ঢাকা, রোববার 10 June 2018, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৪ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হালাল-হলিডে ভাবনা

কিছুটা ভ্রমণ, কিছুটা বিনোদন মানুষের প্রিয় বিষয়। বিষয়টি সামনে রেখে বিভিন্ন দেশে গড়ে উঠেছে পর্যটন শিল্প, পর্যটন নগরী। তবে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার ব্যাপারেও চলে আসে জীবনদর্শনের ব্যাপার। বেপরোয়া ভোগবাদকে প্রাধান্য দিলে পর্যটন নগরী নির্মিত হবে একভাবে। আবার নৈতিক মূল্যবোধকে গ্রাহ্য করলে পর্যটন নগরী গড়ে উঠবে অন্যভাবে। এমন ভাবনা লক্ষ্য করা গেছে তুরস্কে। ফলে পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে, ‘মুসলমানদের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে তুরস্কের হালাল হলিডে।’
গত ৭ জুন ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘হালাল হলিডে’ ব্যবস্থা। একটু ছুটি পেলেই বেশির ভাগ মানুষ ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে প্রতিদিন ভিড় জমান কোটি কোটি মানুষ। তবে বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য সব পর্যটন নগরী উপযুক্ত নয়। আবার অনেক জায়গায় পর্দা করে পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরতে পারেন না ধর্মপ্রাণ মুসলিম নারীরা। এমন প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মালয়েশিয়ার পর ইউরেশিয়ার দেশ তুরস্কে চালু হয়েছে ‘হালাল হলিডে’ ব্যবস্থা। হালাল-হলিডের জন্য ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দেশটি। বিভিন্ন প্যাকেজ ঘোষণা করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আকৃষ্ট করার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
হালাল হলিডে উদ্যোগের ফল মিলছে হাতে নাতে। গত বছর তুরস্কে সাধারণ পর্যটকদের সংখ্যা কমলেও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে হালাল হলিডে পর্যটকদের সংখ্যা। তুরস্কে ৬০টির বেশি হোটেল ও রিসোর্টে মুসলিম পর্যটকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা আছে। এর মধ্যে রয়েছে নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা সুইমিংপুল ও সৈকতের ব্যবস্থা। প্রতিটি হোটেলে আছে জায়নামাজ ও কুরআন শরীফ। আর আছে হালাল খাবার। এসব হোটেলে কোনো অ্যালকোহল পাওয়া যাবে না। নারীদের সুইমিংপুলে আছে নারী নিরাপত্তা কর্মীরা। ফোন আর ক্যামেরা জমা দেয়ার পরই অতিথিরা সেখানে প্রবেশ করতে পারেন। এই ব্যবস্থাগুলো পছন্দ করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। হালাল হলিডে চালুর পর তুরস্কে বিদেশী পর্যটকের সংখ্যাও বাড়ছে। বাংলাদেশ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দেশ। হালাল হলিডে ব্যবস্থা এখানেও চালু করা যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ