনীকে ধনী করবে এই বাজেট, গরীবকে আরও গরীব করবে। এই বাজেট প্রশ্নবিদ্ধ।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে আওয়ামী লীগকে বাধ্য করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারণ আমরা জানি কোন ফ্যাসিবাদী সরকার ও স্বৈরাচারী সরকারকে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে উৎক্ষাত করা যায় না। পৃথিবীর কোথাও সম্ভব হয়নি, আমাদের দেশেও সম্ভব না। ১৯৬৯ সালের আন্দোলন ও ১৯৯০ সালের আন্দোলন এগুলো সবই জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী হয়েছে। সংবিধান মানুষের মঙ্গলের জন্য। সুতরাং সংবিধান কখনো বাধা হবে না। বর্তমান সরকার বলে সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। মোটেও না। জনগণ যেভাবে চাইবে সেভাবেই নির্বাচন হবে।
২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেট সম্পর্কে বলেন, হলমার্ক থেকে শুরু করে ব্যাংকগুলোতে লুট শুরু হয়েছে। এখন ব্যাংকে তারল্য সংকট চলছে। আমরা দেখেছি সরকারের পক্ষ থেকে টাকা দিয়ে ব্যাংক বেঁচে রাখা হচ্ছে। আজকে ব্যাংক খাতে চরম সংকটে রয়েছে। অথচ ব্যাংকিং কমিশন গঠন করার ব্যাপারে বাজেটে কোন নির্দেশনা নেই। জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। ব্যাংকের মালিককে সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। সাধারণ দরিদ্র মানুষের জন্য কিছু রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী আজ কারাগারে। তার জামিন নিয়ে তাল বাহানা করছে। আমি কোনদিন শুনিনি জামিনের বিরুদ্ধে লিভ দেয়া হয়। আবার জামিন বিলম্বিত করার জন্য দেরি করে তারিখ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, যতোই বিলম্বিত করুন। জামিন হবে। এটা মানুষের মৌলিক অধিকার। যেদিন খালেদা জিয়া বের হবেন সেদিন কি হবে সেই ভয়ে ভীত সরকার। সরকার জানে খালেদা জিয়া বের হলে কি হবে। তিনি বের হলে আমরা আর ২০ দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব না। দেশের যতো গণতান্ত্রিক শক্তি আছে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।
 বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন,স্বাধীনতার পর তিন বছরে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান কিছু ভালো জিনিস দিয়েছিল এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। তবে তাদের সঙ্গে যেসব মানুষ ছিল তার একজনও এখন নেই। যে আওয়ামী লীগ এখন ভর করেছে কিছু উচ্ছিষ্ট লোকদের ওপর। এই উচ্ছিষ্ট হল হাসানুল হক ইনু, শাজাহান খান ও মতিয়া চৌধুরীর মতো মানুষ।
তিনি বলেন, জহির রায়হান তার ভাইকে খুঁজতে গিয়ে প্রথম গুম হয়েছিল। আর সিরাজ সিকদার হল প্রথম রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার। এখনও গুম ও হত্যাকা- হচ্ছে। আগেও আওয়ামী লীগ করেছে। এখনো সবই এই আওয়ামী লীগ করছে। তবে মনে রাখতে হবে নরওয়েতে মধ্যরাতেও সূর্য ওঠে। বাংলাদেশে কখন মধ্যরাতে সূর্য উঠবে। সেটা সময়ই বলে দেবে। আলাল বলেন,বিএনপির সকল উদারতা আজ তাদের জন্য কাল হয়েছে। অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে, ‘কাল হয়েছে কলিকাল, ছাগলে চাটে বাঘের গাল।
 শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সকল বিজয় সব সময় গৌরবের বিজয় নয়। লর্ড ক্লাইভ ও মির জাফরও বিজয়ী হয়েছিল। কিন্তু সারা বাংলার কোন মানুষ তার সন্তানের নাম মির জাফর রাখে না।
নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উপদেষ্টা হাজী মো. মাসুক মিয়ার সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন-  সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহ মো. নেসারুল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ সভাপতি ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ