ঢাকা, রোববার 10 June 2018, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৪ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তাড়াশে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং ॥ জনজীবন অতিষ্ঠ

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) থেকে শাহজাহান : তীব্র খরা আর প্রখর তাপদাহে গ্রাম- গঞ্জের কৃষকদের যেন জানে পানি নেই। এদের মধ্যে শিশু ও নারী বেশী ছটফট করছে। তীব্র খরায় জনমানুষের পাশাপাশি গৃহপালিত পশু পাখিরা পর্যন্ত হাফিয়ে উঠেছে। সারাদিন কাজ কর্ম শেষ করে একটু বিশ্রাম নিতে যাবেন ঠিক তখনই বিদ্যুত চলে যায়। রমযান মাস সবার আশা ছিল বিদ্যুতের আলোতে ইফতার সেহরী ও তারাবিহ নামায আদায় করবেন। কিন্ত প্রতিদিন যখন তারাবিহ নামাযের সময় হয় তখনই বিদ্যুত চলে যায়। গভীর রাত পযন্ত  বিদ্যুত থাকেনা। হঠাৎ একটু বিদ্যুতের দেখা মিললেও পরক্ষণেই আবার চলে যায়। ডিজিট্যাল দেশে ডিজিট্যাল ভেলকিবাজি এই দুর্ভোগের যেন শেষ নেই।  জেলার তাড়াশে ৮ইউনিয়নের বিদ্যুতের ভেলকিবাজি চরম আকার ধারণ করেছে।   ঘনঘন লোডশেডিং এ জনজীবন অতিষ্টহয়ে উঠেছেতাড়াশ- রায়গঞ্জ এলাকার মানুষ। বছরের প্রত্যেক দিন লোডশেডিং জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিংয়ের কারনে বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গ্রহকরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ চালিত কলকার খানা ও কৃষি জমিতে সেচ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে করে  বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলো ব্যাপকভাবে লোকসানে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকে জানিয়েছেন। এছাড়া ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে নষ্ট হচ্ছে বাসা বাড়িতে থাকা ফ্রিজে রাখা শিশু খাদ্যসহ  মাছ-মাংস ও কাচা তরকারী। তাড়াশ উপজেলার হামকুড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক আঃ জব্বার  জানান তাড়াশে সব সময়ই ঘনঘন লোডশেডিং এ রমযানের রোজাদার ব্যক্তিরা ও ইতেকাফের মসল্লিদের দুর্ভোগ ,ব্যাংক ,বীমা,ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গুলোতে গ্রাহকরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছে।  বাসা বাড়িতে মোটরে পানি না উঠায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। তাড়াশের  সোনালী ব্যাংকে সবচেয়ে বেশী মানুষের ভীড় থাকে । বিশেষকরে সকল চাকরি জীবিদের ভীড় লক্ষ্য করা যায় , দেখা যায় ঘন ঘন বিদ্যুৎতের অভাবে বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় জরুরী কাজ সারতে হয়্। জেনারেটরের শব্দ দুষণে পরিবেশ দুষিত হচ্ছ্ ে। কম্পিউটারও ফটোস্ট্যাট এর দোকানে আসা গ্রাহকরা সময় মত কাজ করতে না পেরে ধৈর্যহারা হয়ে পড়ছেন। নষ্ট হচ্ছে তাদের মুল্যবান সময়। ওয়েল্ডিং কারখানা গুলোতে লোডশেডিংয়ের কারণে সময়মত কাজ ডেলিবারি দিতে না পারায় গ্রাহকদের কাছে গাল মন্দ শুনতে হচ্ছে।  লোডশেডিং যেন নিত্যদিনের রুটিন।এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলার হামকুড়িয়া গ্রামের আঃ সোবহান বলেন  যে সময় কোমলমতি ছেলে মেয়েরা লেখা পড়ায় মগ্ন থাকার কথা কিন্তু বিদ্যুতের অভাবে তারা আড্ডায় মেতে উঠছে। বছরের শুরু থেকেই ভেলকিবাজি আর বিরামবনা লেগেই আছে।  সন্ধার পর কোন দিনই বিদ্যুৎ থাকেনা। বিদ্যুতের অভাবে ছাত্র/ছাত্রীরা প্রচন্ড গরম আর মশার অত্যাচার হতাশার মধ্যে জীবন যাপন করছে। তাড়াশ উপজেলা সদরে বিদ্যুত থাকলেও ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুত থাকেনা। তাই দ্রুত বিদ্যুত সমস্যার সমাধান করা না হলে চলনবিলের কৃষকদের এ সব এলাকার  কৃষকদের চাষাবাদের পাশাপাশি শিল্প স্থাপনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পল্লি- বিদ্যুতের তাড়াশ ডিজিএম কামরুজ্জামান বলেন, মধ্যরাতে বিদ্যুত চলে গেলে কিছুই করার নেই। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুত উৎপাদন কম হওয়ায় লোভশেডিং দিতে হয়।  বিদ্যুতের চাহিদা মিটাতে গিয়ে একদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ যেমন হিমশিম খাচ্ছে। অপরদিকে গ্রাহকেরা সামান্য পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে তাদের  দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে গিয়ে নাকাল হয়ে পড়ছে। তাড়াশে বিদ্যুতের  স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে  কতদিন লাগতে  পারে এ প্রশ্নের  জবাবে তিনি সব কিছু এরিয়ে যান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ