ঢাকা, রোববার 10 June 2018, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৪ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা জেলা কারাগার নির্মাণ প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা

খুলনা অফিস: ২০১১ সালে খুলনা নতুন জেলা কারাগার নির্মাণ প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন মেলে। এরপর গত সাড়ে সাত বছরে ওই প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়েছে মাত্র শতকরা ৪০ ভাগ। মেয়াদ অনুযায়ী ২০১৯ সালের জুন মাসের মধ্যেই সকল কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় অর্থাৎ মাত্র এক বছরে বাকী ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়া নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় প্রকল্পের আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। তবে বাস্তবায়নকারী সংস্থা গণপূর্ত বিভাগ বলছে, মাস্টার প্লান ও স্থান পরিবর্তন, নকশা পেতে বিলম্ব এবং জমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতার নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এখন বাস্তবায়ন কাজ পুরোদমে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল কাজ সম্পন্নের চেষ্টা করা হবে।
গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯১২ সালে ভৈরব নদের তীরে নির্মাণ করা হয় খুলনা জেলা কারাগার। ৬০৮ জন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন কারাগারটিতে এখন প্রায় দুই হাজার বন্দী রয়েছে। ‘অমানবিক বন্দীদশা’ থেকে তাদের রক্ষা করতে নতুন একটি কারাগার স্থাপন জরুরী হয়ে পড়ে। তাই ২০০৮ সালে খুলনায় নতুন জেলা কারাগার নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১১ সালে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন মেলে। কিন্তু এরপর স্থান পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতার চক্রে সাড়ে সাড়ে ৭ বছরে দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে আধুনিক কারাগার নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে সব বাধা কাটিয়ে গত বছর দুই হাজার বন্দী ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন কারাগারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এখন নির্মাণ কাজ চলছে পুরোদমে।
জানা গেছে, খুলনার নতুন এই কারাগারটি গড়ে তোলা হবে সংশোধনাগার হিসেবে। এখানে নির্মাণ করা হবে ছোট-বড় ৫২টি ভবন। বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের পৃথক স্থান, মা ও শিশুদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাসহ নারীদের ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল, মোটিভেশন সেন্টার ও পুরুষ বন্দীদের জন্য ৫০ শয্যার হাসপাতাল থাকবে। আরও থাকবে বন্দীদের জন্য স্কুল, আধুনিক লাইব্রেরি, ডাইনিং রুম, সেলুন, লন্ড্রি ইত্যাদি। এছাড়া কারাগারে শিশুদের জন্য থাকবে পৃথক ওয়ার্ড ও ডে-কেয়ার সেন্টার। সেখানে শিশুদের জন্য লেখাপড়া, খেলাধুলা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক চর্চার ব্যবস্থা থাকবে। শিশুসহ মা বন্দীদের জন্যও থাকবে আলাদা আরেকটি ওয়ার্ড। কারাগারে পুরুষ ও নারী বন্দীদের হস্তশিল্প প্রশিক্ষণের জন্য আলাদা ওয়ার্কশেড, বিনোদন কেন্দ্র ও নামাজের ঘর থাকবে।
কারাগার নির্মাণ প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, ২৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর সিটি বাইপাস সড়কের পাশে ৩০ একর জমিতে নতুন এই কারাগার নির্মাণ হচ্ছে। প্রকল্পের জায়গায় বালু ভরাটের কাজ শেষ। চারপাশে সীমানা প্রাচীর দেয়া হয়েছে। বিচারাধীন মামলার আসামীদের থাকার জন্য তিনটি ব্যারাক নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। কারাগারের চারপাশে বন্দীদের সুরক্ষার জন্য ১৮ ফুট উঁচু পেরিমিটার দেয়াল নির্মাণের পাইল ড্রাইভের কাজও চলছে। এই দেয়ালের বাইরে কারারক্ষীদের থাকার জন্য পৃথক ছয়টি কোয়ার্টার নির্মাণ হচ্ছে।
এ ব্যাপারে খুলনার গণপূর্ত বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, মাস্টার প্লাণ ও স্থান পরিবর্তন, নকশা পেতে বিলম্ব এবং জমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এখন বাস্তবায়ন কাজ পুরোদমে চলছে। ইতোমধ্যে শতকরা ৪০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল কাজ সম্পন্নের চেষ্টা করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ