ঢাকা, সোমবার 11 June 2018, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৫ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঝামেলা এড়াতে পরিবারের সদস্যদের আগেই পাঠিয়ে দিচ্ছেন চাকরিজীবীরা

স্টাফ রিপোর্টার : আর কয়েকদিন পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ আনন্দে মেতে উঠতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। গতকাল রোববার ট্রেনে ঈদ যাত্রা শরু করেছে মানুষ। প্রথম দিনে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। আগে গেলে স্বাচ্ছন্দে যাওয়া যায় বলে মনে করেন যাত্রীরা।
রোববার দুপুরে স্টেশনের প্রতিটি প্লাটফর্মে হাজার হাজার যাত্রী। নিজেদের ট্রেন আসা মাত্রই কার আগে কে ট্রেনে ওঠবেন সেই প্রতিযোগিতার দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মত।
গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ আরিফ রহমান। তিনি বলছিলেন, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে একটু আগে থেকে পাঠিয়ে দিচ্ছি। কেননা পরে গেলে ঝামেলা পোহাতে হয়। এ কারণে ১ জুন অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছি। আর আমি ঈদের একদিন আগে ঢাকা ছাড়বো। শাহজাহানপুর থেকে আসা সম্রাট বলেন, দুর্ভোগ এড়াতেই পরিবারকে আগে পাঠিয়ে দিচ্ছি। এ থেকে  ঝামেলা মুক্ত হলাম। তার মতো অনেকেই এসেছিলেন পরিবারের সদস্যদের ট্রেনে তুলে দিতে। দিন যত ঘনিয়ে আসবে, ভিড় আরো বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন,  রোববার সকাল থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলো তে স্বাভাবিক ভিড় ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ভিড় বাড়তে থাকে। ১২ জুন থেকে ভিড় আরো বাড়বে। এছাড়া সকালে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র সুন্দরবন এক্সপ্রেস ৩০ মিনিট দেরি করেছে। দেরি করেই স্টেশনে এসেছিল ট্রেনটি। বাকি ট্রেনগুলো সবঠিক সময়ে ছেড়েছে। সারাদিনে কমলাপুর স্টেশন থেকে ৬৩টি ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা। এরমধ্যে ২৮টি আন্ত ঃনগর; বাকিগুলো মেইল, এক্সপ্রেস ও লোকাল ট্রেন। গতকাল সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত  ৪০টি ট্রেন কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে।
ঈদ যাত্রার শুরুতেই বিকল হয়ে যায় লালমনি এক্সপ্রেস। বিপুল প্রত্যাশা জাগিয়ে ইরানি কোচ দিয়ে চলা শুররু করেছিল লালমনি এক্সপ্রেস। তবে চারদিনের মাথায় এ এক্সপ্রেসের কোচ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এখন পুরাতন কোচ দিয়েই যাত্রীদের ঢাকায় আনা হচ্ছে। ফলে এসি এসির যাত্রীদের বিপদে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ ইরানি কোচে এসি কামরা থাকবে বলে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়েছে।
কমলাপুর রেলস্টেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন লালমনি এক্সপ্রেসে এসি চেয়ারের কোচ রয়েছে বলে টিকিট বিক্রি করা হয়।  এখন কোচ বিকল হওয়ায় পুরাতন লালমনি আবার ঢাকা আসছে। ফলে রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া লালমনি এক্সপ্রেসের এসি যাত্রীরা তাদের আসন খুজে পাবে না।  কোচটি এই সংকট কাটাতে চেয়ারের যাত্রীদেরকে প্রথম শ্রেণীর আসন দেওয়া হবে বলে স্টেশন সূত্রে জানা যায়। কিন্তু যাত্রীরা বেশি টাকা দিয়ে এসিচেয়ারের টিকিট কেটেছেন তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে কি না এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এদিকে ঈদ যাত্রার শুরুর দিন প্রথম ট্রেন ছেড়েছে পৌনে এক ঘন্টা দেরিতে। গত ১ জুন যারা ঈদের অগ্রিম টিকেট কিনেছিলেন তাদের ঈদযাত্রা গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। এরমধ্যে কয়েকটি ছাড়া বাকিগুলো সময়মত ছেড়ে গেছে। স্টেশনে উপচেপড়া ভিড় এখনও শুর” হয়নি। ঈদযাত্রার ভিড় ১২ তারিখ থেকে সেটা শুরু হবে জানিয়েছেন স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ