ঢাকা, রোববার 10 June 2018, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৪ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সদাকাতুল ফিতরের তাৎপর্য ও উপকারিতা

ডক্টর বি.এম.শহীদুল ইসলাম : সদাকাতুল ফিতর কি : সদাকাতু ফিতর যাকাতের মতোই একটি আর্থিক ইবাদত। তবে সম্পদের সদাকাকে যাকাত বলা হয়। আর দেহের যাকাতকে সদাকাতুল ফিতর বা সদকায়ে ফিতর বলা হয়। ‘সদাকাহ’ শব্দটি আরবি শব্দ। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় এটি দ্বারা ফরজ যাকাতকে বুঝায়, আবার নফল দানের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। আবু মুহাম্মদ আল-আবহারী বলেছেন; সদাকাতুল ফিতরকে ‘যাকাতুল খিলকাত’ বা সৃষ্টির যাকাত বা দেহের যাকাতও  বলা হয়।
সদাকাতুল ফিতরের আভিধানিক অর্থ : ‘ফিতর’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে-রোজা খোলা। আর সদাকাতুল ফিতরের অর্থ হচ্ছে-রোজা ভাঙা বা রোজা খোলার সাদাকাহ। ‘আধুনিক প্রেক্ষাপটে যাকাতের বিধান’ নামক গ্রন্থে বলা হয়েছে; ‘ফিতরাহ’ শব্দের অর্থ- জন্মস্থান বা সৃষ্টিকার্য। পারিভাষিক অর্থে- সাদাকাতুল ফিতর বলতে ঐ আর্থিক ইবাদতকে বুঝায়, যা পবিত্র রমজানের রোজা সমাপ্ত হওয়ার এবং রোজা খোলার পর দেয়া হয়। যে বছর মুসলমানদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়, সে বছরই নবী করিম সা: সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার হুকুম দেন। অর্থাৎ দ্বিতীয় হিজরি সনের রমজান মাসে রোজা ফরজ করার আয়াত নাযিল হয়। (সুরা বাকারাহ: ১৮৩)। যাকাত যেমন মালকে পবিত্র, বৃদ্ধি ও পরিশুদ্ধ করে, তেমনি সাদাকাতুল ফিতর রোজাকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করে। সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব করা হয়েছে রোজা পালনকালে যে সব বেহুদা বা অনর্থক কাজ অথবা কোনো অশ্লীল কথা ও কাজ করা হয়েছে, বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটেছে তা ধুয়ে মুছে পবিত্র করার লক্ষ্যে। একই সাথে ঈদুল ফিতরের দিন গরিব-মিসকিনদের মুখে ঈদের হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যে সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব।
সাদাকাতুল ফিতরের তাৎপর্য ও উপকারিতা : পবিত্র রমজান মাসে রোজাদারগণ সর্বান্তকরণে চেষ্টা করেন যে, যাতে করে তারা রমজানের মর্যদা যথাযথভাবে সমুন্নত ও সুরক্ষা করতে পারেন। পাশাপাশি  শরীয়তের তাকিদ অনুযায়ী যে সব নিয়ম-পদ্ধতি ও সীমারেখা বা শর্তাবলির প্রতি পরিপূর্ণ নজর রাখার নির্দেশনা এসেছে, তা যেন মেনে চলতে পারেন। রোজা পালনকালে অনেক সময় নানা কারণে রোজাদারের মাঝে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয়। সদাকাতু ফিতরের তাৎপর্য হচ্ছে-মানুষ মহান আল্লাহ তায়ালার পথে আগ্রহের সহিত তার অর্জিত মাল-সম্পদ ব্যয় করবে, যাতে করে তার রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষতিপূরণ হয় এবং আল্লাহর পথে তার রোজা কবুল হয়। সাদাকাতুল ফিতরের আরো তাৎপর্য হচ্ছে- ঈদ উপলক্ষে সমাজের গরিব ও দুস্থ লোকেরা যাতে করে নিশ্চিন্তে এবং হাসি-খুশি মনে অন্ন বস্ত্রের অভাব পূরণ করতে পারে এবং অন্যান্য মুসলমানদের সাথে ঈদগাহে উপস্থিত হতে পারে। যার ফলে ঈদের সমাগম অনেক বড় হয় এবং বিপুল এ সমাগমের কারণে ইসলামের প্রভাব প্রতিপত্তি সম্প্রসারিত হয়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে -
“হজরত ইবনে আব্বাস রা: বলেন, নবী করিম সা: সাদাকাতুল ফিতর এ জন্য নির্ধারণ করেছেন যে, ফিতরা রোজাদারকে বেহুদা কাজ-কর্ম এবং অশ্লীলতার ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র করবে এবং অভাবগ্রস্তদের খানাপিনার ব্যবস্থা হয়ে যাবে। অতএব, যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের পূর্বে সাদাকাতু ফিতর পরিশোধ করবে  তার সে সাদাকাহ আল্লাহ তায়ালার দরবারে কবুল হবে এবং যে নামাজের পরে পরিশোধ করবে তার সাদাকাহ সাধারণ দানখয়রাতের মতো গণ্য হবে” -(আবু দাউদ)।
সাদাকাতলু ফিতর বিষয়ে শাহ অলী উল্লাহ( রহ:) বলেন, “ঈদের দিন আনন্দের দিন। এদিনে মুসলমানদের বিরাট সমাবেশের মাধ্যমে ইসলামের শান-শওকত প্রকাশ পায় এবং সাদাকাতুল ফিতরের দ্বারা এ উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়।”-(হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগাহ)।
সাদাকাতুল ফিতরের হুকুম : সদাকাতুল ফিতর এমন প্রত্যেক স্বচ্ছল মুসলমান নারী-পুরুষ, নাবালেগ-সাবালেগের ওপর ওয়াজিব  যার নিকট তার প্রকৃত প্রয়োজনের অতিরিক্ত এতো মূল্যের মাল হবে যার ওপর যাকাত ওয়াজিব হয়। সে মালের ওপর যাকাত ওয়াজিব হোক অথবা না হোক। যেমন: কারো নিকট তার বসবাসের ঘর ছাড়া আরো বাড়িঘর আছে। যা পড়ে আছে অথবা ভাড়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। যদি ঐ ঘরবাড়ির মূল্য নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে তার মালিকের ওপর সদাকাতু ফিতর ওয়াজিব হবে। যদিও ঐ বাড়ির ওপর যাকাত ওয়াজিব নয়। তবে যদি বাড়ির ভাড়া দ্বারা সে জীবিকা অর্জন করে তাহলে তা তার প্রকৃত প্রয়োজনের মধ্যে শামিল হবে এবং তার ওপর সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে না। অথবা কারো ঘরে ব্যবহারের সামগ্রি ছাড়াও কিছু আসবাবপত্র আছে-যেমন: তামার বাসনপত্র, মূল্যবান ফার্ণিচার প্রভৃতি যার মূল্য নিসাবের পরিমাণ বা তার অধিক, তাহলে তার ওপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হবে। যদিও ঐ সব মালের যাকাত দিতে হবে না। সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য ওপরে বর্ণিত নিসাব ছাড়া আর কোনো শর্ত নেই। সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার এটাও শর্ত নয় যে, মাল এক বছর স্থায়ী হতে হবে।
হানাফি মাযহাব মতে, সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব। কারণ এটি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। শাফেয়ী মাযহাবের মতে সদাকাতুল ফিতর ফরজ। এ ব্যাপারে তিনি সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরীফের হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন । “আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা: হতে বর্ণিত-নবী করিম সা: বলেছেন; রমজান মাসে মানুষের ওপর ফিতরের যাকাত ফরজ করা হয়েছে, এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ যব। প্রত্যেক স্বাধীন বা পরাধীন কিংবা নারী-পুরুষ সকল মুসলমানের ওপর” -(সহিহ বুখারি:হাদিস নম্বর- ১৫০৩, সহিহ মুসলিম হাদিস নম্বর-১৬৩৫)।
এখানে অনেকে মনে করতে পারেন, কোনো মাযহাবে ওয়াজিব এবং কোনো মাযহাবে ফরজ কেন ? তাদের উত্তরে বলা যায়, উল্লেখিত দুটি মাযহাবের মাঝে মতানৈক্য শুধু পরিভাষাগত। আমলের ক্ষেত্রে কোনো মতানৈক্য বা ইখতিলাফ নেই। আল্লামা হুমাম বলেন, তাৎপর্যের দিক দিয়ে এ দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। মোটকথা, ফিকহাবিদগণ সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে সকলেই ঐক্যবদ্ধ। সুতরাং সাদাকাতুল ফিতর নিয়ে কোনো ফিতনা সৃষ্টি করা উচিত নয়।এটি আদায় করা আবশ্যই শরীয়ত সম্মত ও জরুরি।
সাদাকাতুল ফিতর কখন ওয়াজিব : সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয় ঈদের দিনে প্রত্যুষে। অর্থাৎ  যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে মারা যাবে অথবা ধন-সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে তার ওপর ওয়াজিব হবে না। আবার যে শিশু ফজরের পর জন্মগ্রহণ করবে তার ওপরও ওয়াজিব হবে না। তবে যে শিশু ঈদের রাতে জন্ম গ্রহণ করবে তার ওপর ওয়াজিব হবে। আবার যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করবে এবং ধনের মালিক হবে তার ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে।
সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার যৌক্তিকতা : সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার যৌক্তিকতা স্বয়ং রাসুল সা: বিশ্লেষণ করেছেন। হাদিস শীরফে পাওয়া যায়, রাসুলে করিম সা: সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ করেছেন রোজাদরকে অশ্লীল কথা ও কাজ থেকে পরিশুদ্ধ রাখা এবং মিসকিনদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা স্বরূপ” -(মোল্লা আলী কারী-মিরকাতুল ফামাতিহ: চতুর্থ খন্ড, পৃষ্ঠা-১৭৩; আবু দাউদ শরীফ-২২৭)
 সাদাকাতুল ফিতরের দুটি যৌক্তিকতা পাওয়া যায় : ১। রমজান মাসের রোজাদারের সাথে সম্পৃক্ত। যা রোজা পালনকালে কোনো বেহুদা কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা।
২। যা সমাজের সাথে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে দরিদ্র- মিসকিন ও অভাবগ্রস্ত লোকদের মাঝে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও আনন্দের শিহরণ জাগ্রত করা।
সাদাকাতুল ফিতর কখন পরিশোধ করা উত্তম : সাদাকাতুল ফিতর ঈদের কিছুদিন আগেই পরিশোধ করা উত্তম। যাতে করে দরিদ্র ও অভাবীরা বস্ত্র সামগ্রি কিনে সকলের সাথে ঈদগাহে শরিক হতে পারে। যদিও সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার মাধ্যমে ফিতরা ওয়াজিব হয়। হাদিসে বর্ণিত আছে, সাহাবায়ে কিরামগণ (রা:) ঈদের দুই এক দিন আগেই সাদাকাতুল ফিতর বিতরণ করতেন। দু’চার দিন আগে আদায় করতে অপারগ হলে ঈদের নামাজের আগে অবশ্যই পরিশোধ করা উচিত। নবী করিম সা: বলেছেন; যে ব্যক্তি সদাকাতুল ফিতর নামজের আগেই দিয়ে দেবে, তাহলে সেটা হবে আল্লাহর নিকট গৃহীত সদাকাহ। আর যে নামাজের পরে দেবে, তার সদাকাহ হবে দানখয়রাতের মতো একটি সাধারণ সদাকাহ” -(সহিহ আল বুখারি)।
“হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা: বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন; রাসুলে করিম সা: লোকদের নামাজের জন্য রওনা হওয়ার আগেই সাদাকাতুল ফিতর পরিশোধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন” -(রদ্দুল মুহতারের ইবারত: খন্ড-০৭; পৃষ্ঠা-২৮২)।
যাদের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব:যে সকল ব্যক্তির পক্ষে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব তা কয়েকটি নিম্নরূপ :
১। প্রত্যেক স্বচ্ছল ব্যক্তি তার নিজের ছাড়াও নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করবে।
২। জ্ঞান ও হুশহারা সন্তানের পক্ষ থেকে, তার মাল থাক অথবা না থাক তাদের পক্ষে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।
৩। বাড়ির চাকর-বাকর বা তারা যাদের ভরণ- পোষণ করেন তাদের পক্ষ থেকে মালিককে সাদাকাতুল  ফিতর আদায় করতে হবে।
৪। সাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে পিতার সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব, যদি দুস্থ ও দরিদ্র হয়।
৫। স্ত্রীর পক্ষে তার স্বামী সাদাকাতুল  ফিতর আদায় করবেন।
৬। পিতা মারা গেলে এবং দাদা জীবিত থাকলে দাদার ওপর সকল দায়িত্ব বর্তাবে, যে দায়িত্ব পিতার ওপর ছিল।
৭। স্ত্রী যদি স্বচ্ছল হয়ে থাকেন তাহলে শুধু তার সাদাকাতুল ফিতর নিজেই আদায় করা যাবে।
সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ ও কি কি: গম, আটা, ময়দা, ছাতু অথবা কিসমিস আধা সা’ অথবা সমপরিমাণ মূল্য। খেজুর বা যব এক সা’ অথবা সমপরিমাণ মূল্য। সা’- এর হিসাব নিম্নরূপ:
এক সা’   = ৩ কেজি ১৪৯ গ্রাম ২৮০ মিগ্রাম।
আধা সা’ = ১৫৭৪ গ্রাম ৬৪০ মিগ্রাম।
{বি: দ্র:}:১০০০ গ্রামে = ১ কজি এবং ১০০০ মিগ্রামে = ১ গ্রাম।
সূত্র : (রদ্দুল মুহতার: তৃতীয় খন্ড; ৩১৮ ও ৩১৯ পৃষ্ঠা; বাদায়েউস সানায়ে: দ্বিতীয় খন্ড; পৃষ্ঠা-২০৩,২০৫ ; আল ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া; প্রথম খন্ড; পৃষ্ঠা -১৯২)।
কোনো কোনো ফিকহাবিদের মতে, সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ হচ্ছে-আশি তোলা সেরের হিসেবে ১ সের ৩ ছটাক গমের আটা, যব বা যবের আটা অথবা খুরমা দিতে হবে অথবা সমপরিমাণ মূল্য। মাওলানা আশরাফ আলী থানভীর (রহ:) মতে, “একজনের সদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ ১সের সাড়ে ১২ ছটাক। তবে সাবধানতার জন্য দু’সের দেয়া উত্তম” -(আসান ফিকাহ: দ্বিতীয় খন্ড; পৃ-৬৩)।
সাদাকাতুল ফিতর পাবার হকদার : যাকাত পাবার হকদারগণ সাদাকাতুল ফিতর পাবার হকদার। অর্থাৎ যে সব খাতে যাকাত দেয়া যায় সে সব খাতে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে হব। একটি ফিতরা একজন ব্যক্তিকে দেয়া যায়, আবার কয়েকজন লোককে ভাগ করেও দেয়া যায়। তাছাড়া কয়েকটি ফিতরা একজন ব্যক্তিকে দেয়ারও বিধান আছে।
অতএব সাদাকাতুল ফিতর অথবা সাদাকায়ে ফিতর আদায় না করা কোনো মতেই শরীয়ত সম্মত নয়। তাই নবী করিম স:-এর নির্দেশ অনুযায়ী সদাকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে। সমােেজর মুসলমানদের মাঝে সাদাকাতুল ফিতর বিতরণে উৎসাহ প্রদান ও অনুশীলন করতে হবে। তবেই মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য হাসিল করা সম্ভব সহজ হবে।
লেখক : গবেষক
Email: mauzunanas@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ