ঢাকা, সোমবার 11 June 2018, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৫ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নতুন ব্যবস্থাপনায় ‘ফারমার্স ব্যাংক’ নতুন মডেল হবে

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : ‘নতুন ব্যবস্থাপনা’ ‘নতুন উদ্যম’ ‘নতুন নতুন লক্ষ্য’ -এ সব নতুনকে সাথে নিয়ে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বদনাম ঘোচানোর কাজ শুরু করেছে চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংক ‘দি ফারমার্স ব্যাংক’। ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরুর পর নানাকা-ে আলোচিত-সমালোচিত হওয়ার পর যে আস্থার সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে নতুন ব্যবস্থাপনায় চালু হয়েছে ফারমার্স ব্যাংক। পুরাতন সব কিছুই বাদ রেখে নতুন পরিচালনা পরিষদ আর ব্যবস্থাপনা-এই দুইয়ের মিশেলে সরকারি, ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগে ব্যাংকিং পদ্ধতির নতুন মডেল হবে ফারমার্স ব্যাংক। এই প্রতিষ্ঠান হবে সেমি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক। পুরো বেসরকারি খাতের মধ্যে গ্রাহক আস্থার শীর্ষ অবস্থান হবে আমাদের ব্যাংকের। ইতোমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক ও আইসিবির এই ব্যাংকে বিনিয়োগের বিষয়টি চুক্তির মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়েছে। এখন সব সঙ্কট কাটিয়ে নতুনরূপে কার্যক্রম শুরু করেছে ব্যাংকটি। ফারমার্স ব্যাংকের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে দৈনিক সংগ্রামের সাথে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহসান খসরুর কথা হয় সম্প্রতি। তিনি দেশের বিনিয়োগ, ব্যাংক খাত, খেলাপি ঋণ পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসান খসরু বলেন, ব্যাংকিং খাতে সঙ্কট আমাদের শুরু থেকেই ছিল। বাংলাদেশে ব্যাংকিং শুরুর সময় যে খেলাপি ছিল, তা রিকভার করা যায়নি। এর ফলে লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবেই কার্যক্রম শুরু করতে হয়েছে আমাদের। পরবর্তী সময়ে আমাদের আর্থিক কাঠামো যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, বিনিয়োগের পরিমাণও বেড়েছে। অর্থাৎ ব্যাংকের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু আইনি সামঞ্জস্য বা কারিগরি প্রযুক্তি ও জবাবদিহি সঠিকভাবে বাড়েনি। ব্যাংক কীভাবে চলবে, কারা পর্ষদ সভায় আসবেন, তা কখনো নীতিমালার আওতায় আসেনি। তিনি বলেন, সত্তরের দশকের পর যখন বেসরকারি খাতে ব্যাংক সৃষ্টি হয়, তখনো কোনো নীতিমালা করা হয়নি। ফলে ব্যাংকের নেতৃত্বে যারা এসেছেন, তাদের অনেকের অভিজ্ঞতা ছিল না। এ জন্য রুগ্ন ব্যাংকের সৃষ্টি হয়েছে। এর সুবিধা নিয়েছেন কিছু মন্দ ব্যাংকার। ব্যাংকারদের কথায় পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে অনিয়ম হয়েছে, অপব্যাংকিং হয়েছে। তবে অনিয়ম যেটুকু হয়েছে, দেশে ব্যাংকের মোট বিনিয়োগের তুলনায় তা খুবই কম। আমাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০ শতাংশের মতো। এর মধ্যে ফেরত আসবে না এর পরিমাণ ১/২ শতাংশের বেশি নয়। এটা ব্যাংকিং খাতের জন্য বড় কোনো সংকট নয়। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম অত্যন্ত শক্তিশালী। ড্যাশ বোর্ডের মাধ্যমে এখন সব ব্যাংককে পর্যবেক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এর সুফল খুব দ্রুত পাওয়া যাবে। এখন চাইলেই কোনো অনিয়ম করা সম্ভব হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল কাজ মনিটারি পলিসি নিয়ন্ত্রণ করা। এ কারণে সার্বিক জবাবদিহির জন্য ব্যাংকিং কমিশন দ্রুত করা প্রয়োজন। বিশ্বের অনেক দেশেই এটা আছে। এ ছাড়া কিছু আইনগত সংস্কার দরকার। অনেক ঋণখেলাপি আদালতে গিয়ে রিট করেন। প্রত্যেকের আদালতে যাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু বর্তমান পদ্ধতিতে এটা একতরফা হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকারদেরও কিছুটা দুর্বলতা আছে।
ফারমার্স ব্যাংকের এমডি বলেন, আমাদের ব্যাংকে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কিছুটা অভিজ্ঞতার অভাবে। এখন নতুন পর্ষদ গঠন হয়েছে। আমাদের পর্ষদে প্রাতিষ্ঠানিক ও কৌশলগত পরিবর্তনের আদলে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যার সুফল ইতোমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে এবং স্থিতিশীল অবস্থায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা ফিরেছে। ব্যাংকটিকে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে এক হাজার কোটি টাকার দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি উত্তোলন করা হবে। এগুলো অতিসত্তর বিক্রির অফার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, একটি ব্যাংকের মূল চালিকাশক্তি ওই ব্যাংকের গ্রাহক। আমরা গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। ব্যাংকের অর্থ সংকট কাটাতে ফান্ড টিম এবং আমানতকারী ও গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে রিকভারি টিম নামে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। তারা প্রতিদিনই টাকা আনছে। আমরা আমাদের খেলাপি গ্রাহকদের তিনটি ভাগে ভাগ করেছি। এর একটি হচ্ছে, যারা ইচ্ছা করে দূরত্ব বজায় রাখছেন, দ্বিতীয়টি যারা ফান্ড ডাইভার্ট করেছেন টাকা ফেরত দেবেন না বলে এবং যারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তাদের মনোভাবের ওপর বিবেচনা করে আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমি নিজে বিভিন্ন শাখায় গিয়ে আমানতকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করছে যে ব্যাংকে রাখা টাকা তারা ফেরত পাবেন কি না। কিন্তু এখন পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। সবার মধ্যে আস্থা ফিরেছে।
এহসান খসরু বলেন, ব্যাংকের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী শেয়ারহোল্ডারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পরিচালনার দায়িত্ব। আর্থিক খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্নদের বর্তমানে ব্যাংকের চেয়ারম্যান, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান, ইসি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এদের সবাই ক্রেডিট, ব্যাংকিং ক্যাপিটাল স্ট্রাটেজি, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, অ্যাকাউন্টিং খাতে অভিজ্ঞ। তিনি বলেন, আমাদের ব্যাংকের পরিচালনা ব্যক্তিমুখিতা থেকে ঘুরিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকমুখী করতে হবে। আর তা শুধু প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদরিত্ব বাড়ানো মাধ্যমেই সম্ভব। সরকারি ও বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের মূলধনের পাশাপাশি সুশাসন জোরদার করা হচ্ছে। এই মডেলে ফারমার্স ব্যাংক ঘুরে দাঁড়ালে বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতে গুড গভর্ন্যান্সের এক নতুন উদাহরণ সৃষ্টি হবে।
সম্প্রতি ব্যাংকটির  বোর্ড সভায় রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের চারজন এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) একজন পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। তাদের সঙ্গে আরও দুজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে সরকারি চার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডিরা ফারমার্স ব্যাংকের শেয়ার কেনার জন্য ইচ্ছাপত্র (ইওআই) পর্ষদে জমা দিয়েছেন। এটি অনুমোদনের পর প্রতিষ্ঠানগুলো মূলধন জোগান দিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে মনোনীত হন তারা।
ব্যাংকটির পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের পাশাপাশি সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংকটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ব্যাংকটি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক ১৬৫ কোটি টাকা করে মোট ৬৬০ কোটি টাকা এবং আইসিবি ৫৫ কোটি টাকাসহ সর্বমোট ৭১৫ কোটি টাকার মূলধনের জোগান দিচ্ছে। ফারমার্স ব্যাংকে অনুমোদিত মূলধন রয়েছে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪০১ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। ফলে ব্যাংকটিতে মূলধনের প্রায় ৬৪ শতাংশ থাকবে সরকারি পাঁচ প্রতিষ্ঠানের দখলে। এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের এমডিরা পদাধিকার বলে ফারমার্স ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে থাকছেন। ব্যাংকটিতে সরকারের শেয়ার থাকবে ৬৪ শতাংশ। আর বেসরকারি উদ্যোক্তাদের শেয়ার থাকবে ৩৬ শতাংশ। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৮ মে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংককে ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১’ এর ১৪ক এবং ২৬ক ধারার বিধান পরিপালন থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এরই মধ্য দিয়ে ফারমার্স ব্যাংকের পর্ষদে রাষ্ট্রায়ত্ত ওই ৫ প্রতিষ্ঠানের একজন করে প্রতিনিধি থাকার বিষয়টিও পাকাপোক্ত হয়।
এহসান খসরু বলেন, ‘পিপিপি’র আওতায় আসার কারণে ফারমার্স ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। সরকারি ব্যাংকের এমডিরা ব্যাংকটির পর্ষদে থাকার কারণে এখন ব্যাংকটি ভালো চলবে।তিনি বলেন এটি হবে বেসরকারী খাতের আধা সরকারি ব্যাংক,যা হবে নতুন একটি মডেল। ফলে কোন ব্যাংক আর ব্যর্থ হবে না। ফারমার্স ব্যাংক ঘুরে দাঁড়ালে পুরো ব্যাংক খাতের সংকট কেটে যাবে। তিনি জানান,দুই লাখ গ্রাহকের ভাগ্য নির্ভর করছে এখনকার পরিচালনা পরিষদের ওপর। তাদের আস্থারও মর্যাদা দিতে হবে। সকল সংকটে থেকেও তার উত্তরন ঘটাতেই একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই এ ব্যাংকে পা রাখেন। পুনর্গঠনের কাজে হাত দেন।এ থেকে যে অভিজ্ঞতা,তা তার অতীত অভিজ্ঞতাকে শানিত করবে বলে মনে করেন। ব্যাংকটির সফলতার সুফল যেমন সবাই ভোগ করবে,ব্যর্থতার দায়ভারও তার ওপরই বর্তাবে বলে মনে করেই প্রতিনিয়ত চিন্তা থাকে কি ভাবে আরও ভালো করা যায়,গ্রাহকের হৃদয়ের কাছাকাছি থাকা যায়। তিনি বলেন,দায়িত্ব নিয়েই দায়িত্বটা পালন করতে চাই। কারও সাথে সমঝোতা-আপস করে দায়িত্ব পালন নয়। ব্যাংকটিকে খাদের কিনারে নিয়ে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মতো পক্ষপাতি নন তিনি। তাই তিনি ভালো কিছু উপহার দিয়েই এ ব্যাংকে আসার পেছনের চ্যালেঞ্জকে জানান দিতে চান। যা এ দেশের অর্থনৈতিক খাত মনে রাখবে যুগের পর যুগ। ব্যাংকিং খাতও স্মরণ করবে তার কৃতিত্বকে। আর ফারমার্স ব্যাংকের গ্রাহকদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবেন তিনি,তার এই চেষ্টা নিরন্তর এমনটাই জানান দিলেন।
গত বছরের ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক এই ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ওই দিন ব্যাংকটি তৎকালীন চেয়ারম্যান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীকে পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করা হয়। ওই দিনই ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ব্যাংকের এমডি এ কে এম শামীমকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময়ই ফারমার্স ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদন পাওয়ার পর থেকেই ব্যাংকটি ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রায় দেউলিয়া হয়ে যায়। আর্থিক সংকটের কারণে গ্রাহকরা তাদের আমানতও তুলতে পারছেন না মাসের পর মাস। শুধু তা-ই নয়, সরকারের জমা রাখা বিভিন্ন তহবিলের টাকাও ফেরত দিতে এক সময় অপারগতা প্রকাশ করে ব্যাংকটি।

রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০১৩ সালের ৩ জুন চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে ফারমার্স ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকেই অনিয়ম-দুর্নীতি ও আগ্রাসী ব্যাংকিংয়ে জড়িয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। পরিচালকদের ঋণ ভাগাভাগিতে চলে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। ফলে বাড়তে থাকে খেলাপি ঋণ। তারল্য সংকটের পাশাপাশি মূলধন ঘাটতিতেও ব্যাংকটি দুরাবস্থায় পড়ে। আগ্রাসী ঋণ বিতরণের ফলে দেখা দিয়েছে তহবিল সংকট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ