ঢাকা, সোমবার 11 June 2018, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৫ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রহমত মাগফিরাত ও নাজাতের মাহে রমযান

মিয়া হোসেন: পবিত্র রমযানকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুসলমানের জন্য ঢাল স্বরূপ দিয়েছেন। এ রমযানে মুসলমানদেরকে আল্লাহ রোজার মাধ্যমে গুনাহ ও পাপাচার থেকে রক্ষা করে থাকেন। রোজা পালন অবস্থায় গীবত করা যাবে না, মিথ্যা কথা বলা ও চোগলখুরী করা যাবে না, পরনিন্দা করা যাবে না। এসব কাজসহ সকল প্রকার অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকলেই রোজা ঢাল হিসেবে ব্যবহার হবে। যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর আক্রমণ থেকে  রক্ষার জন্য লোহার তৈরি ঢাল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ঠিক তেমনি মোমিন বান্দা শয়তানের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহ পবিত্র রোজাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছেন। এখন যদি কেউ এ ঢালের রক্ষণাবেক্ষণ না করতে পারে তাহলে আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে কীভাবে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আসসাওমুযুন্নাতুন” রোজা ঢাল স্বরূপ যদি না সে নিজেই তা ছিদ্র করে দেয়। সাহাবাগণ (রাঃ) আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) কোন জিনিস দ্বারা রোজা ছিদ্র হয়ে যায়? উত্তরে তিনি বললেন, মিথ্যা কথা ও গীবত দ্বারা।” এতে বোঝা যাচ্ছে যে, রোজা অবস্থায় গীবত, শেকায়েত, পরনিন্দা, চোগলখুরী ও মিথ্যা বলার বদ অভ্যাস পরিত্যাগ করা বিশেষভাবে অপরিহার্য, অন্যথায় রোজা কার্যকরী হবে না। প্রকাশ্যে রোজা রাখা হয়েছে বলা হলেও আল্লাহর কাছে এ রোজা গ্রহণযোগ্য হবে না।
পবিত্র রমযানে শয়তানের প্ররোচনা কম থাকে। ফলে এ মাসে বেশি বেশি ইবাদাত বন্দেগী করার সুযোগ থাকে। আর এ মাসে ইবাদাত বন্দেগীতেও বেশি পরিমাণ সাওয়াবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
হজরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলে করীম (সা.) বলেছেন- রমযান মাসের প্রথম রাত্রি উপস্থিত হলেই শয়তান ও দুষ্টতম জ্বিনগুলোকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয় এবং জাহান্নামের দুয়ারগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। অতঃপর এর একটি দরজাও খোলা হয় না এবং বেহেশতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় অতঃপর এর একটি দরজা ও বন্ধ করা হয় না। আর একজন ঘোষণাকারী ডেকে ডেকে বলতে থাকে “হে! কল্যাণের প্রত্যাশী, অগ্রসর হও এবং হে! খারাপের পোষণকারী! বিরত হও, পশ্চাদপসরণ কর। আর আল্লাহর জন্য দোযখ থেকে মুক্তি পাওয়া বহুলোক রয়েছে। এইভাবে (রমযানের) প্রত্যেক রাতেই করা হয়। (তিরমিযী)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ