ঢাকা, রোববার 19 August 2018, ৪ ভাদ্র ১৪২৫, ৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে বিএনপি প্রতিনিধিদল ভারতে

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ভারতে বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি

 

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নসহ আরও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে দিল্লি গেছেন বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বিএনপির প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং দলের নির্বাসিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

বিএনপি নেতারা সেখানে দেশটির প্রভাবশালী কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা থিংক ট্যাংকের সাবেক কূটনীতিক, অর্থনীতিবিদ এবং বিশ্লেষকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বিএনপি সূত্রে বলা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে ভারতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের মতামত জানতে এবং নিজেদের মত জানাতেই তারা এই সফরে গেছেন।

দি হিন্দু পত্রিকায় লেখা হয়েছে - দিল্লিতে বিএনপি নেতারা বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের সহায়তার জন্য নরেন্দ্র মোদী সরকারের সাহায্য চেয়েছেন।

প্রতিনিধিদলের নেতা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি লিখেছে, 'বাংলাদেশের মানুষ আশা করে, বৃহত্তর প্রতিবেশী ভারত যেন বাংলাদেশে একটি গঠনমূলক ভূমিকা রাখে এবং নির্বাচনে একটি মাত্র দলকে সমর্থন না করে।'

তারেক রহমানের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে উদ্ধৃত করে দি হিন্দু লিখেছে, 'তারেক রহমান ভারতের সাথে দলের যোগাযোগ বাড়াতে চান।'

তবে নির্বাচন নিয়ে বিএনপি ভারতের সাহায্য চায়- দি হিন্দুর এই শিরোনামের সাথে কিছুটা দ্বিমত প্রকাশ করেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান রিপন।

বিবিসিকে তিনি বলেন, "বিএনপি ভারতের কাছ থেকে এমন কোন কোন সাহায্য চায় না। তবে ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশও একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত গণতান্ত্রিক দেশ হতে চায়। এ কারণে বিএনপি চাইছে ভারত যেন বাংলাদেশের পাশে থাকে।"

বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় বিএনপি

তবে মি. রিপন বলেন, "প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমরা ভারতের কাছ থেকে একটি বিষয়ে সহায়তা চাই আর তা হল, ভারতের নির্বাচন কমিশন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী যেভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে, ভারতের জনগণের মনোভাব যেমন তাদের নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়। একইভাবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন যেন সেই কাজ করে।"

গতবারের 'একতরফা নির্বাচনে' ভারতের তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেস বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করেছিলো এমন অভিযোগ তুলে রিপন বলেন - এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের শাসক দলের প্রতি ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের তরফ থেকে যেন প্রচ্ছন্ন বা অন্য কোন ধরণের সহযোগিতা না থাকে সেটাই তারা আশা করছেন। বাংলাদেশের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে, স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, "ক্ষমতাসীন দল দাবি করে তাদের সাথে ভারতের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুসম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে তারা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে তোয়াক্কাই করছেন না। ভারতের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতাসীন দল যদি এমন মনোভাব ব্যক্ত করে থাকেন তাহলে ভারতকে জানিয়ে দেয়া উচিত যে শাসক দল তোমাদের ওপর ভর করে যে আচরণ বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে করছে সেটা বিএনপি পছন্দ করছে না।"

বিএনপি শুরু থেকে একটা ভারত বিরোধী অবস্থান নিলেও এখন কেন সেই দেশের দ্বারস্থ হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "বিএনপি কখনোই কোন দেশের বিরুদ্ধে কোন মন্তব্য করেনি বরং দেশের স্বার্থে কথা বলেছে। কতিপয় দেশের বিতর্কিত কয়েকটি নীতির বিরোধিতা করা মানে এই নয় সেটা ওই দেশের বিরুদ্ধে যাওয়া।"

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ