ঢাকা, রোববার 10 June 2018, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৪ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের অসহায়ত্বের অবসান কবে হবে!

এডভোকেট বাবুল রবিদাস : “মাতা-পিতার স্নেহ” শব্দটিতে রয়েছে এক নিঃস্বার্থ ভালবাসার মাধুর্য। “মাতা-পিতার” শব্দটির সাথে রয়েছে- স্নেহের গভীরবন্ধন, তেমনি “মাতা-পিতার” শব্দের সঙ্গে জড়িত আছে আদর-যত্ন, স্নেহ, প্রেম, প্রীতি, দুঃখ, কষ্ট, সব কিছুর সংমিশ্রণে “মাতা-পিতা” যেন কোথায় একটি পূর্ণতা খুঁজে পায়। সব “মাতা-পিতা” সন্তানকে অনেক কষ্ট করে বড় করতে থাকেন। অনেক “মাতা-পিতা” ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন তার সন্তান বড় হবে, উন্নতি করবে, উচ্চ শিক্ষিত হবে, বড় বড় পদে চাকরি করবে।  উপার্জন করে সংসারের দুঃখ-দুর্দশা ঘোচাবে। কেউ জজ হবে, কেউ ব্যারিস্টার হবে, কেউ- ম্যাজিট্রেট হবে, কেউ জেলা প্রশাসক হবে, কেউ বিভাগীয় কমিশনার ইত্যাদি হবে। অনেক “মাতা-পিতাই” এসব কথা গ্রামের পাড়া-প্রতিবেশী গণের কাছে গর্ব করে প্রকাশ করতে থাকে।  এই ভাবে আদরের সন্তানটি যখন যৌবনে পদার্পন করলে নিজেদের ভবিষৎ চিন্তা ভাবনা না করে পিতা মাতা অনেক অর্থ ব্যায় করে মহাধুমধামের সাথে বিবাহ দিয়ে দেয়। এই ভাবে “মাতা-পিতার” আদরের সন্তানটি বিয়ের কিছুদিন পরে নতুন বৌঘরে সংসার শুরু করে। এরপর পুত্র ও পুত্রবধুর আসল চেহারায় বৃদ্ধ “মাতা-পিতা” তখন বোঝাস্বরূপ হয়ে ওঠে। “মাতা-পিতার” মনের আসা ভরসা  তখন ভেঙ্গে খান-খান হয়ে যায়। তাদের আগের স্বপ্ন আর স্বপ্ন থাকে না। সেই স্বপ্ন ভাঙ্গার পরে তারা বাস্তবে চলে আসে। তখন বুঝতে পারে এই দুনিয়ার প্রকৃতরূপ, যখন নিজের ভুল বুঝতে পারে তখন শরীরে ধীরে ধীরে বার্ধক্য এসে ঘর বাঁধে। কর্মক্ষতা নি:শেষ হয়ে যায়। নানা রোগ শরীরে এসে বাসা বাঁধে, এই সময় তাদের অতি যত্ন লওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। এই সময় ভালবাসা, যত্ন, চিকিৎসা ইত্যাদির প্রয়োজন পড়ে বেশি। কিন্তু বাস্তবে তা চোখে পড়ে না। যেমন-বিগত ইং ২৭/৫/১৮ তারিরে দৈনিক করতোয়া পত্রিকার শিরনাম ছিল– “অবেশেষে ছেলের পাকা ঘরে ঠাঁই হলো তেঁতুলিয়ার শতবর্ষী নেজামন বিবির।” জানা যায়- বয়সের ভারে চলাফেরা করতে না পারায় একই স্থানে খাওয়া, ঘুম ও মলত্যাগ করায় স্ত্রীর কথায়  তারই ঔরষজাত সন্তান নাজিম ওই বৃদ্ধাকে ফেলে রাখেন বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ের ময়লার ভাগাড়ে। এভাবেই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা বয়সে তাঁরা সকল প্রকার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। প্রবাদে-আছে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাছের দাম বাড়ে, কিন্তু মানুষের দাম কমে যায়। পৃথিবীর কোন মানুষই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা হতে চান না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষনায় নিয়োজিত বিজ্ঞানীরা যৌবনকে দীর্ঘস্থায়ী করার আয়োজনে নিয়োজিত। বিজ্ঞান মহাশূন্যকে  জয় করতে পেরেছে কিন্তু বয়সকে এখনো জয় করতে পারেনি। মানুষ বৃদ্ধ-বৃদ্ধা হতে চায় না। কারন বাধ্যর্কের জ¦ালা অনেক, উপার্জনে ব্যর্থ একজন প্রবীণ। সমাজ, পরিবার এবং আপনজনদের কাছে অবহেলা-অবজ্ঞা এবং অনেক করুণার পাত্র হয় বটে। সে অপ্রয়োজনীয় এক বোঝা, কখনো কখনো আপনজনরা একান্ত ভাবে পরিবারের বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সদস্যটির মৃত্যুও কামনা করে। অথচ এই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা প্রধানরাই তাদের জীবনের সেকাল সময়ে শ্রম আর মেধা দিয়ে এই সমাজকে গড়ে তুলেছেন। জীবন সায়াহ্নে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা সর্বত্র অনিরাপদ ও হতাশায় ভুগতে দেখা যায়। সন্তানদের কাছ থেকে, সমাজের কাছ-থেকে তথা রাষ্ট্রের কাছেও অনুগ্রহ পাত্রে-পরিণত হয়। অথচ পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে পারিবারিক বন্ধন খুব শিথিল, তাই সেসব দেশে প্রবীণদের দেখাশোনার সব রকম দায়িত্ব পালন করে সরকার।
এ প্রসঙ্গে বিগত ইং ১০/৯/১৫ তারিখে দৈনিক কালেরকন্ঠ পত্রিকায় শিরনাম ছিল “সেরা সুইজারল্যান্ড” জানা যায়- প্রবীণদের বসবাসের জন্য সবচেয়ে ভাল দেশটির নাম সুইজারল্যান্ড। আর সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকা দেশ আফগানিস্থান। খারাপ অবস্থানে থাকা দেশের তালিকায় ভারতের নামও রয়েছে। তাদের অবস্থান ৭১তম। আর বাংলাদেশের অবস্থান ৬৭তম। সম্প্রতি বিশ^ব্যাপি পরিচালিত এক জরিপে ওঠে এসেছে-এ তথ্য। ব্রিটেনের ইউনিভারসিটি অব সাউদা স্বটনের সহযোগীতায় হেল্প এজ ইন্টারন্যাশনাল টেওয়ার্ক পরিচালিত গ্লোবাল এজওয়াচ ইনডেক্স ২০১৫ তৈরীতে ৯৫ টি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করা হয়। এতে প্রবিণদের আয়, অবস্থা, শিক্ষা ও কর্ম সংস্থানের বিষয়টি মূল্যায়ণ করা হয়। র‌্যাংকিংয়ে সুইজারল্যান্ডের পর শীর্ষ পাঁচে আছে-নরওয়ে , সুইডেন, জার্মানী ও কানাডা। এশিয়ার দেশ-জাপান আছে অষ্টম স্থানে। শীর্ষ  দশে থাকা বাঁকি দেশগুলো পশ্চিম ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা। এ বছর প্রথম বারের মতো সেরা দশে স্থান পেয়েছে ইংল্যান্ড। তালিকায় থাকা দেশগুলো প্রবীণদের জীবন যাত্রা উন্নত করার জন্য চেষ্টার কমতি করছে না। তাদের উন্নত জীবন যাপনের জন্য যথেষ্ট অর্থ বিনিয়োগ করছে। এ দেশগুলো সামাজিক পেনশন, সর্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তৈরীর চেষ্টা করছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ষোল কোটি। তম্মধ্যে আনুমানি- বৃদ্ধের সংখ্যা দুই কোটি হবে। বহুদিন আগে অর্থাৎ ১৮ বৎসর আগের জাতি সংঘের হিসেবে বিশে^র জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ১০ ভাগ প্রবীণ ছিল। সে-হিসেবে বাংলাদেশে ১ কোটি ২০ লাখ প্রবীণ জনগোষ্ঠি রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বার্ধক্য আর অভিজ্ঞতার ভারে  এই বিপুল জনগোষ্ঠির অধিকাংশই আজ চরম অবহেলার শিকার বলে সমীক্ষায় বলা হয়েছে। আমাদের দেশেও যৌথ পরিবারগুলোতে ভাঙ্গনের হাওয়া প্রবল ভাবে লেগেছে। আর্থিক অসামর্থতা বা কর্মমুখী প্রবনতাই তাদের বয়োবৃদ্ধ সদস্যদের দেখভাল করার সময় কেড়ে নিচ্ছে। আজ যার বয়স ৪০ বৎসর ২০৩৮ সালে তিনিও হবেন প্রবীণ। পাশ্চাত্যের দেশ-গুলোতে প্রবীণ এবং বৃদ্ধা-বৃদ্ধদের একাকিত্ব দুর করার জন্য তাদের সেবা-যতেœ সরকারী ও বে-সরকারী ব্যবস্থাপনায় অনেক ওল্ডহোম গড়ে উঠেছে।
 কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে এক মুঠো ভাতের দাবিতে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাগণ মামলা মোকদ্দমা পর্যন্ত করতে হচ্ছে কোর্টে। যেমন গত ইং ১৯/৪/১৪ ইং তারিখে “দৈনিক ইত্তেফাক” পত্রিকায় শিরনাম ছিল “ রান্না ঘরেও ঠাঁই হলোনা। এক মুঠো ভাতের দাবীতে গত বৃহস্পতিবার চাঁদপুরের আদালতে পুত্র ও পুত্রবধুর বিরুদ্ধে মামলা করেছে সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। শাহরাস্তির আলীপুর গ্রামের বৃদ্ধ মিন্নত আলী তার অতি আদরের ছেলে মো: নুরুল আমীন ও পুত্রবধু জেসমিন আক্তারকে আসামী করে ২০১৩ সালে সন্তান কর্তৃক ‘মাতা-পিতার’ ভরন-পোষন নিশ্চিত আইনের ৫/৫(১) এবং ৫(২) দন্ডবিধি ৩২৩/৫০৬ (২) ধারায় চাঁদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজি: অসীম কুমারদের আদালতে এ মামলা করেছেন।
আরো জানা যায় যে, ২০/৪/১৪ ইং তারিখের দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শিরনাম ছিল “ সম্পত্তির লোভে ‘মাতা-পিতাকে’ বাড়ি ছাড়া করলো দুইপুত্র”। নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলায় সম্পত্তির লোভে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে মারপিট করে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ছেলের বিরুদ্ধে। এছাড়া বিগত ইং ২২/৫/১৮ তারিখের দৈনিক করতোয়া পত্রিকার শিরনাম ছিল, “অবসর প্রাপ্তরা কি অবহেলিত” ? চাকরির মেয়াদ শেষ হলে চাকরিজীবীদের অবসরে যেতে হয়। চাকরীর সময়সীমা যখন শেষ হয় তখন মানুষ বৃদ্ধ-বৃদ্ধা হয়ে পরে। যার শুরু আছে, তার শেষও থাকবে; এটাইতো বাস্তবতা। আমাদের এই গণতান্ত্রিক দেশে প্রতি বছর বিধি মোতাবেক শিক্ষক প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার  বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা কর্মচারি চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এটা অনস্বীকার্য, আজ যারা অবসর জীবনে আছেন, তারা তাদের কার্য্যকালে স্ব-স্ব অবস্থানে কর্মরত থেকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, জনগনের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন এবং দেশ ও জাতির উন্নয়নে ভুমিকা রেখেছেন। তাঁরা বয়োজৌষ্ঠ, বয়স বৃদ্ধির কারনে চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় অবসর গ্রহন করতে হয়েছে। তাঁরা সকলের শ্রদ্ধা ভালবাসার যোগ্য। অবসর জীবনে মানুষের সাহচার্য সহানুভুতি সহমর্মিতা এবং সৌজন্যমূলক আচরণের প্রত্যাশা তাঁদের থাকবে। দেখাগেছে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের নির্বাচনের সময় তাদের কদর এতো বেড়ে যায় যে, অনেক প্রার্থী ডাক্তার পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। ফলমূল ও রোগীর পথ্য, ঔষধ পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়।
আরও দেখা গেছে গরুর গাড়ী মহিষের গাড়ী, পালকী যাতায়াত বাহন দিয়ে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ভোটারগণকে কেন্দ্রে আনা হয়। আধুনিককালে হুইল চেয়ার এর ব্যবহার বেড়েই চলেছে। অনেক প্রার্থী পায়ে হাত দিয়ে সালাম পর্যন্ত করে এবং আর্শিবাদ গ্রহণ করে। বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য জয়ের পর অনেক কিছু করবে। প্রার্থীদের আগমনে এবং তাদের রসালো কথা, সেবা যতœ এবং তাদের হিতার্থে যে সব বুলি প্রয়োগ করা হয়। তাতে ৮০ বছরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের প্রাণে শক্তি ফিরে পায় এবং মনে হয় যৌবন যেন ফিরে এসেছে।  বিগত ইং- ২৮/০৫/২০১৮ তারিখের “দৈনিক খোলাকাগজ” পত্রিকার শিরোনাম ছিল- “ ছেলে চাকরি করে মা করেন ভিক্ষা”। জানা যায়, স্বামী মারা যাওয়ার পর ভিক্ষা করে পাঁচ ছেলে ও এক মেয়েকে বড় করেছেন। ছেলে পেয়েছেন কমিউনিটি ক্লিনিকে চাকরি। বাঁকি ছেলেরা করেন ব্যবসা ও কৃষি কাজ। কিন্তু তাঁর ভাগ্য আর বদলায়নি বাগাতিপাড়া উপজেলার ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের এক ভিক্ষুক মায়ের। তাঁর নাম লতিফা বেগম ওরফে নতিজান (৭০)। ছেলের বউ ইউপি সদস্য। তবুও একমুঠো ভাত জুটেনা তাঁর। অসুস্থ শরীরে ভিক্ষা করেই লতিফা বেগম জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এইরূপ পত্র-পত্রিকা খুললেই দেখা যায় বিভিন্নস্থানে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা তথা ‘মাতা-পিতার’ উপর নির্যাতন চলছে বিভিন্ন পন্থায়। তাঁদের দু:খ বেদনা শোনার জন্য সরকারিভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। পত্র-পত্রিকায় যে খবর প্রকাশিত হয় তা অতি সামান্য বটে। অধিকাংশ বৃদ্ধ-বৃদ্ধার খবর অপ্রকাশিত থাকে। ফলে তাঁদের করুণ কাহিনী কারো কাছে পৌছায় না, নীরবে সহ্য করতে থাকে, অবর্ণনীয় লোমহর্ষক কাহিনী। 
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারছি বর্তমানে পৃথিবীর অনেকস্থানে প্রবীণদের প্রতি ভাল আচরণ করা হচ্ছে না। তন্মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা আরও খারাপ। অথচ বর্তমানে দাবী করা হচ্ছে দেশ নি¤œ আয় হতে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এই মধ্যম আয়ের দেশে প্রবীণদের অবস্থা কেমন যাচ্ছে দেখার বিষয় জরুরী বলে মনে করি। বিশেষ করে আমাদের দেশেও যৌথ পরিবার গুলোতে ভাঙ্গনের হাওয়া প্রবল ভাবে লেগেছে। আর্থিক অসামর্থতা বা কর্মমুখী প্রবণতাই তাদের বায়োবৃদ্ধ-বৃদ্ধা সদস্যদের দেখ ভাল করার সময় কেড়ে নিচ্ছে। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে প্রবীণ  ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের একাকিত্ব দূর করার জন্য, তাদের সেবা যত্মের জন্য সরকারী ও বে-সরকারী ব্যবস্থাপনায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের থাকা,খাওয়া, পরা এবং চিকিৎসা ইত্যাদি বিনোদন সহ প্রয়োজনীয় সব রকম ব্যবস্থাই সেবা মুলক প্রতিষ্ঠান থেকে করা হয়। আমরা আরও লক্ষ্য করেছি যে,  বাংলাদেশে অবহেলিত সহায় সম্বলহীন বৃদ্ধা-বৃদ্ধদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। যদিও বাংলাদেশে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা আছে, এটি প্রশংসার দাবীদার তবে ইহা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য বটে। কিন্তু হত ভাগ্য বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের শেষ জীবনে একটু আয়েশ আরাম স্বাচ্ছন্দ্য প্রদানের জন্য সরকারী ভাবে সেবামুলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার একান্ত প্রয়োজন। অনেক মহান ব্যাক্তিবর্গ বেসরকারী উদ্যেগে এগিয়ে আসতে পারেন। বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের শেষ জীবনে শেষ পরিণতির সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ সরকারীভাবে হলে সব চেয়ে বেশী ভাল হবে এবং তাতে দেশের বৃদ্ধ-বৃদ্ধাগণ সবচেয়ে বেশী উপকৃত হবে বলে সবার বিশ^াস। নি¤েœ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের কল্যাণের জন্যে সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে কিছু দাবী উত্থাপন যেতে পারে।
১। সরকারীভাবে প্রত্যেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য ভাতা ন্যূনতম -৫,০০০/- টাকা থাকতে হবে। ২। প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের তালিকা তৈরী করার বিষয় চালুরাখা যেতে পারে। ৩। প্রতি ইউনিয়নে বৃদ্ধাশ্রম থাকতে হবে। ৪। ইউনিয়ন বা পৌরসভায় বা সংসদে বা ডিসি-এর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কমিটির মধ্যে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত সদস্য-সদস্যার আসন থাকতে হবে। ৫। বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের কল্যাণ বিষয়ক আলাদা মন্ত্রণালয় চালু করতে হবে। ৬। সমগ্র বাংলাদেশে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সংখ্যার হিসাব তৈরি করা আবশ্যক। ৭। তাঁদের চিত্ত-বিনোদনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ৮। তাঁদের মৌলিক অধিকার রক্ষার্থে সরকারিভাবে বাস্তবায়ন থাকতে হবে। ৯। তাঁদের ভ্রমণের জন্য ট্রেন বা বাসের ভাড়া ফ্রি থাকতে হবে।   ১০। মৃত্যুর পর বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সৎ-কর্মের ব্যয়ভার সরকার কর্তৃক গ্রহণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ