ঢাকা, রোববার 10 June 2018, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৪ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিরাজদিখানে মুরগি পালন করে সফল ইউপি সদস্য রওশনারা

মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা: মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখান উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলা গ্রামে নিজের গড়ে তোলা খামারে কর্মব্যস্ত রওশনারা তাঁর দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে খামারে। নিজেই সবকিছু দেখভাল করেন। নিজের জমানো ও ব্যাংক রিনের টাকায় মুরগির খামার শুরু করেন গৃহবধু রওশনারা মহিলা সদস্য ও তাঁর স্বামীসহ সন্তানদের সহযোগিতায়। কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। পদে পদে ছিল লোকসানের ঝুকি। তবে পরিশ্রম আর মনেবলের ওপর ভর করে সব পালে‘ট দিলেন তিনি। পাঁচ/ছয় বছরের মাথায় বনে গেলেন লাখোপতি। কীভাবে এগোলেন রওশনারা ? উত্তর সংসারে সচ্ছলতা আনতে স্বামী-ছেলে-মেয়ে সকলে মনোযোগ দিলেন নিজেদের খামারে নিজেরাই কিছু করা চেষ্টা করলেন। মুরগির খামার দিয়েই যাত্রা শুরু তিন বছরের মাথায় পারলো খামারের পরিধি একটি খামার থেকে তিনটি খামার ৩ হাজার মুরগি থেকে বর্তমানে ৯ হাজার মুরগি প্রতিদিন ২ হাজারা ডিম থেকে ৫ হাজার ডিম উৎপাদন হতে লাগল খামারে। এই জোরা ৫/৬ বছরের মধ্যে তিনি হয়েছেন লাখোপতি। এই গল্প মুন্সীগঞ্জ জেলা সিরাজদিখান উপজেলা কোলা ইউনিয়নের বর্তমানে ইউপি মহিলা সদস্য ও গৃহবুধ রওশনারা (৪০)। রওশনারা এখন কোলা ইউনিয়নের সফল মহিলা সদস্য তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম-মোল্লা পল্ট্রি ফ্রার্মা। রওশনারার সাফল্যর কথা আশ-পাশে ছড়িয়ে পরলে গ্রামের অনেকেই এগিয়ে আসেন সমন্বিত খামার গড়তে। তাদের পথ বাতলে দিচ্ছেন তিনি। গত ৩ জুন রওশনারার খামার দেখতে কোলা গ্রামে গেলে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। রওশনারা জানান , আমার স্বামী দুই ছেলে এক মেয়ে তিন সন্তান নিয়ে, আমার তিনটি খামার দিন রাত পরিশ্রম করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আজকে এই সাফল্য এনেছি। একটা সময় সন্তানদের নিয়ে মাসের পর মাস অর্থনৈতিক ভাবে টানা-টানিতে ছিলাম। অনেক ভেবে নিজে একটি মুরগির খামার করার চিন্তা করলাম ২ লাখ টাকায় বাড়ির উপর খোলা জায়গার শুরু করেন লেয়ার মুরগির খামার এর মধ্যে নিজের জমানো ১ লাখ টাকা ও আত্মীয়দের নিকট থেকে দারের টাকা ছিলো ১ লাখ। টানা দুই মাস দিন রাত পরিশ্রমের পর শুরু হয় ডিম উৎপাদন সময় ছিলো ২০১২ সাল। দিনে দিনে ডিম উৎপাদন বাড়তে থাকে। বাড়ে খামারের পরিশ্রম। তিন বছরে মুরগির সংখ্যা ২ হাজার থেকে দাড়ায় ৫ হাজারে। এর মধ্যে খামারে ডাল পালা মেলে বর্তমানে মুরগির ডিম ও রয়স্কো মুরগিসহ এখন দুটি খাত থেকে আয় হচ্ছে তাঁর। বর্তমানে রওশনারা তিনটি খামারে লেয়ার মুরগির সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। মুরগি থেকে দৈনিক ডিম উৎপাদন হচ্ছে ৫ হাজারের বেশি প্রতিটি ডিম ৬-৭ টাকা দরে পাইকারী বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতিদিন ডিম বিক্রি থেকে রওশনারার আয় হচ্ছে সম্মান জনক টাকা।
নিজ উপজেলা সিরাজদিখান ও পার্শ্ববর্তী উপজেলা শ্রীনগরের বিভিনè দোকান দার ও পাইকারী বিক্রেতা রওশনারার খামারে মুরগির ডিম বিক্রি করছে সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে তাঁর আয় দাড়ার প্রায় লাখ টাকা রওশনারা এক একর আয়তনের খামার এখন বিনিয়োগ ৪০ লাখ টাকা এর মধ্যে ব্যাংক ঋণ ১০ লাখ টাকা বাকী ৩০ লাখ টাকা খামারের আয় থাকবে।
রওশনারা বলেন, ‘আমি যখন খামার করা শুরু করি, তখন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। পরিশ্রম আর মনোবলকে বড় পুঁজি করে এগিয়েছি। একটাই চিন্তা ছিল মাথায়, টাকা পানিতে না যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘুমানো ছাড়া পুরোটা সময় দিয়েছি খামারে। যার ফল আমি হাতে হাতে পেয়েছি। রওশনারা নিজেই তাঁর বাজার দেখাশোনা করেন। তিনি নিজেই সিরাজদিখান ও শ্রীনগর সদরসহ বিভিন্ন দোকানে দিয়ে ডিম সরবরাহের টাকা তুলে আনেন। এদিকে রওশনারার দেখাদেখি গ্রামের অনেকে মুরগির খামার গড়তে এগিয়ে আসছেন। পার্শ্ববর্তী উপজেলা শ্রীনগরের মোঃ জাকির লস্কর, রওশনারার দেখাদেখি তিনি নিজেও কয়েক দিন আগে একটি মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন।
একই উপজেলার আরেক সাংবাদিক শহিদ শেখ পাখি বলেন, ‘রওশনারা আপা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। তাঁর দেখাদেখি আমি একটি মুরগির খামার গড়ে তুলি। রওশনারা বলেন, ‘প্রশিক্ষণ আর সহজ শর্তে ঋণসুবিধা পেলে গ্রামের বহু বেকার ও শিক্ষিত নারী এই পেশায় স্বাবলম্বী হতে পারেন। আমি এ ব্যাপারে নারীদের উৎসাহ দিচ্ছি। প্রতি সপ্তাহে কেউ না কেউ খামার দেখতে আসেন। তাঁদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। আমি চাই, আমার মতো আশপাশের অন্য মেয়েরাও এগিয়ে আসুক। মূল কথা হচ্ছে মনোবল ও আগ্রহ থাকলে যেকোনো কিছুতে সফল হওয়া যায়।’
সিরাজদিখান উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আহসান আলী বলেন, ‘ইচ্ছাশক্তি ছিল বলেই রওশনারা এখন সফল নারী সমাজের উদ্যোক্তা হতে পেরেছেন। তাঁর খামারে সমস্যা হলেই আমরা উপস্থিত হই ও নানা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ